“প্রত্যাঘাতের প্রতারনা”- অনিন্দ্য রায়চৌধুরী

vlcsnap-2018-10-29-18h06m26s675ভারতবর্ষের অন্তর আত্ম হল অসাম্প্রদায়িক , প্রগতিশীল ও শান্তিপ্রিয়। তবে এটাও ঠিক ভারতবর্ষের মতো এতো বড় দেশে সেখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ থাকে যার ভৌগলিক অবস্থান উত্তরে পাহাড় আর দক্ষিণে সমুদ্র উত্তরের ভাষার সাথে দক্ষিণের ভাষা মেলে না। আবার পূর্বের ভাষার সাথে পশ্চিমের ভাষার কোন মিল নেই। ভারতবর্ষের সংস্কৃতি, ভারতের ইতিহাসে অনেক রক্তাক্ত যুদ্ধের কথা থাকলেও আসলে ভারতবর্ষের মাটি সহনশীল। যুদ্ধ শুধু একপক্ষকে ধংস করে না, অন্য পক্ষকেও ধংস করে।

বায়ু সেনার প্রত্যাঘাত প্রয়োজন ছিল, আবেগ বা যুক্তি কখনো খুব পাশাপাশি থাকে আবার কখনো বিপরীত অবস্থান ধারণ করে।

একথা বহুল প্রচারিত ভোর তিনটে তিরিশ নাগাদ বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান মিরাজ ২০০০ যখন এলওসি অতিক্রম করে, POK (পাক অধিকৃত কাশ্মীরে) বোমাবর্ষণ করে, তখন নিজেকে একজন ভারতবাসী হিসেবে সত্যিই গর্বিত অনুভব করছিলাম। তবে প্রত্যাঘাত ভারতের নিরাপত্তার জন্য, নির্বাচনে আসন বারাবার জন্য নয়।

বিভিন্ন মিডিয়া বিভিন্ন রকম খবর পরিবেশন করে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে। একটা টিভি চ্যানেল দেখা সে ৩৫০ জন জঙ্গি মৃত আবার কোন টিভি চ্যানেলে দেখায় ২৫০ জন জঙ্গি নিহত। আবার কেউ বলছে 100 থেকে 200 জন জঙ্গি নিহত। বিবিসি, তারা খবরের উল্টো দিক নির্দেশ করছে, তাদের খবর অনুযায়ী একজন আহত ছাড়া কোন নিহতের খবর নেই। এই গোলানো পরিবেশে কাকে বিশ্বাস করবো আর কাকে বিশ্বাস করবো না সেটাই বোঝা খুব কঠিন। যদি ধরে নেয়া যায় একজনও নিহত হয়নি তাতেও IAF এর গরিমা কোন অংশে কমবে না। কিন্তু এটাও ভাবা দরকার যে এই প্রত্যাঘাত এ কোন নিরীহ প্রাণ না চলে যায়। পাকিস্তান যে জঙ্গিদের তৈরি করে এ কথা আর নতুন করে প্রমাণ করার কিছু নেই। যারা প্রেস কনফারেন্স করে বলছে যে ৩৫০ জন জঙ্গি মারা গেছে তারা সংখ্যাটা কী শুধুমাত্র আবেগ তাড়িত হয়ে বলছে ?

কে হিসাব দিল সংখ্যাটা ৩৫০? প্রত্যেক নিউজ চ্যানেল বা খবরের কাগজ সংখ্যাটা পেল কি করে ? এই তথ্যসূত্র খোলসা করে বলতে পারছ না। তখনই সন্দেহের তীর আরও সূচালো হয়। আইএএফ প্রত্যাখাত কে সমস্ত দেশি বা বিদেশি নিউজ চ্যানেল স্বীকার করেছে গরমিল। শুধু সংঘাতের রাজনৈতিক স্টান্ট দেওয়া খুবই সোজা হয়তো কিন্তু সত্য স্বীকার করা অনেক কঠিন। সেনাবাহিনী ৩০০ জনের মৃত্যু সংক্রান্ত কোনো খবর পরিবেশন করেনি কিন্তু মিডিয়া এটাও বলে দিচ্ছে কতজন জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল।

একথা স্বীকার করতে বাধা নেই যে পাকিস্তান জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা স্বাভাবিক গতিতে ভাবলে বোঝা যায়। যখন ৪২ জন সিআরপিএফ জবানকে নির্মমভাবে হত্যা করে তখন স্বাভাবিক নিয়মে পাকিস্তানের মত জঙ্গি মদদদাতারা এটাও ভেবে রাখে যে ভারতবর্ষ যে কোন সময় প্রত্যাখ্যান করবে। তা সত্ত্বেও জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়ে না সরিয়ে POK এর বালাকোট এ রেখে দেবে শুধুমাত্র ভারতবর্ষ প্রত্যাখ্যান করবে বলে!! বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। আবেগ তাড়িত হয়ে আমরা অনেক মিথ্যে মিথ্যের মত করে ভাবতে পারি তাতে হয়তো সাময়িক আরাম হয় কিন্তু বাস্তবের রুক্ষ মাটিতে যখন যুক্তি আবেগকে আঁচড় দেয় তখন আমরা সম্বিত ফিরে পাই।

চোখের সামনে অনেক প্রমাণ দিয়েছে যা কোনদিন স্বীকার করতে পারি না। নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে গিয়ে নেতা বা মন্ত্রীরা ভারতবর্ষের সমস্ত মানুষের আবেগকে নিয়ে খেলা করছে। এর থেকে নিষ্কৃতির উপায় খুঁজতে হবে।

অনিন্দ্য রায় চৌধুরী

অনিন্দ্য রায় চৌধুরী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *