জাতের জালিয়াতি বিপন্ন মানবতা– লেখিকা, সুজাতা ভৌমিক মণ্ডল

shambhu-lal-raigar_1512883866আচ্ছে দিনের খুড়োর কল আমাদের সামনে ঝুলছে। আমরা এগিয়ে চলেছি। দেখছি, কিন্তু বুঝছি না ভালো মন্দের তফাত। হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার সময় এক সন্তান হারা হিন্দু পিতা এক মুসলমান যুবককে হত্যা করার পর অনুতপ্ত হৃদয়ে গান্ধীজিকে প্রায়শ্চিত্তের উপায় জিঞ্জাসা করলে গান্ধীজি তাকে বললেন “দাঙ্গায় অনাথ এক মুসলমান বালককে দওক নিয়ে তাকে মুসলাম রীতি অনুযায়ী মানুষ করো”।
আজ আফরাজুলের হত্যার পর আমরা শুধু বলতে পারি “হে রাম”। কেউ তেড়ে আসবেন, বলবেন রামের নামেই তো হত্যা লীলা চলছে।সঠিক কিন্তু ভুললে তো চলবেনা দাদারা দিদিরা, উঠোন নয় আমাদের চলন বাঁকা।
আজ সেই পায়োনিয়ার কে বড়ো প্রয়োজন। মুসলিম জোলা যারা প্রাণ বাঁচালো সেই হিন্দু ফকির ভাসিয়ে দিলো সুর লালন বলে জাতের কি রুপ দেখলাম না রে সংসারে!
আসলে রাম নয় রহিমও নয় আসলটা ভোট বৈতরণী। তাই কেশবভবনের মগজধোলাই কারখানা থেকে উৎপাদিত হচ্ছে শত শত জাত্যাভিলাসী  নরপশু,লেবেল সেঁটে দেওয়া হচ্ছে হিন্দুত্বের। তাই মালদার দিনমজুর পঞ্চাশ পেরানো মানুষটিকে অমুলক এবং ভিওিহীন অপরাধে ছাই হয়ে যেতে হয়। বসুন্ধরা রাজের পার্টির প্রতি আনুগত্য দ্বিধাহীন প্রমাণিত হয় নিরপরাধের জ্বলন্ত দেহের নমুনায়। না নিজের হাতে সর্বাধীকারী সব কাজ করেন না। তবে দায়টা কার? আই এ এস, তালিবানী জঙ্গী বা লস্করই জঙ্গী আর উগ্র হিন্দু মৌলবাদের তফাত করতে গিয়ে আজ যে শিউরে উঠছি। আমার পরবর্তী প্রজন্ম কি নামে পরিচিত হবে, কাজে না জাতে? সংবাদ পত্রে সিরিয়ার ইরাকের অনাথ মুখগুলো দেখে প্রাণ কাঁদে আর মুখ দিয়ে বেরোয় ভাগ্যিস দেশটা ভারত! তাইতো! আগামী দিনটাও কি তা থাকতে চলেছে? আচ্ছে দিনের সোনার পাথরবাটির গল্প আমাদের ভুলিয়ে রাখতে কতদিন সক্ষম হবে? ধর্ম অস্ত্রের ঝনঝনানিতে ঝলসে গেল গোবিন্দ পানসারে, কালবর্গীরা। গৌরী লঙ্কেসদের প্রাণ দিত হল ধর্মাসুরদের হাতে। সাথে আমার বংলার আফরাজুলদের। দেশদ্রোহী কারা আমরা নাকি যারা আমাদের আঙুলের ছাপে মসনদে বসে ধর্মের পাচন গেলাচ্ছে তারা? আর কবে রক্তে ভেসে যাওয়া পুজার বেদী ভাঙার আওয়াজ তুলবো আমরা? ধর্মের দাবানলে প্রতিবাদী কলম কবে মশাল হবে? দুটো মোমবাতি হাতে মিছিল এ তমশাচ্ছন্ন সরণীকে আলো দেখাতে পারবেনা। ধর্মের যুদ্ধ হোক মানবতার দাবীতে। কুরুক্ষেত্রর প্রস্তুতি আর ক্রুশেডের পথে। শহর তিলোওমা তারা সুন্দরী খোলসে ত্যাগ করে হয়ে উঠুক অম্বালিকা। শপথ হোক ন্যায়ের। পাঞ্চজন্য বাজাক বিলকীস বানো সামনের ব্যানার ধরুক পাঞ্চালী হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা এগিয়ে যাবে পিছনে যত পাপী মুষিক মরণঝাঁপে তৈরী থাক। তোমার আমার ঠিকানা শেষ হোক মানবতার সরণীতে।
রামজাদে না হলে যারা বলছে হারামজাদে তাদের বলি “নাফরাত কি জঞ্জির তোড়ো”।
আগামী শিশুরা শিখুক
“হিন্দু বানে গা না মুসলমান বানেগা
ইনসান কি আওলাদ হ্যায় ইনসান বানেগা”
দুনিয়ার মজদুর এক হয়ে রুজির লড়াই চালাক ধর্মতলার মোড় থেকে। ডাক উঠুক জাতের নয় ভাতের লড়াই।

সুজাতা ভৌমিক মণ্ডল

সুজাতা ভৌমিক মণ্ডল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *