পাঠানকোট থেকে উরি, জঙ্গি হানার সাদৃশ্য অনেক!!( দেবাশীষ পাইন)

0121পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গিরা এবছরটা শুরু করেছিল পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে ছদ্মবেশে অতর্কিতে জঙ্গি হামলা চালিয়ে।ঘন কুয়াশার সুযোগ নিয়ে ৬জন জঙ্গি ভারতীয় সেনাবাহিনীর পোশাক পরে হামলা চালায়।জঙ্গি ও সেনার মধ্যে দীর্ঘ গুলির লড়াইয়ে সাত জন ভারতীয় সেনা শহীদ হন। হামলার পর  পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ এই হামলার দায় স্বীকার করে৷ভারত সরকার জঙ্গি হামলার পর বিশেষ কিছু তথ্য-প্রমান  পাকিস্তানের হাতে তুলে দেয় এবং সেই প্রেরিত তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ পাক তদন্তকারী দল ভারতে আসে তদন্ত করতে৷মাঝের কয়েকটা মাষ জঙ্গিরা এদেশে বড় ধরনের নাশকতার কাণ্ড না ঘটালেও টুকটাক হামলা চালিয়ে গেছে।সাম্প্রতিক কাশ্মিরে অস্থির পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ফের ভারতীয় সেনা ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে জঙ্গি হামলা৷জঙ্গিদের নিশানায় এবার উরি সেক্টরের সেনাঘাঁটি৷অত্যন্ত পরিকল্পিত ভাবে রবিবার ভোররাতে জম্মু-কাশ্মীর সেনার হেড কোয়ার্টারে হামলা চালায় জঙ্গিরা৷দীর্ঘ গুলির লড়াইয়ে শহীদ হয়েছেন ১৭  জন জওয়ান৷আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন৷ গুলির লড়াইয়ে খতম হয়েছে ৪ জঙ্গি৷গোটা রাজ্যে হাই অ্যালার্ট জারি করে আরও জঙ্গির সন্ধানে চলছে চিরুনি তল্লাশি৷

হামলার ধরনটা যদি লক্ষ্য করা যায় তাহলে দেখব, পাঠানকোটে হামলা আর উরিতে হামলা একই ধরনের।কারণ জঙ্গিরা দুটি হামলার ক্ষেত্রে ভোরে সেনাদের ডিউটি বদলের সময়টাকেই বেছে নিয়েছে৷ভোররাতে উরির সেনা ঘাঁটিতে ঢুকে পড়ে চার জঙ্গি৷ ঘুমন্ত সেনাদের লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা চালায়।হতচকিত সেনারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রাণ হারায়৷ হামলার পিছনে আইএসআই মদতের প্রমান স্পষ্ট। সেনাবাহিনীও অনুমান করছে জঙ্গি হামলার পেছনে আইএসআইয়ের মদত রয়েছে এবং এই মদতকে হাতিয়ার করে লস্কর-ই-তৈবার জঙ্গিরাই উরি সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে৷

uri-terrorism-lead-630x420

পাঠানকোট বিমানঘাঁটি হামলায় জঙ্গিরা প্রথমে সেনাবাহিনীর গাড়ি অপহরণ করে তারপর সেনা ঘাঁটিতে ঢুকে পড়ে৷সেনা পোষাকে থাকায় তাদের প্রথমে বোঝা সম্ভব হয়নি৷কেন বোঝা সম্ভব হয়নি এই বিষয়টিতে আলোকপাত করলে ভারতীয় সেনা বাহিনীর নিরাপত্তার দুর্বল দিকটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।জঙ্গিরা সেনাবাহিনীর গাড়ি অপহরণ করে যেভাবে পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে ঢুকে পড়ে আক্রমন চালিয়েছিল, ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর এর থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিৎ ছিল!বিষয়টাকে কিছুতেই হালকা ভাবে দেখা যায়  না৷কিন্তু আফসোস পাঠানকোঠ ঘটনার পরও ভারতীয় সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা বিভাগ আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা লাগু করতে ব্যর্থ হয়েছে আর সেটার স্বপক্ষে উরির জঙ্গি হামলার ঘটনাই সবচেয়ে বড় প্রমাণ৷ধরে নেব দীর্ঘদিন ধরে কাশ্মীরে চলা অশান্তির খবর নিশ্চয় জঙ্গিদের কাছে থাকবে।এবং সঙ্গে আঁটসাঁট নিরাপত্তা ব্যবস্থাও থাকবে,সেক্ষেত্রে জঙ্গিরা সেনাঘাঁটিতে ঢুকে আক্রমন করার ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের সাহায্য কাজে লাগাবে এটাই স্বাভাবিক।এই আন্দাজটা সাধারন মানুষের সঙ্গে মিশে থাকা গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা করতে পারলনা এটা ভেবেই অবাক হচ্ছি!!কারণ সীমান্তরেখা অতিক্রম করে এদেশে ঢোকার ক্ষেত্রে জঙ্গিরা সব সময় স্থানীয় কিছু মানুষদের সাহায্য নিয়ে থাকে এখবর সকলের জানা। জোরদিয়ে একথা বলছি কারন ধরা পরা জঙ্গিরা জেরার সময় বার বার স্বীকার করেছে।স্থানীয়  মানুষদের মধ্যে কিছু অংশ, জঙ্গিদের প্রতি সহানুভূতিশীল  তাই এই মানুষগুলোর সাহায্য ছাড়া সীমান্ত অতিক্রম করা বা নাশকতার কাজ সংগঠিত করা এককথায় অসম্ভব৷ আরও একটা বিষয় পাঠানকোট হামলার সঙ্গে উরির হামলার মিল আছে সেটা হল দুই হামলাই ফিদাঁয়ে জঙ্গি হামলা৷গুনতিতে ৪-৫ জনের বেশি জঙ্গি কোন হামলাতেই থাকছে না অথছ এই সীমিত সংখ্যক জঙ্গিরা মিলেই কখনও বিমানঘাঁটি কখনও সেনাঘাঁটিতে অতর্কিত আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে জান-মালের ব্যাপক ক্ষতি করে চলে যাচ্ছে!!

soldiers-main

এখন আমাদের দেখার অপেক্ষা, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর উপর জঙ্গিদের বার বার হামলার পর ভারত সরকার ও সেনার তরফে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।বর্তমান ভারতবর্ষের শাসক সরকার ক্ষমতায় আসার আগে এই ধরনের জঙ্গি হামলার বা সেনাবাহিনীর ওপর হামলায় তদানীন্তন শাসক দলকে কাঠগড়ায় তুলে তুলোধোনা করত। এমনও বলত- আমরা যদি কোনদিন স্বাসন ক্ষমতায় আসি তাহলে জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেম কাকে বলে তা পাকিস্তানকে সবক শিখিয়ে প্রমান দেব। দেশ ব্যাপি জনমতের ছবিটাও প্রায় একইরকম- আর বরদাস্ত না করে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হোক, অবিলম্বে জঙ্গি নিকেশে অল-আউট ঝাঁপিয়ে পড়৷দেখা যাক সরকার কি নির্দেশ দেয়।পাকিস্তানকে  আক্রমন করা হোক এমন অভিমত অনেক প্রাক্তন সেনাপ্রধানও ব্যক্ত করছেন। কেউ কেউ একধাপ বেশি এগিয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন যে অবিলম্বে ভারতেরও উচিৎ ফিদাঁয়ে গোষ্ঠী তৈরি করে আঘাত হানুক। দু’দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে ইতিমধ্যে অনেক ড্যায়লগবাজী হয়েছে, এবার দরকার ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানের অভ্যন্তরে  জঙ্গি ডেরায় ঢুকে হামলার সঠিক জবাব দেওয়ার৷এতদিন অনেক বলিউডি সিনেমা দেখিয়েছে এবং আমরা দেখেছি যে ভারত পাকিস্তানকে মুতোড় জবাব দিচ্ছে-পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ঢুকে জঙ্গি গোষ্ঠীর সর্দারদের মেরে আসছে, কিন্তু সেতো সিনেমায়!এবার আপামর ভারতবাসী দেখতে চায় ভারত আসলি মুতোড় জবাব দিচ্ছে।আমেরিকা পারে,ইজরায়েল পারে তাহলে আমরা পারব না কেন??সংবাদে ভারতীয় সামরিক শক্তিকে পৃথিবীর প্রথম চারটি শক্তিধর দেশের মধ্যে গন্য করা হয় তাহলে পাকিস্তানকে আঘাত হানতে আমাদের দুর্বলতা কোথায়!! সরকার এবং সেনাবাহিনী কি সিদ্ধান্ত চলেছে নিশ্চয় জানা যাবে তবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর কোন পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আমাদের সুরক্ষা ব্যবস্থার ফাক ফোঁকর গুলোকে মেরামত করা অবিলম্বে দরকার  এবং বিশেষ করে সেনাদের ডিউটির সময় বদলের বিষয়টাকে নিয়ে নতুন করে ভাবা দরকার। এই দুটি ব্যবস্থাকে নিশ্চিত করতে পারলে জঙ্গিদের বিষদাঁত অনেকটাই ভেঙ্গে দেওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *