বাংলায় কেন জোট রাজনীতির প্রয়োজন ? অনিন্দ্য রায়চৌধুরী

imagesবাংলায় কেন জোট রাজনীতির প্রয়োজন ?ভারত তথা বাংলার রাজনীতিতে এটা কোন প্রথম জোট রাজনীতি নয়, তাই বাংলায় কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট বিশেষত সিপিএমের সঙ্গে জোট হওয়ার সম্ভাবনা চলছে।

মাননীয় সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি থাকাকালীন তৃনমূলের দল ভাঙানো,বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের সন্ত্রাস ও কংগ্রেস কর্মীদের ওপর লাগাতার অত্যাচারের প্রতিবাদ স্বরুপ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার নীতি গ্রহণ করা হয়। সেই সময় কালে সংগত জুটি হিসাবে বামফ্রন্টকে বেছে নেয়া হয়, জোট হয় এবং বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন হয়। কিন্তু বামেদের বিভিন্ন মতানৈক্যের কারণে বামফ্রন্ট জোট ভেঙে দেয়।

কিন্তু সময়ের দাবি বলে একটা কথা আছে আবারো বাম জোট গঠনের কথা চলতে থাকে এক্ষেত্রে অধীর রঞ্জন চৌধুরী সক্রিয় হয়ে ওঠে। ভ

দ্বিতীয় পর্যায়ে জোট গঠন নিয়ে কথাবার্তা শুরু হয় এক বছর আগে। তখনও বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচন হয়নি। চতুর্দিকে তৃণমূলের  প্রচন্ড সন্ত্রাসে তখন মিছিল, সভা সমিতি করা একপ্রকার প্রায় বন্ধই হয়ে যায়। শাসকদলের চোখ রাঙানি, চুরি করা সরকারি প্রকল্প থেকে সাধারন মানুষকে বঞ্চিত করা, প্রকল্পের কার্ড দিতে ঢিলেমি করা ইত্যাদি একপ্রকার নজিরবিহীন ঘটনা জর্জরিত বাংলা।

তখন সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে আসার চেষ্টা করে, ফলস্বরূপ জোট গঠনের ইচ্ছা প্রকাশ পেতেই থাকে।

ইতি মধ্যেই চলে আসে পঞ্চায়েত নির্বাচন। ভোট শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শাসক দলের অত্যাধিক অত্যাচার সামনে আসে। মনোনয়ন পত্র দেওয়াকে কেন্দ্র করে চলতে থাকে বোমা চার্জ, গুলি, মারধর, বিবস্ত্র করা বাদ যায়নি কিছুই। আর এই সব পরিস্থিতিতে পুলিশ সব সময় শাসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।

মতদান কেন্দ্রে সাধারন মানুষ ভোট দিতে গিয়ে দেখে তাদের ভোট পড়ে গেছে। লাখ লাখ মানুষ তাদের মতামত দেওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে। পঞ্চায়েত ভোটের দিন রাজ্য সরকার যে কতটা নির্মম ও কতটা অত্যাচারী হতে পারে তা চাক্ষুষ করেছিল বাংলা। পথে ঘাটে মুড়ি-মুড়কির মতো বোমা নিক্ষেপ, শাসক দলের পক্ষে সশস্ত্র বাহিনী দাপাদাপি।  এইসব সমগ্র পরিস্থিতি নবান্নে বসে দেখেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। নীরব ভূমিকা পালন করেছেন।,

প্রতিরোধকারী জনগণ আস্তে আস্তে নেমে পড়ে রাস্তায়, মিছিল- মিটিং- আইন অমান্য আন্দোলন ইত্যাদি করতে থাকে। এই পর্যায়ে কালে কংগ্রেস অধীর চৌধুরীর নেতৃত্বে সক্রিয়ভাবে বিরোধী দলের ভুমিকা পালন করে। আন্দোলনে উন্মাদনা চোখে পড়ে তাছাড়া মিডিয়াতেও ব্যাপক সাড়া মেলে।

বিশেষভাবে মুর্শিদাবাদে ব্যাপক সাড়া পেতে থাকে। অন্য দল থেকে বিশেষ করে তৃনমূল থেকে  সাধারণ মানুষ দলে দলে কংগ্রেসে যোগদান করতে শুরু করে। অন্যান্য জেলাতেও এই ঢেউ আছড়ে পড়ে। শুরু হয় দ্রুত রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। কংগ্রেসে মানুষের এত ঢল নামে যে এই স্থানে সিপিএমের সঙ্গে জোট গঠনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে মালদা এবং রায়গঞ্জ দক্ষিণ দিনাজপুর বোর্ড গঠনের প্রয়োজনীয়তা হারায়।

২০০৮ সালে শাসক বিরোধী জোটের  দিকে একটু তাকানো যাক। ২০০৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচন হয় এক্ষেত্রে দেখা যায় নিম্নস্তরের জোট গঠনের ক্ষেত্রে কোন বিধিনিষেধ থাকে না।
সেই সময় শাসক তথা ব্রাহ্মণ বিরোধী জোট হয়। ধরা যাক একটি ব্লকের কথা, তৃণমূল যে পঞ্চায়েতে শক্তিশালী ছিল সেখানে কোনো জোট হয়নি কিন্তু যে পঞ্চায়েতে কোন বিরোধী শক্তি শক্তিশালী ছিল না সেই পঞ্চায়েতে গুলিতে জোট গঠন করে। তবে জোট শুধু গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নির্বাচন, পঞ্চায়েত সমিতি নির্বাচনের ক্ষেত্রেই হয়। উপরমহলের সমিতি না থাকায় জেলা পরিষদে কোনো জোট গঠন হয়নি। এখানে মানুষ পরিবর্তন ও আশায় এবং জোট না থাকায় তৃণমূলকে ভোট দেয় ফলে জেলা পরিষদ তৃণমূলের খুব সফলতা দেখা যায়।

মতানৈক্য তো থাকবেই তা সত্ত্বেও বাংলার আপামর জনগণের সাথে বাম কংগ্রেস জোট, তবে সেটা যদি সর্বত্র সম্ভব না হয় তাতে ক্ষতি কোথায়? শুধু রায়গঞ্জ মুর্শিদাবাদ বাদ দিয়েও তো আরো অনেকগুলি সিট আছে সেগুলোর মধ্যেও তো জোট গঠন করা যেতে পারে। যাতে দ্রুত বাংলার গণতান্ত্রিক ফিরিয়ে আনা যায়

মুর্শিদাবাদ বা রাইগঞ্জর মাটি – কংগ্রেস র ঘাটী । মুর্শিদাবাদ আবদুশ সাত্তার সাহেবের মাটি। পরবর্তিকালে অধীর বাবুর মাটি পড়ে থাকা রাজনীতি কংগ্রেসকে  আরো শক্তিশালী করেছে। আবু হেনা আব্দুস সাত্তার সাহেবের ছেলে। CPIM জিতলেও পরবর্তী সময়ে ওদের সংগঠন দুর্বল হয়েছে। বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করেই প্রাথী ঠিক করা উচিৎ।

রাইগঞ্জ প্রিয় দার রাজনৈতিক জীবনের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে । দীপা দাশমুন্সিকে প্রাথী করলে জয় সুনিশ্চিত হবে, এই বাপারে সন্দেহের অবকাশ নেই।

অনিন্দ্য রায় চৌধুরী

অনিন্দ্য রায় চৌধুরী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *