নগদ শূন্য এটিএম-চলছে নোটমন্দা, দেবাশীষ পাইন

dc-Cover-000r45m5aejdtmemoij6oca4n5-20161117011059.Mediব্যাঙ্কের মধ্যে ঢুকেই হাউমাউ করে মহিলা কণ্ঠের কান্নার শব্দ শুনতে পেলাম। অনেক গ্রাহক মহিলাকে ঘিরে রয়েছে।ব্যাঙ্কের এক পদস্থ অফিসার মহিলাকে প্রানপন বোঝানোর চেষ্টা করছে, তারা কত অসহায়।

সেই বছর দেড়েক আগেকার দৃশ্য। মহিলার ছেলে নার্সিং হোমে ভর্তি রয়েছে। আজ ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলে নার্সিং হোমের পাওনা চুকিয়ে ছেলেকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। ব্যাঙ্ক বলছে তাদের টাকা নেই। কিন্তু মহিলার অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা রয়েছে।কি নাকাল অবস্থা ! কেন্দ্রে কি জনগনের সরকার চলছে ? আবার ভারতে নগদের জন্য হাহাকার।

গত কয়েকদিন ধরে ভারতের বৃহত্তর অংশ জুড়ে শুরু হয়েছে নোটমন্দা।ঘরপোড়া গরু যেমন সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায়,নোটমন্দার পরিস্থিতি দেখে আমজনতা তেমনই স্মরণ করছে।অর্থমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রকের আমলারা দেশবাসীকে ধৈর্য ধরতে বলছেন।পরিস্থিতি সামলে উঠে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবেন এমন আশ্বাস দিচ্ছে বটে,কিন্তু বাস্তব অবস্থা ভয়াবহ।নোটের আকালে সরাসরি আক্রান্ত আম জনতা ৷ পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, কর্ণাটক, রাজস্থান, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগঢ় সহ সব রাজ্যে এটিএম কার্যত ‘‌নো-ক্যাশ’‌ হয়ে রয়েছে ৷ এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী বিদেশ সফরে৷ রয়্যাল প্যালেস হলে উপস্থিত কতিপয় মানুষকে শোয়াশো কোটি জনসংখার দেশ ভারতের কথা শোনাচ্ছেন। এদিকে দেশের মানুষ টাকার জন্য মাথা কুটে মরছে। সাবাস- মোদীজী। রোম জ্বলছে- নিরো বেহালা বাজাচ্ছে।

নোটবন্ধির পর তবুও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছিল কিন্তু চলছিল। তাহলে এমন অবস্থা হোল কেন? অভিযোগ উঠছে, আগামী বছর দেশে লোকসভা নির্বাচন৷ তাই নির্বাচনে টাকা ছড়ানোর জন্য এখন থেকে ২০০০ টাকার নোট তুলে জমিয়ে রাখতে শুরু করেছে কয়েকটি রাজনৈতিক দল৷ কর্ণাটকে সামনেই ভোট৷ লক্ষণীয়, বাজার থেকে উধাও হয়েছে সবচেয়ে বড় অঙ্কের ২০০০ টাকার নোট ৷ বিপুল অঙ্কের টাকা মজুত করতে সকলে বড় অঙ্কের নোটেই ভরসা রাখে।নির্বাচনে, কমিশন সকল ক্যান্ডিডেটকে টাকা খরচের নির্ধারিত সিমারেখা টেনে দেয় কিন্তু আমরা সকলে জানি যে সেই সিমারেখার কতটা ওপরে খোলামকুচির মতো টাকা খরছা হয়। এমন নজির হাটেবাজারে পাবেন।

ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে পরের দু’বছরে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলি দেশে ৪৫ হাজারের বেশি এটিএম চালু করে ৷ কিন্তু অবাক করা তথ্য হোল, ২০১৭ সালের মার্চ থেকে দেশে প্রতিমাসে গড়ে পাঁচটি করে এটিএম বন্ধ হয়েছে৷ ভাবুন একবার ! ২০১৬-১৭ সালে, নোটবাতিলের পর মাত্র তিন হাজার এটিএম চালু করা গেছে৷ ব্যাঙ্কগুলি ‘‌নন পারফর্মিং অ্যাসেট’‌, অনাদায়ী ঋণ, তছরুপ ইত্যাদি কারণের জন্য আর নতুন করে তাদের এটিএমের সংখ্যা বাড়াতে চাইছেনা না।আসলে পারছেনা বলেই চাইছেনা।

কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যাল পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত। তিনি বিলক্ষণ জানেন কেন এমন ঘটনা ঘটলো। কিন্তু তিনি মুখ খুলতে রাজি নন। তিন-চার মাস আগে সরকার খরচ বাঁচাতে ২০০০ টাকার নোট ছাপানো বন্ধ করতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে নির্দেশ দেয়। তার পরই নগদ টাকা তোলার হার বেড়ে যায়।  ২০০০ টাকার নোট ছাপা বন্ধ করে ২০০ টাকার নোট ছাপছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। কিন্তু বহু জায়গাতেই এটিএম-এর মাপ সেইমতো বদলানো হয়নি৷ ২০০ টাকার নোট পৌঁছেছে কম৷ স্বাভাবিকভাবেই ২০০০ টাকার অভাব এতে মেটেনি৷

আজ দেশের বৃহত্তর অংশের মানুষ দুশ্চিন্তায়৷ দেশের সাধারণ নাগরিককে আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়ে গোটা দেশে অর্থনৈতিক অরাজকতা তৈরি করে দিয়েছে বিজেপি সরকার। এটিএম-‌এ গিয়ে সকলে খালি হাতে ফিরে আসছেন৷ নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার টাকা নেই৷ অথচ ব্যাঙ্কে সঞ্চিত টাকা আছে ৷ এই অরাজকতা দেখে মনে হচ্ছে, বেঁচে আছি তো !‌ মানুষ মরে যাচ্ছে  কিন্তু সরকার উদাসিন ৷ প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের কথা ভাববেন না? গরিব মানুষের কথা শুনবেন না?‌ গোটা দেশে যেন অর্থনৈতিক অরাজকতা শুরু হয়েছে৷ সুস্থ-‌স্বাভাবিক জীবনযাপনে নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে ন্যূনতম সহযোগিতা না পেয়ে জীবন  অতিষ্ট হয়ে উঠেছে৷ অথচ আপনি নিঃস্পৃহ !!

দেবাশীষ পাইন

দেবাশীষ পাইন

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *