মমতার নালিশের পিছনে কি অন্য রাজনীতি

104113478-GettyImages-623640580.530x298সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোদীর বিরুদ্ধে হুঙ্কারকে দেখে অনেকেই ভুরু কুঁচকে ভাবছেন।ভাববারই কথা।বিগত বেশ কিছুদিন যাবত মমতা ব্যানার্জি মোদীর বিরুদ্ধে আক্রমন শানাচ্ছিলেন এই বলে যে মোদী সরকার বাংলার প্রাপ্য কেন্দ্রীয় অনুদান মেটাচ্ছেন না।রাজ্যের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পগুলিতে রাজ্যকে কেন্দ্রের প্রদেয় অর্থের খরছ খাতে হিসাব চেয়ে মোদীজী দিদিভাইকে দারুন রাগিয়ে দিয়েছেন।সেই কারনে দিদি বার বার অভিযোগ তুলে বলছেন,মোদী ভারতের ফেডারেল কাঠামোকে ভেঙ্গে দিয়ে এক স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা চালু করতে চাইছেন।মোদীজী দিদি কেন রাগবেনা বলুন। আমি অন্য সব প্রকল্প বাদ দিয়ে শুধু ১০০ দিনের কাজের কথাই বলছি।মোদীজী,হটাত করে আপনি বলেদিলেন যে এবার থেকে ১০০দিনের কর্মীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাঠাতে হবে এবং সরকার কর্মীদের প্রাপ্য টাকা সরাসরি তাদের একাউন্টে পাঠিয়ে দেবে।কোথায় খোঁচা মেরেছেন মোদীজী আপনি জানেন?১০০দিনের কর্মরত কর্মীদের নিয়ন্ত্রন অন্যের হাতে চলে গেলে দিদির মিছিলে-মিটিঙে লোক আসবে কারা?মোদীজী আপনি দিদির খাসতালুকে ঢুকে নাক গলিয়েছেন।দিদি যে একদমই বরদাস্ত করবেন না এটা আপনার জানা উচিৎ ছিল।এই অবধি ঠিক ছিল কারন কেন্দ্র-রাজ্য ঠোকাঠুকি চলতেই থাকে।আম জনতা অভ্যস্ত।

কিন্তু সাম্প্রতিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘটানো বিস্ফোরণ নিয়ে পর পর দু’দিন সংসদ আন্দোলিত হয়ে উঠল।অনেকের কাছেই মমতার অভিযোগের ভিতটা নড়বড়ে লেগেছে।দু’টি ঘটনা নিয়েই পাল্টা যুক্তি দিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।ফলে জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে যে প্রশ্নটি আলোচিত তা হল  এ বার কি মমতা কিছুটা কাঁচা কাজ করে ফেললেন? নাকি পেছনে বৃহৎ কোনও কৌশল কাজ করছে?

মমতার প্রথম তোপ ছিল, পটনা থেকে ফেরার পথে বিমানে জ্বালানি কম থাকা সত্ত্বেও তাঁর বিমানকে নামার অনুমতি না দিয়ে তাঁকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল।পরের দিন রাজ্য সরকারকে না জানিয়ে ১৯টি জায়গায় সেনা মোতায়েনের অভিযোগও মোটেই হাল্কা ছিল না।মমতার অভিযোগ, সেনাকে দিয়ে রাজ্যের নির্বাচিত সরকারকে কব্জা করার চক্রান্ত হয়েছিল!সেই কারনেই মমতা স্বপারিষদ ৩০ ঘণ্টা নবান্নে কাটান,প্রশাসনের উচ্চ পধাধিকারিরা ও পুলিশ কর্তারাও নবান্নেই ছিলেন।মমতার আনা দু’টি অভিযোগই কেন্দ্র খণ্ডন করেছে।সংসদে তৃণমূল সাংসদদের অভিযোগের উত্তরে বিমানমন্ত্রী বলেছিলেন, বিমানে জ্বালানি কম থাকা নিয়ে বিচলিত হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি।আর প্রতিরক্ষামন্ত্রী সংসদে বলেন, ‘‘রুটিন সেনা মহড়া চলছিল।এ নিয়ে অহেতুক বিতর্ক তৈরির চেষ্টা হচ্ছে।’’

সাম্প্রতিক ঘটনাবলী থেকে ধারনা হতেই পারে যে মমতার অভিযোগ ভিত্তিহীন।হাস্যকরও লাগতে পারে।তাহলে প্রশ্ন হল মমতা এই পথে হাঁটছেন কেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অন্য কথা বলছেন।আপাতদৃষ্টিতে মমতার অভিযোগ সারবত্তাহীন বলে মনে হলেও তার পিছনে সুনির্দিষ্ট রাজনীতি রয়েছে।২০১৯-এর লোকসভার নির্বাচনের আগে মমতার এখন মূল লক্ষ্যই হল সর্বভারতীয় স্তরে মোদী বিরোধী রাজনীতির অন্যতম মুখ হয়ে ওঠা।মমতার বিচারে মোদীর জনপ্রিয়তা ক্রমশ নিম্নগামী তাই আসরে আগাম নেমে মোদীর বিকল্প হতে চাইছেন।

কৌশলে তাঁর মোদী-বিরোধিতাকে মমতা উচ্চগ্রামে রাখতে চাইছেন।যদি ভবিষ্যতে ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির এক ছাতার তলায় আসে তাহলে তার অন্যতম মুখ হয়ে উঠতে পারেন তিনি। এবং জোড়া অভিযোগে জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় তোলার অঙ্কে যে তিনি ষোলো আনা সফল, সেটা সংসদের ছবি থেকেই স্পষ্ট।

মমতা রাজনৈতিক ইতিহাসের ভালো ছাত্রী।উনি ভালো করেই জানেন যে কোন আঞ্ছলিক দলের মাথা হয়ে কেন্দ্রীয় স্তরে  নেতৃত্বের মুখ হয়ে ওঠা অসম্ভব।হলে-অনেকেই হতে পারতেন।লালু,মুলায়েম,মায়াবতি,সারদ পাওয়ার,জয়ললিতা এরকম অনেক নামই আছে কিন্তু হতে পারে নি।তাই মমতা মোদীর পন্থা অবলম্বন করেছে।মোদী যেমন ধারাবাহিকভাবে মনমোহন-সনিয়াকে ঝাঁঝালো আক্রমণ করে কেন্দ্রীয় স্তরে মুখ হয়ে উঠেছিল।মমতাও হুবুহু একই রাজনৈতিক কৌশল নিয়েছে।কোন আলাদা নয়।

অনেকর মনে হতে পারে তাহলে কি কংগ্রেস মমতার কৌশলকে মেনে নিচ্ছে? বিরোধী পরিসর ছেড়ে দিচ্ছে।একদম না।শুধুমাত্র মোদীকে সাইজ করার জন্য সায় দিচ্ছে।

দিদি পরিষ্কার করে বুঝে নিয়েছেন যে কাছে ২০১৯ লোকসভা ভোটের আগে বিজেপি বাংলায় শক্তি বাড়ানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়বে।এবং সারদা-নারদ তদন্তকে নতুন করে গতি দিতে পারে।

মমতা তাই আগেভাগেই চক্রান্তের অভিযোগ তুলতে শুরু করে দিয়েছেন। যাতে নতুন করে সিবিআই-ইডি সক্রিয় হলে প্রতিহিংসার রাজনীতির অভিযোগ তুলতে সুবিধা হয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *