“ভারতে গেরুয়া আতঙ্ক,” লিখেছেন- সুজাতা ভৌমিক মণ্ডল

1438401173398গণতান্ত্রিক দেশে আজ গণতন্ত্র শব্দটি প্রহসনে পরিণত হয়েছে। ধর্ম নিরপেক্ষ দেশে আজ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে শুধুই হিন্দু মৌলবাদ।উন্নয়নের স্বপ্ন দেখিয়ে ফেরিওয়ালা মসনদে বসেই প্রমাণ করে দিলো ঝারার তলায় ইঁদুরটা কিন্তু লুকানোই ছিল।পুর্বপুরুষ সাভারকারের আওড়ানো বুলি।তার দেখানো পথেই হাঁটছেন নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদী।কট্টর রাজনৈতিক হিন্দুত্বের পথে।
আমিষ নিরামিষ দাঙ্গা হাঙ্গামা রাম-রহিম মন্দির-মসজিদ সব পেরিয়ে গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষ দেশ শব্দটিকে চূড়ান্ত ভেঙচি কাটলো নরেন্দ্র মোদী তথা সঙ্ঘ পরিবার।যোগী আদিত্যনাথকে মুখ্যমন্ত্রী তখতে বসিয়ে।আদতে কি এটা পুর্বপরিকল্পিত।রাম মন্দির গঠনের প্রয়াসকে সার্থক করার চেষ্টা।
ভারতের শাসক দল বিজেপি দেশটির সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এক বিতর্কিত হিন্দু ধর্মীয় নেতাকে বেছে নিয়েছে। মুসলিম-বিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত যোগী আদিত্যনাথ (৪৪) ব্যাপক বিতর্কিত সব মন্তব্যের জন্য পরিচিত। তিনি বলেছেন, যেসব সংখ্যালঘু যোগা পছন্দ করে না, তারা দেশ ছেড়ে চলে যেতে পারে। বলিউডের মুসলিম তারকা শাহরুখ খানকে এক সময় তিনি পাকিস্তানের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নেতা হাফিজ সাঈদের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।বিবিসি’র খবরে বলা হয়, উত্তর প্রদেশে প্রায় ২০ কোটি মানুষের বাস।আর এখানকার এক-পঞ্চমাংশ হলো মুসলমান।
কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি গত সপ্তাহে এ রাজ্যের নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে বিজয় অর্জন করেছে। ১৯৮০ সালের পর এ রাজ্যে এমন বড় বিজয় আর দেখা যায়নি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে এ রাজ্যে দলীয় প্রচারণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।
বিরোধী দলের এমপি’রা আদিত্যনাথকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বানানোর সিদ্ধান্তকে সমালোচনা করেছেন। তবে বিজেপি মন্ত্রীরা এ সিদ্ধান্তের পক্ষে অনড়। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ভেনকাইয়া নাইডু বলেন, বিজেপির ইতিহাসে এটি এক সন্ধিক্ষণ। তার ভাষায়, ‘উন্নয়ন, সুশাসনের পক্ষে আর জাতপাতের রাজনীতির বিরুদ্ধে জনগণ রায় দিয়েছে।’জ্যেষ্ঠ কংগ্রেস নেতা মনিষ তিওয়ারি তবে বলেছেন যে, আদিত্যনাথকে মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করায় দেশ আরো বড় বিভাজন ডেকে আনবে।
আদিত্যনাথ এ নিয়ে ৫ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পূর্বাঞ্চলীয় উত্তরপ্রদেশের একটি মন্দিরের প্রধান পুরোহিত।তিনি গো-সুরক্ষার পক্ষে আর গরুর মাংস ভক্ষণ নিষিদ্ধ করা আইনের অন্যতম প্রধান সমর্থক। সম্প্রতি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশেরও প্রশংসা করেছেন আদিত্যনাথ। এ-ও বলেছেন যে, ভারতেরও এরকম কিছু করা দরকার।
এখন পালে হাওয়া।হয়তো মানুষ আরও কিছুদিন অপেক্ষা করে দেখতে চাইছেন অন্তিম অধ্যায়।তবে দেরী বেশী না হয়ে যায়।ভারতে সর্বধর্ম সমন্বয় এর ধর্ম।এইভাবে হিন্দুমৌলবাদীরা বাড়তে থাকলে দেশটা পাকিস্তান না হয়ে যায়।যোগী আদিত্যনাথ গণতন্ত্রের হত্যাকারী হিসাবে পরিচিতি পেলে ধর্মন্ধতার জিগিরে আমরা সবাই মরবো হিন্দু অহিন্দু সকলেই। জাগুক বিবেকর বাণী এ সময়।

AIbEiAIAAABDCNS546auuqOfXSILdmNhcmRfcGhvdG8qKGJlNjIxZDFjMDhlNzI0NTA3ZjUzYjczZmEwY2Q4ODc4YTk5OThkODIwAZysZUvWdCMmHMbpImch9e2zYBc3

সুজাতা ভৌমিক মণ্ডল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *