ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি ও বর্ণময় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব প্রনব মুখোপাধ্যায়ের আজ জন্মদিন।

pranab-mukherjee-one-and-only-bengali-president-650x381ভারতের ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় ১১ ডিসেম্বর ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় মিরিটি গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।তিনিই প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি রুপে ২০১২ সালে ২৫ জুলাই কার্যভার গ্রহণ করেন।তিনি এনডিএ প্রার্থী লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার পিএন সাংমাকে ৭১ শতাংশের বেশি ভোটে হারিয়ে  ভারতের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হন। প্রণব বাবু পেয়েছিলেন ৫ লাখ ১৮ হাজার ৬৮৯টি ভোট, অন্যদিকে সাংমা পান ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫৮টি ভোট। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের এই প্রবীণ নেতার রাজনৈতিক কর্মজীবন ছয় দশকব্যাপী। বিভিন্ন সময়ে ভারত সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। ২০১২ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে প্রণব মুখোপাধ্যায় ছিলেন ভারতের অর্থমন্ত্রী ও কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় ক্রাইসিস ম্যানেজার নেতা।

১৯৬৯ সালে তদনীন্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী প্রণব মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক যোগ্যতা ও প্রতিভার বিষয়টি অনুধাবন করে তাকে রাজ্যসভার টিকিটে নির্বাচিত করেন। এরপর থেকে প্রনব বাবুর রাজনৈতিক কর্মজীবনে তাঁর দ্রুত উত্থান শুরু হয়,আর ফিরে তাকাতে হয়নি।তিনি ইন্দিরা গান্ধীর অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহকর্মী ছিলেন এবং এই কারনে ১৯৭৩ সালে ইন্দিরা গান্ধীর ক্যাবিনেট মন্ত্রিসভায় স্থান পান।প্রণব মুখোপাধ্যায় বিভিন্ন সময়ে প্রতিরক্ষা, অর্থ, বিদেশ, রাজস্ব, জাহাজ-চলাচল, পরিবহন, যোগাযোগ এবং শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রকের মতো একাধিক মন্ত্রকের দায়িত্ব সাফল্যের সঙ্গে পালন করেছেন।পঞ্চদশ লোকসভা নির্বাচনের পূর্বে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের বাইপাস সার্জারির সময় তদনীন্তন বিদেশমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায় রাজনীতি বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটির চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করে ক্যাবিনেট পরিচালনায় বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করেন। ১৯৮২-৮৪ পর্বে তিনি ছিলেন ভারতের অর্থমন্ত্রী। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৫ পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভার দলনেতাও ছিলেন।

প্রণব মুখোপাধ্যায় ভারত-মার্কিন অসামরিক পরমানু চুক্তি  সাক্ষরের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। দলের প্রতি আনুগত্য ও অসামান্য প্রজ্ঞা এই বাঙালি রাজনীতিবিদকে কংগ্রেস দলে ও এমনকি দলের বাইরেও বিশেষ শ্রদ্ধার পাত্র করেছে। দেশের প্রতি অবদানের জন্য তাঁকে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মবিভূষণ ও শ্রেষ্ঠ সাংসদ পুরস্কারে  ভূষিত করা হয়েছে। ১৯৮৪ সালে, যুক্তরাজ্যের ইউরোমানি  পত্রিকার একটি সমীক্ষায় তিনি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ পাঁচ অর্থমন্ত্রীর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হন।এছাড়াও প্রণব মুখোপাধ্যায় একাধিক সম্মান ও পুরস্কার পেয়েছেন।  ২০১০ সালে বিশ্ব ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের  দৈনিক সংবাদপত্র এমার্জিং মার্কেটস  তাঁকে ‘”ফাইনান্স মিনিস্টার অফ দ্য ইয়ার ফর এশিয়া” পুরস্কারে সন্মানিত করে। ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে, দ্য ব্যাঙ্কার পত্রিকা তাঁকে “ফাইনান্স মিনিস্টার অফ দ্য ইয়াস” পুরষ্কার প্রদান করে। সম্মান দিয়েছিল।২০১১ সালে উলভারহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয় উলভারহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয তাঁকে সাম্মানিক ডক্টর অফ লেটারস ডিগ্রি দেয়। ২০১৩ সালের ৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সাম্মানিক ডক্টরেট অফ ল ডিগ্রি দেয়। ২০১৩ সালের ৫ মার্চ তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক পুরস্কার “বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা” পান।

১৯৫৭ সালের ১৩ জুলাই প্রণব মুখোপাধ্যায় পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন শুভ্রা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তাঁদের দুই পুত্র ও এক কন্যা বর্তমান। তাঁর অবসরকালীন শখ বই পড়া, বাগান করা ও গান শোনা। আমরা একবিংশ’র পক্ষ থেকে এই বিরল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন কামনা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *