“মুখ্যমন্ত্রীর সিবিআই বিরোধিতা”, অনিন্দ্য রায়চৌধুরী

1549254739_mamata-banerjee-vs-cbiবাম আমলে শেষ এবং তৃণমূল আমলে প্রথমে ঘটে অর্থনৈতিক বিপর্যয় সারদার সহ একাধিক চিটফান্ড সংস্থার কবলে পড়ে সাধারণ মানুষ সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে সারা রাজ্যব্যাপী প্রতারিত মানুষেরা মুখ্যমন্ত্রী হস্তক্ষেপ দাবি করে এবং তার দলের নেতা মন্ত্রীরা চিটফান্ড এর সাথে জড়িত।

এখানে বলা যায় যে মুখ্যমন্ত্রী খুবই তৎপর হয় অপরাধী ধরার জন্য এর মূল উদ্দেশ্য ছিল নিজেকে ও নিজের দলকে আড়াল করা । রাজ্য পুলিশের দৌলতে সারদা চিটফান্ড এর কর্ণধার সুদীপ্ত সেন ও তার সহযোগীকে কিছু প্রমাণপত্র সহ কাশ্মীর থেকে অ্যারেস্ট করা হয়। উত্তাপ কমানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রীর এহেন পদক্ষেপ এ কথা বলতে ভুল হয় না।

ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীরা শুরু করে মিটিং মিছিল বিক্ষোভ ধর না শুধু তাই নয় আত্মহত্যার সংঘাত দিনের পর দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে। পরিস্থিতির লাগাম টানা কে এবং নিজেদের অপরাধ ধামাচাপা দিতে তদন্ত কমিটি গঠন করেন। যার মাথায় ছিলেন বর্তমান পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার শ্যামল সেন কমিশন গঠন করেছে প্রতারিত মানুষদের দ্রুত টাকা ফেরত এবং ব্যবস্থা করে। নিজেদের কুকীর্তি ধামাচাপা দিতে রাজকোষের অর্থ খরচ করতে থাকেন যার একদিকে কমিশনের লোকদের মাইনে দিতে থাকেন অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের টাকা দিতে থাকেন।

মুখ্যমন্ত্রী ও তার দলবলের এত বড় দূর্নীতি নিয়েছে একটু মুখ খোলার চেষ্টা করে তাদের যথাযোগ্য শাস্তি বিধানের ব্যবস্থা করেন। যেমন কেউ গ্রেপ্তার হন এবং সাংসদ কুণাল ঘোষ দলত্যাগ করেন মুকুল রায় প্রমূখ।
বোধহয় এসবের মধ্যে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেকে ও তার ভাইপো কে সবথেকে বেশি আড়াল করতে চেয়েছিলেন।

এত কিছুর মধ্যে দিয়ে প্রকৃত দোষীদের আড়াল করার একটা প্রবণতা সুস্থ হয়ে ওঠে বাংলার কংগ্রেস বসে থাকার পাত্র নয়। তখন বাংলার প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন বহরমপুরের সাংসদ শ্রী অধীর রঞ্জন চৌধুরী অবশ্যই তার সহযোগিতায় কংগ্রেসের আদর্শ নেতা আব্দুল মান্নান চিটফান্ড কাণ্ডের এক সংস্থা সারদার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন। যার প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল সত্য উদঘাটন দোষীদের শাস্তি এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের টাকা ফেরত এর ব্যবস্থা করা।

সুপ্রিম কোর্টে মামলা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ আপত্তি ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসামি নিজে দোষী প্রমাণিত হবেন তাই ? রাজ কোষাগারের কোটি কোটি টাকা খরচ করে সুপ্রিম কোর্টে সিবিআই এর বিরুদ্ধে মামলা লড়তে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী। যে মুখ্যমন্ত্রী বাংলাই ক্ষমতায় আসার আগে

আগে পর্যন্ত সিবিআইকে বিশ্বাস ছিলেন যারা চূড়ান্ত কুমার সিঙ্গুরে তাপসী মালিক হত্যাকাণ্ডের তদন্ত। আর সেই মুখ্যমন্ত্রী সিবিআই তদন্ত ঢাকাতে মামলা মামলা লড়েছেন মানুষ কি এর উত্তর চাইবে না রাজকোষে অর্থ খরচ করেছে।

এতদসত্ত্বেও মামলা শিবের কাছে যাই এখানে ঘটে মামলার এক পটো পরিবর্তন।
যে মামলা দ্রুত গতিতে চলছিল অ্যারেস্ট হচ্ছিল সংসার মন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এবং রাজত্ব ছিল বিভিন্ন সম্পত্তি চিটফান্ড কাণ্ডের হঠাৎ করে সেই মামলার গতি কমিয়ে দেওয়া হয়

এসময় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি মুকুল রায় বিজেপি তে যোগ দেয় যার ফলে সিবিআই তাকে নিয়ে আর বিশেষভাবে নড়াচড়া করেনি। তবে কি সিবিআই নিয়ে মোদি মমতার গোপন ফোন আলাপ আলোচনা হয় গড়ে ওঠে গড়ে ওঠে দিদিভাই মোদির ভাই এর গোপন আঁতাত? বাংলা থেকে দিল্লি মমতা থেকে মোদী আবার নাটকীয় পরিবর্তন দেখা গেল লোকসভা ভোটের আগে সিপিআই সক্রিয় হয়ে উঠেছে যার মধ্য মনি হয়ে উঠেছে রাজীব কুমার। এই পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার কে সিবিআই তদন্তে যাওয়ার জন্য ত্যাগ করে কিন্তু তিনি যাননি তিনি কেন যাননি ? মুখ্যমন্ত্রী কি তাকে বারণ করেছিলেন ?

অগত্যা সিবিআই অফিসার রাজকুমার বাড়িতে আছে কিন্তু বাড়ি ঢোকার অনুমতি পায়নি। রাজ্য পুলিশ ওয়ার্ড করে সিবিআই অফিসার দিয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায় তদন্তকারী অফিসার ও মুখ্যমন্ত্রীর পুলিশের সাথে তর্কাতর্কি হয়। দেখা যায় পুলিস সিবিআই অফিসার দের একেবারে ট্রেনিং মিছিলে পুলিশের গাড়িতে তুলে নেয় এবং থানায় নিয়ে যায়। পুলিশের এই এই আচরণের পিছনে পুলিশ মন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী সক্রিয় ভূমিকা ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এর কিছুক্ষণের ভিতরেই মুখ্যমন্ত্রী মেট্রো চ্যানেলে ধরনায় বসে না যাতে করে কলকাতা পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার কে যাতে ধরা না হয়।

এই রাজীব কুমার এর কাছেই সারদা-তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সব নথি আগে থেকেই জমা পড়ে।
সেই সকল গতিতে কি আছে যে মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ কমিশনার কে আড়াল করার জন্য ধরনায় বসে ছিলেন।
চিটফান্ড কাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু কি তবে তিনিই ? তিনিই কি তবে মূল ষড়যন্ত্রী। সময় উওর দেবে। তবে শাস্তি সবার জন্য সমান। মুখ্যমন্ত্রী যদি সত্যিই অপরাধী হন তবে তিনিও অবশ্য ছাড় পাবেন না। ভারতের বিচারব্যবস্থার সে দায়িত্ববোধ আছে।

অনিন্দ্য রায়চৌধুরী

অনিন্দ্য রায়চৌধুরী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *