ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে পুরোধা পুরুষ বিপিন চন্দ্র পালে’র আজ ১৫৯ তম জন্মদিন।

bipin-chandra-pal_7837বিপিন চন্দ্র পালের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে তার জন্মভিটা পইল গ্রামে এসে একমুঠো মাটি সংগ্রহ করে দিল্লি নিয়ে গিয়েছিলেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জহর লাল নেহেরু।এই উপমহাদেশে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে অন্যতম পুরোধা পুরুষ ছিলেন বিপিন পাল।  তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতাই ছিলেন না, ছিলেন একাধারে সাংবাদিক, সাহিত্যিক, সম্পাদক ও সমাজ সংস্কারক।তার অসামান্য বাগ্মিশক্তি সর্বজনবিদিত ছিল। সে সময় বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অপর দুই পুরোধার সাথে তার নাম উচ্চারিত হত। তাঁরা ‘লাল – বাল – পাল’ নামে খ্যাত ছিলেন। লাল অর্থাৎ পাঞ্জাবের লালা লাজপত রায়, মহারাষ্ট্রের বাল গঙ্গাধর তিলক আর বাংলার বিপিন চন্দ্র পাল।
কংগেসের জন্মলগ্ন ১৮৮৫ থেকে ১৯০০ সন পর্যন্ত সর্বভারতীয় কংগ্রেসের নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯০৫ সনে বঙ্গভঙ্গ প্রতিরোধ আন্দোলনে মতানৈক্যের কারণে ১৯০৫-০৬ সনে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এসময় তিনি নিউ ইন্ডিয়া নামক একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা বের করে ভারতের স্বায়ত্বশাসন দাবির প্রেক্ষিতে প্রচার শুরু করেন। ১৯০৬ সনে তিনি কলকাতা থেকে শ্রীহট্টে এসে সুরমা উপত্যাকার রাষ্ট্রীয় সম্মেলনে প্রথম অধিবেশনে যোগ দেন। এসময় বন্দে ‘মাতরম’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। তিনি পত্রিকায় প্রবন্ধ লিখে বৃটিশ বণিক নীতির সমালোচনা করতেন। পরবর্তীতে বন্দে মাতরম পত্রিকার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করায় বিপিন পাল ছয় মাসের কারাদন্ড ভোগ করেন। ১৯০৮ সনে সুরমা উপত্যাকায় ২য় সম্মেলনে বিপিন পাল বিশেষ বক্তা হিসেবে যোগ দেন। একই বছর তিনি লন্ডন যান এবং স্বরাজ নামে একটি পত্রিকা বের করেন। স্বরাজে প্রকাশিত প্রবন্ধের জন্য তিনি রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগে অভিযুক্ত হন। তিন বছর পর তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং ১৯১২ সনে হিন্দু রিভিউ নামক একটি মাসিক পত্রিকা বের করেন। এছাড়াও তিনি সোনার বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। মহাত্মা গান্ধীর কংগ্রেসে যোগদানের পুর্ব পর্যন্ত দেশের বামপন্থী নেতৃত্ব বিপিন পালের হাতেই ছিল। পরবর্তীতে অসহযোগ আন্দোলনে গান্ধীর সাথে মতানৈক্যের কারণে বিপিন পাল রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান। পন্ডিত মতিলাল নেহেরু বিপিন পালের গুণমুগ্ধ ছিলেন। বিপিন পালের জীবনে অসংখ্য ঘটনার মধ্যে আরও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল- তার এক সঙ্গী সহ বিধবা বিয়ে করে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। এছাড়াও বিপিন পাল রেখে গেছেন বিরাট সাহিত্য-সম্ভার। তাঁর ২৫-৩০টি গ্রন্থ বাংলা ও ইংরেজিতে প্রকাশিত হয়েছে।
১৯৩২ সনের ২০ মে বিপিন চন্দ্র পাল মৃত্যুবরণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *