‘মোদীর হীরের টুকরো ছেলেরা’– সুজাতা ভৌমিক মণ্ডল

205636-nirav-modi-lalit-modi-vijফের কোপ মধ্যবিত্তর সঞ্চয়ে।  পিপিএফের পর এবার ইপিএফের সুদ কমল। সে সব ভেবে লাভ নেই, কারণ আমারাই চেয়েছিলাম তাই এই আচ্ছেদিন।প্রথমে নোটবন্দী তারপর আমার আপনার খেটেখাওয়া মানুষের অর্জিত অর্থ, কালো বলে দেগে দিয়ে জোর করে ব্যাঙ্কে জমা করানো। লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে পেনসনভোগী মানুষগুলোর আরও অসুস্থ হয়ে যাওয়া। আম্বানির জামাতাকে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর করা।যাই বলুন সাহস লাগে এ সকল পদক্ষেপের জন্য। ইন্দিরা গান্ধী এমার্জেন্সির সময় যা পারেননি ৫৬” ছাতি ওয়ালা প্রধানমন্ত্রী দেখিয়ে দিয়েছেন পদ থাকলে যা খুশি করার অধিকার এমনি চলে আসে।আর রাষ্ট্রের যূপকাষ্ঠে আমরা জবাফুলের মালা পরে রেডি।

সম্প্রতিকালে নরেন্দ্রমোদীর আশীর্বাদ পুষ্ট নীরব মোদী ও মেহুলভাই বিপুল পরিমাণ ব্যাঙ্কের অর্থ  তছরুপ করে দেশ ছেড়েছে।পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১১ হাজার ৬৮০ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের তদন্তে নেমে বৃহস্পতিবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট মূল অভিযুক্ত ধনকুবের নীরব মোদির মোট ৯টি দামি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করল। যে গাড়িগুলি সিজ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে একটি রোলস রয়েস ঘোস্ট, একটি পর্শে প্যানামেরা, দুটি মার্সিডিজ বেঞ্জ জিএল ৩৫০ সিডিআই, তিনটি হন্ডা গাড়ি, একটি টয়োটা ফরচুনার ও একটি টয়োটা ইনোভা।

এর পাশাপাশি, শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড মিলিয়ে নীরব মোদির প্রায় ৭ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা ও মেহুল চোখসির সংস্থার ৮৬ কোটি ৭২ লক্ষ টাকাও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি ‘ফ্রিজ’ করেছে। এর আগে, বুধবার নীরবের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৪৫ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা ‘অ্যাটাচ’ করেছে আয়কর বিভাগ। সবমিলিয়ে আজ পর্যন্ত নীরবের মোট ১৪১টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অ্যাটাচ করেছেন আয়কর বিভাগ। এদিকে নীরব মোদির আইনজীবী দাবি করেছেন, পিএনবি ব্যাংকের সঙ্গে তাঁর মক্কেলের যাবতীয় ব্যবসায়িক লেনদেনকে অবৈধ লেনদেন বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। নীরব মোদি, তাঁর স্ত্রী-ভাই, মেহুল চোখসি-সহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পিএনবি ১১,৬৮০ কোটি ও ২৮০ কোটি টাকার জালিয়াতির অভিযোগ দায়ের করেছে। সম্প্রতি ব্যাংক কর্তারা ১.৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই কেলেঙ্কারির খোঁজ পেয়ে বিষয়টি  কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে  জানান। ১৩ ফেব্রুয়ারি দায়ের হয় দ্বিতীয় অভিযোগটি।

ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ দুর্নীতি মামলা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদি গা ঢাকা দিয়েছেন। তিনি বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন। কে তাঁকে পালানোর সুযোগ করে দিল, এই প্রশ্নে কি এসে যায়।  পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক ও রাফাল চুক্তি নিয়ে নীরব  নরেন্দ্র মোদি।  নীরব মোদির ১১ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা লুট করে পালিয়ে যাওয়া, ৫৮ হাজার কোটি টাকার রাফালে দুর্নীতির বিষয়ে  জানতে চায় দেশবাসী। কিন্তু এ বিষয়ে উত্তর দিতে মোদীজির ভারী বয়েই গেছে। ক্ষমতায় আসার আগে স্লোগান ছিল হর হর মোদী  ঘর ঘর মোদী। তাইতো আজ দেশজুড়ে নরেন্দ্র বা ললিত, সুশীল বা নীরব, সবাই মোদী।
তাহলে আমরা হিসাব কষি। অনুসন্ধান করি। সিদ্ধান্তে আসি। নোটবন্দীর জনগণের জমা টাকা কি নীরব মোদীদের পকেট ভরার জন্য???

হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদীর আর্থিক কেলেঙ্কারি মামলায় জড়িয়ে পড়া নিয়ে এখন হইচই শুরু হয়েছে।
সেদিন পাড়ার চায়ের দোকানের গোলটেবিল বৈঠকে ধীরেণদা বলছিল মোট ১১ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে নীরব মোদীর নামে। টাকা নয়ছয় করে কেউ কিছু জানার আগেই বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন তিনি। তবে তিনি প্রথম এবং একা নন। এর আগে একাধিক মহারথী আর্থিক নয়ছয় করে দেশ ছেড়েছেন।
মহারথীদের পরিচয়:

বিজয় মাল্য-
লিকার ব্যারন বিজয় মালিয়ার বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অনেকগুলি মামলা ভারতে ঝুলছে। ৯ হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। ভারতের মোট ১৭টি ব্যাঙ্ক একযোগে বিজয় মালিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। এই মুহূর্তে ভারত থেকে পালিয়ে মালিয়া ইংল্যান্ডে রয়েছেন। গতবছরে একবার গ্রেফতার হলেও কয়েক মিনিটের মধ্যে জামিন পেয়ে গিয়েছেন তিনি।

ললিত মোদী-
আইপিএলের স্রষ্টা ললিত মোদীর বিরুদ্ধে এই টুর্নামেন্টেই কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। ২০১০ সালে অভিযোগ ওঠার পর থেকেই ললিত মোদী ইংল্যান্ডে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের নোটিশ জারি করা আছে। ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট ভাঙায় মামলা হয়েছে।

দীপক তলওয়ার-
কর্পোরেট কনসালট্যান্ট দীপক তলওয়ারের বিরুদ্ধে আয়কর পাঁচটি অভিযোগ দায়ের করেছে। এই পেশার সুবাদে কয়েকশো কোটি টাকা দীপক আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ। ইউপিএ সরকার থাকার সময়ে অবৈধভাবে নানা সুবিধা কয়েকটি বিমান সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনা কেউ বোঝার আগেই দেশ ছাড়েন দীপক। তিনি রয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে।

সঞ্জয় ভান্ডারি-
কর ফাঁকি দেওয়ার মামলায় অস্ত্র সরবরাহকারী সঞ্জয় ভান্ডারির নাম জড়ানোয় তাঁর বাড়িতে হানা দেয় আয়কর কর্তারা। সেখানে প্রতিরক্ষা খাতে কেনাকাটা সংক্রান্ত গোপন নথি উদ্ধার হয়। দিল্লি আদালত সঞ্জয় ভান্ডারীকে ‘অফিশিয়াল সিক্রেট অ্যাক্ট’ অনুযায়ী দাগী বলে চিহ্নিত করেছে। সঞ্জয় নেপালে পালিয়ে গিয়েছেন বলে খবর।

নীরব মোদী-
পিএনবি থেকে জাল লেটার অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং হাতিয়ে নিয়ে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে সুইজারল্যান্ডে পালিয়ে রয়েছেন হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদী। তাঁর নামে মোট ১১ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। সিবিআই ও ইডি ঘটনায় তদন্তে নেমেছে।

হিরে  ব্যবসায়ী নীরব মোদি ও তার আত্মীয় ও ব্যাঙ্কের যোগসাজসে সাড়ে ১১ হাজার ৬৮০ কোটি টাকার পিএনবি কেলেঙ্কারি সামনে এসেছে। এর আগে বিজয় মালিয়া নিয়ে কিছুটা হইচই হলেও অনেক বড় বড় ব্যাঙ্ক ঋণ চোরদের নিয়ে তেমন একটা সোরগোল হয় না। কেন  হয় না তার জন্য বিজ্ঞানী হওয়ার দরকার নেই। আমরা সবাই জানি আসল আঁতাত কোথায়।  নীরব মোদির ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক জালিয়াতি হলেও আরেক হিরে ব্যবসায়ী যতীন মেহেতা বেশ কয়েকটি সরকারি ব্যাঙ্কের ৭০০০ কোটি টাকার ঋণ হজম করে ফেলেছে। তা নিয়ে এখনও তদন্ত করে চলেছে সিবিআই। হিরে ব্যবসায়ী উইনসম গোষ্ঠী।  রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে প্রায় ৭০০০ কোটি টাকা ঋণ  নিলেও শোধ দেওয়ার নাম নেই।  কিংফিশারের মতই উইনসম গোষ্ঠীও একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ককেই বেছে নিয়েছিল লুটের জন্য। ২০১৬ সালের এক তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে ১৫টি রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাঙ্কের  কনসোসির্য়াম থেকে উইনসম গোষ্ঠী ঋণ নিয়েছে ৭০০০ কোটি টাকা তার পর থেকে আর টাকা শোধ দেওয়ার নাম নেই। তদন্ত চলছে, ওই পর্যন্তই!

ধীরেণদার কথায় আবার পাঁচুদা বললো ” সবাই সব জানি বুঝি কাকা। এই যে বিজেপির সর্বভারতীয় দলীয় অফিস, ১.৭০লাখ বর্গফুটের প্রাসাদ।  যেন সেভেন স্টার হোটেল, সবতো এই চুরির টাকায়।এমনি কি আর পগার পার হতে সাহায্য করছে”?
রকের কথা বাদ দিলে হিসেবে দাঁড়ায় নীরব মোদী তছরুপ করেছে ১১৬৮০+ ৩৩০০০ তছরুপ করেছে ললিত মোদী+৭০০০ বাকিরা মিলে=৫১৬৮০/১৩০কোটি জনতা শোধ করলে প্রত্যেকের ভাগে মাত্র ৩৯৭  টাকা করে পড়ছে। এ আর এমনকি দেশের জন্য কতজন প্রাণ দেয় আর আমরা চোরদের টাকা শোধ দিতে পারবোনা!  নীরব মোদী বলেছেন টাকাও শোধ দেবনা আর দেশে ফেরার তো কথাই নেই।
তাই পাঁচুদার ভাষায় বলি জিও কাকা এই না হলে ৫৬” ছাতির যোগ্য সাগরেদ।

সুজাতা ভৌমিক মণ্ডল

সুজাতা ভৌমিক মণ্ডল

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *