“বিষয় যখন ভাঙড়”—দেবাশীষ রাজপুত

singur-759bengal-2

আজকের এই লেখার পটভূমিকা নিজেদের কিছু বন্ধু বান্ধব এবং দাদাদের জন্য, একটু জটিল কিন্তু মোটেই সরলরৈখিক নয়। এই মুহূর্তে রাজ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা ভাঙড়, মাছিডাঙ্গা, খামারআইট, শ্যামনগর, টোনা ও পদ্মপুকুর গ্রাম। জমি আন্দোলন ঘটে চলা অভিঘাতে তুঙ্গে। একই সঙ্গে নানা স্তরে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে এক বহিরাগত-নকশালরা পুলিশ ও সাধারণ মানুষের উপর আক্রমণ চালিয়ে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ করে তুলেছিল৷ এর ওপর নানান ডাইমেনশন পাওয়া যাচ্ছে। বিজেপি কংগ্রেস সিপিএম দলগুলি। মিডিয়া+সোশ্যাল মিডিয়া। এবং ক্রমশ বেশি করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, বিপুল সংখ্যক মানুষ, যারা আপাতদৃষ্টিতে অরাজনৈতিক। যদিও আমি মনে করিনা অরাজনৈতিক মানুষ হতে পারে, কিন্তু সে অন্য তর্ক। এই লেখার মূল উদ্দেশ্য হলো একটা যথাসম্ভব নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে এই ঘটনাক্রম এবং তার কারণ খতিয়ে দেখা। এটা যতখানি অন্যদের জন্য ততখানিই আমার নিজের জন্য প্রয়োজন। আমরা স্বভাবসিদ্ধ চপলতায় অজস্র জিনিস পড়ি, শুনি, দেখি ও ভুলে যাই। এবং মনে ভুল ধারণা লালন করি। এই ধারণাগুলি চিরকালই বিপজ্জনক ছিলো, তবে সোশ্যাল মিডিয়ার বাড়বাড়ন্ত হওয়ায় আজ তা মাত্রাহীন ত্রাসে পৌঁছেছে। ভাঙড়ের ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়েছে বিজেপি কংগ্রেস ও সিপিএম। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী ও সিপিএমের সুজন সেলিমরা। মমতা দি কেন এখনও ভাঙড়ে এলেন না সেই প্রশ্ন তুলেছেন অধীর। অন্যদিকে সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের পুলিস দিয়ে মানুষ পেটনো সিপিএমের নেতারা এখন বলছেন ভাঙড় নাকি পথ দেখাচ্ছে। অন্যদিকে উস্কানি দিয়ে ভেসে থাকতে চাইছে সিপিএম। যেনে রাখুন পুলিশ কোনও গুলি চালায়নি৷ বহিরাগত কিছু দুষ্কৃতী ইন্ধন দিয়ে ভাঙড়ের আন্দোলনকে বড় আকার দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। বাইরের দুষ্কৃতীরা পুলিশের পোশাকে গুলি চালিয়েছে। কারন রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার হয়েছে পুলিশের পোশাক। বহিরাগতরাই ভাঙড়ের গ্রামে ঢুকে গুলি চালিয়েছে৷ বাইরের দুষ্কৃতীদের গুলিতেই ওই দুই গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়েছে৷ মমতাময়ী মা নিজে বলেছেন জোর করে জমি অধিগ্রহণ নয়, প্রয়োজনে পাওয়ার গ্রিড সরানো হবে। আর আপনারা সেই জনগন যাঁরা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে অত্যাচারী বামফ্রন্ট সরকার কে উতখাত করে দ্বিতীয় বারের জন্য মা মাটি মানুষের সরকার কে প্রতিষ্ঠা করেছেন, সেই জনগনের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত মমতাময়ী সেই মা মাটি মানুষের জন্যেই। মা মাটি মানুষের সরকারের প্রতি আস্থা রাখুন। তৃণমূলের প্রতিটি সদস্য ভাঙুরে জনসাধারণের পাশে আছে।

0 (1)

দেবাশীষ রাজপুত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *