মোদীর কালাকানুনের একবছর পূর্তি- নাভিশ্বাস ভারতবাসীর।লিখেছেন, দেবাশীষ পাইন।

download৮/১১/২০১৬,ঠিক একবছর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কালো টাকা উদ্ধার ও কালো টাকা রুখতে ডিমনিটাইজেশন চালু করেছিলেন।প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্তটিকে বলিষ্ঠ মনে হলেও যত দিন গেছে ততই গরীব ও সাধারন মানুষের নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছে।তার ওপর সুগ্রীব দোসর হয়ে জুটেছে ‘জিএসটি’।সাধারন মানুষ এখন ভাবছে-‘আচ্ছে দিনের স্বপ্ন দেখতে গিয়ে নিজেরাই নিজেদের কপাল পুড়িয়েছে’।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে পদ্ধতিতে ডিমনিটাইজেশনের মাধ্যমে কালো টাকা রুখতে ও উদ্ধার করতে চেয়েছেন সেটা এককথায় একদমই সমর্থনযোগ্য নয়।ভারতের মতো বিরাট মাপের ও বিশাল জনসংখ্যার দেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিচক্ষণ হতে হবে।নরেন্দ্র মোদীর নিশ্চয় জানা উচিৎ ছিল যে,কালো টাকা দেশের আম-জনতার কাছে থাকে না,থাকে অসৎ রাজনিতিক,অসৎ ব্যবসায়ী,দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি আমলা,দালালদের হাতে।আর এরা এতো বোকা নয় যে তাদের অঘোষিত টাকা নিজের বাড়িতে রাখবে!!এরা, কালো টাকা বিনিয়োগ করে রাখে বিভিন্ন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তিতে।হাওয়ালার মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে।নরেন্দ্র মোদী এদেরকে শাস্তি দিতে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল করে ভারতের আমজনতাকে অবর্ণনীয় দুর্দশার মধ্যে ফেলে দিয়েছেন।এটা কি আদৌ সমর্থনযোগ্য? কোন বুদ্ধিতে এবং কাদের স্বার্থের কথা ভেবে তিনি এমন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন আজ একবছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর ভারতের আমজনতাকে ভাবতে হবে।

মোদী সরকারের প্রচারের ডক্কানিনাদ বলছে যে এটাই নাকি ভারতে কালো টাকা উদ্ধারে প্রথম ডিমনিটাইজেশন।একদম ভুল ও মিথ্যা প্রচার।এর আগেও নোট বাতিল প্রক্রিয়া হয়েছে কিন্তু তা ছিল হায়ার ডিমনিনেশানের।দশ হাজার টাকার নোটের ওপর। আর সেই কারনেই আমজনতার সমাজে কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি।

অবাক করছে যে বিষয়টা-৫০০ ও ১০০০ টাকার মতো নোট বাতিলের প্রক্রিয়া শুরুর আগে যে হোম ওয়ার্কের দরকার ছিল সেটাই প্রধানমন্ত্রী করেন নি।উনি আলোচনাটা সেরে নিয়েছিলেন মুখ্যনিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে।মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ অনেককেই অন্ধকারে রেখে।যাদের না আছে এ ব্যাপারে পারদর্শিতা না আছে অভিজ্ঞতা।ফলে ঘটনার সুদুরপ্রসারি পরিনামের ব্যাপারটা অনুধাবনই করতে পারেননি।যে পরিমান ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল করে বাজার থেকে তুলে নিয়েছিলেন সমপরিমান টাকা তিনি ব্যাংকে জোগান দিতে পারেননি।আর পারেননি বলেই সাধারন মানুষের ভোগান্তি হয়েছে।সমস্যা আরও জটিলতর করে তুলেছিলেন ১০০ ও ৫০০ টাকার নোট না চাপিয়ে ২০০০ টাকার নোট ছাপানোর বন্দোবস্ত করে।

ব্যাংক ও ডাকঘরের পরিকাঠামোকে উন্নত করে নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহন করলে সাধারন মানুষের সুরাহা হতো যা আদৌ করা হয়নি।যদিও আমি ব্যক্তিগত ভাবে মোদীর এমনধারা নোট বাতিলের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করি না।

কোথায় গেল প্রধানমন্ত্রীর সেই প্রতিশ্রুতি?ক্ষমতায় আসার ১০০ দিনের মধ্যে বিদেশে গচ্ছিত সব কালোটাকা দেশে ফিরিয়ে আনবেন এবং সেই কালোটাকা থেকে প্রতিটি ভারতবাসীর অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা করে জমা দেওয়া হবে।টাকা জমা হয়নি, জমা হয়েছে বিস্তর ভোগান্তি।স্বেচ্ছা আয় ঘোষণা প্রকল্পে কর মিটিয়ে কালোটাকা জমা করায় তেমন সাড়া মেলেনি।মাত্র ৬৫ হাজার কোটি জমা পড়েছিল।নোট বাতিলের চক্করে পড়ে ব্যাপক রাজস্ব ঘাটতি।ব্যবসা-বানিজ্য লাটে উঠেছে।নগদ টাকা জোগানের অভাবে চাষিরা সময়মতো শস্য তুলতে পারেনি।ফলে বাজারে খাদ্যের আগুন দাম,যা প্রতিদিন ভারতবাসী মালুম পাচ্ছে।এই অপূরণীয় ক্ষতির সমাধান কিভাবে? সেটা অজানা!!এই হটকারি সিদ্ধান্তকে কোন অর্থনীতিবিদ কোন নীতি আয়োগের সদস্য সমর্থন করেনি।কারন তারা জানেন যে কালো টাকার আঁতুড়ঘরে কামান না দাগলে কালাধনের স্রোত আটকানো যায় না।পৃথিবীর কোন দেশ ডিমনিটাইজেশন করে সাফল্য পায়নি। তবুও ভারতের প্রধানমন্ত্রী শুধুমাত্র চমক দেখাতে গিয়ে আপামর ভারতবাসীকে দুর্দশার পাঁকে পুঁতে দিল।তিনি যদি আন্তরিক ভাবে কালাধন আটকাতে চাইতেন তাহলে নিশ্চয় সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার পথে ব্রতী হতেন।তিনি কি পারতেন না-সুইস ব্যাঙ্কে কালাধন সঞ্চিতকারিদের তালিকা প্রকাশ করে চাপ সৃষ্টি করতে? কেন তিনি ঋণ খেলাপি পালিয়ে যাওয়া ব্যবসাদারদের কাছ থেকে সময় থাকতে টাকা আদায় করলেন না?এইটুকু করলেই স্বচ্ছ ভারতের সার্থক ছবি ভারতবাসীর সামনে তুলে ধরতে পারতেন। কেন তিনি করেন নি এটা শিশুরাও বোঝে।যে কালাধনের ওপর ভর করে আজ তিনি প্রধানমন্ত্রী তাদের পাকড়াও করতে গেলে কুর্সির পায়ায় হ্যাঁচকা টান পড়বে-তাই।নতুন নোট ছাপাতে গিয়ে ১২০০০ কোটি টাকা খরচা হোল সেটা কি বাজেয়াপ্ত কালাধন দিয়ে পুরন করা যাবে?প্রশ্ন করুন ভারতবাসী।

দেবাশীষ পাইন

দেবাশীষ পাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *