“ভাড় মে জায়ে জনতা”, দেবাশীষ পাইন।

bbf0d70793d48fce60331b250021607bবিগত ১৬দিন যাবত পেট্রোল ডিজেলের দাম বাড়াকে কেন্দ্র করে ভারতজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। ১৬দিন ধরে প্রায় প্রতিদিনই দাম বাড়তে বাড়তে ডিজেলের দাম মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ৭১টাকা ৮৯পয়সা এবং পেট্রল ৮১টাকা ৪৩ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। এই ক্রমবর্ধমান দামবৃদ্ধি দেশের ঋণনিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে এমনটা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছে।

মোদি সরকার ও আমিত শাহের বিজেপিকে কোণঠাসা করতে ভারতের সব রাজনৈতিক দল পেট্রোপন্যের দামবৃদ্ধির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে পথে নেমে পড়েছে।বিশেষ ভুমিকায় দেখা গেছে কংগ্রেসকে।তারা উদ্ভুত রাজনৈতিক পরিবেশের ফায়দা তুলতে ৪ বছরের মোদী সরকারের ব্যার্থতাকে সামনে রেখে ভারতজুড়ে বিস্বাসঘাত দিবস পালন করলো। ইউপিএ সরকার চলাকালিন সময়েও পেট্রোপন্যের দামবৃদ্ধি হয়েছিল কিন্তু এভাবে একটানা দাম কখনই বাড়েনি।স্বাভাবিক ভাবে বিজেপি এই মুহূর্তে বেশ চাপে আছে।বাংলায়, কংগ্রেস, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে আন্দোলন নেমে গিয়েছে। প্রতিবাদে, রাস্তায় তৃনমুল কংগ্রেস। বামেরা। শুধু চুপ মেরে গেছে- রাজ্য বিজেপি।

কলকাতায় পেট্রলের লিটার প্রতি ৮১ টাকা ৪৩ পয়সা এবং ডিজেল ৭১ টাকা ৮৯ পয়সা এটাই আপাতত রাজ্যে সর্বোচ্চ দাম। পেট্রো-পণ্যের এই আগুন লাগা দামে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের। এবং সাধারন মানুষ যথারীতি কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়ী করছে। কারন দেশের সংখাগরিষ্ঠ মানুষের আজও ধারনা, পেট্রল- ডিজেলের দাম কমা বাড়ার বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর নির্ভরশীল। বাস্তবিক কি বিষয়টা তাই? বিষয়টি তেমন কখনই নয়। পেট্রোপন্যের দাম বাড়ার পেছনে যেমন কেন্দ্রের আর্থিক স্বার্থ জড়িয়ে আছে সমানভাবে রাজ্যের আর্থিক স্বার্থও কাজ করছে।আজ পেট্রল-ডিজেলের আকাশছোঁয়া দাম হওয়ার পেছনে রাজ্যগুলির স্বার্থও সমানভাবে যুক্ত।এবং সব রাজনৈতিক দল, যখন যারা রাজ্য শাসনে থাকে তারা জনগনের পকেট কাটার বিষয়টিকে সামনে না এনে একতরফা কেন্দ্রের ঘাড়ে দায় চাপায়। পেট্রল-ডিজেলের দামবৃদ্ধির মুনাফা কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলি সমানভাবেই ভোগ করছে। রাজ্যের কোষাগার ফুলেফেঁপে উঠছে।সুতরাং রাজ্য যদি জনগণকে স্বস্তি প্রদান করতে সদিচ্ছ হয় তাহলে কেন্দ্র রাজ্য একসঙ্গে বসে তাদের সংগৃহিত কর থেকে ছাড় প্রদান করা উচিত তাহলেই সাধারনের অনেক সুরাহা হবে। অর্ধসত্যের বয়ান দিয়ে জনগনের সঙ্গে লুকোচুরিও খেলতে হবে না। এসব ক্ষেত্রে দরকার শুধু সদিচ্ছা, রাজনীতি নয়।

কলকাতায় ডিলারদের কমিশন বাদে পেট্রলের দামের ৪৬% উত্‍পাদন শুল্ক ও ভ্যাট। ডিজেলের ক্ষেত্রে ৩৭%। এবং মূল দামের উপরে পেট্রলে ২৫% ও ডিজেলে ১৭% ভ্যাট বসায় রাজ্য। তাহলে বিষয়টা পরিস্কার দাঁড়ায়, পেট্রল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে একা শুধু কেন্দ্রর নয় রাজ্যেও বিপুল লাভ হয়। এই বিপুল অঙ্কের মুনাফা রাজ্য কখনই হাতছাড়া করতে চায় না তাই কৌশলে গোটা বিষয়টা কেন্দ্রের ঘাড়ে চাপিয়ে দায় এড়ায়। পেট্রোপন্যের দাম বৃদ্ধিতে দিদি এমনি এমনি বিজেপি’র বিরুদ্ধে অতি উৎসাহে টিক্ষর রোদে মিছিল করছে না।

কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র কুমার তেলের কর খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিচ্ছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রের পক্ষে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমের পরামর্শ ছিল,কেন্দ্র যদি লিটার প্রতি ২৫ টাকা পর্যন্ত কর কমায় তাহলেও কেন্দ্রের কোনও ক্ষতি হবে না। আমাদের রাজ্যের মুখমন্ত্রী এখনও রাস্তায় আন্দোলন করছেন তাই মুখ খোলার সময় পান নি। এদিকে পেট্রল ডিজেলের দাম যেভাবে উত্তরোত্তর বাড়ছে, তাতে কোথায় গিয়ে পৌছবে তা মা ভগাই বলতে পারবে। এর জের পড়েছে বাজারে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যের লাগামছাড়া দামে জনসাধারন জেরবার। পবিত্র রামজান মাসে প্রতিদিন রোজা ভাঙার পর টের পাচ্ছেন মাইনোরিটি ভাইরা।

দেশে যখন বেশিরভাগ পন্যের ওপর জিএসটি লাগু হয়েছে তখন পেট্রল, ডিজেল, অপরিশোধিত তেল, বিমানের জ্বালানি ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপরে কেন জিএসটি লাগু হবে না?দেশের অধিকাংশ অর্থনিতিবিদরাও এর স্বপক্ষে মোট দিচ্ছেন। কিন্তু কেন্দ্র বা  রাজ্য দু পক্ষই এই ইস্যুতে স্পইটি নট।পেট্রোলিয়াম পণ্যে জিএসটি লাগু হলে সর্বাধিক ২৮% হারে কর আদায় হতে পারে। বর্তমানে একই পণ্যে নানা ধাপে সরকারের ৪৫% থেকে ৫০% কর আদায় হয়। এর সুবিধা ভোগ করে কেন্দ্র-রাজ্য, সব সরকার।জিএসটি  চালু করলে সমগ্র দেশে তেলের দাম একই হবে।আলাদা রাজ্যে আলাদা তেলের দাম বিলুপ্ত হবে। আজ ভাবতে লজ্জা লাগে, ভারতের তুলনায় পেট্রল ও ডিজেলের ‌দাম, পাকিস্তান,নেপাল, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় কম।

দেবাশীষ পাইন

দেবাশীষ পাইন

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *