জাতীয়তাবাদী, ‘সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল’

saradar-vallabhbhai-patelসর্দার বল্লভভাই প্যাটেল, ‘Iron Man Of India’, ভারতের লৌহ মানব,এই নামেই পরিচিত ছিলেন নিজ দেশে ও সমগ্র বিশ্বে। লৌহ মানব আখ্যায়িত হওয়ার পেছনে কারন হোল,স্বাধীনতার সময় ভারত ৫৬২টি করদ রাজ্যে বিভক্ত ছিল, দেশের ভৌগলিক সীমানা ও একতা রক্ষার্থে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ভুমিকা ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। করদ রাজ্যগুলিকে ভারতবর্ষে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়ায় প্যাটেলের কূটনৈতিক চাল আর ইস্পাত কঠিন স্নায়ুর কাছে পাকিস্তানের ঘৃণ্য খেলা বার বার ঘরের বাইরের রাস্তা দেখেছে। বেশি ঘটনার অবতারনা না করে শুধু হায়দ্রাবাদ নিজামের ভারত অন্তর্ভুক্তি ঘটনা যে কোন থ্রিলার কাহিনীকে হার মানিয়ে দেয়।

কিন্তু পরিতাপের বিষয়, স্বাধিনতার পর থেকে ২০১৪ সালের আগে অবধি দেশের কাছ থেকে সর্দার প্যাটেলের যে সন্মান প্রাপ্য ছিল তা থেকে ওনাকে বঞ্চিত করা হয়েছে।এবং অত্যন্ত্য সুপরিকল্পিত ভাবে করা হয়েছে। শুধুমাত্র একটি পরিবার ও তাদের সদস্যদের মহিমা কীর্তন করে সর্দার প্যাটেলকে দ্বিতীয় সারিতে ফেলে রাখা হয়েছিল। ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, সর্দার প্যাটেলের কীর্তির কথা স্মরন করে তাঁর জন্মদিনটিকে রাষ্ট্রীয় একতা দিবস হিসেবে পালন করা শুরু করে।

১৮৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর গুজরাতে এক কুর্মী পরিবারে সর্দার প্যাটেল জন্ম গ্রহণ করেন ৷ লন্ডনের মিডল টেম্পল ইন কলেজ থেকে আইনের ডিগ্রি নিয়ে আইনজীবী হিসেবে পেশাদারি জীবন শুরু করেন এবং যথেষ্ট পশার হয়। কিন্তু বিধি বাম, গুজরাতের ‘খেদায়’ প্লেগ, মহামারির আকার ধারন করলে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। তিনি চোগা চাপকান খুলে রেখে প্লেগ পীড়িত মানুষের জন্য ত্রাণ সংগ্রহে নেমে পড়েন৷ ত্রানের কাজ করার সময় তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে কোন কাজ সম্পাদন করতে নারীর ভুমিকা অসীম,তাই সর্দার প্যাটেল চিরকাল নারীর ক্ষমতায়নের পক্ষে, পাশাপাশি অস্পৃশ্যতা, বর্ণ বিভেদ এবং মদ্যপানের বিরুদ্ধে আমৃত্যু লড়াই চালিয়ে গেছেন।

স্বাধিনতার আগে এবং পরেও মহম্মদ আলী জিন্নার বিচ্ছিনতাবাদী মনোভাব যদি কাউকে সমঝে চলত তার নাম সর্দার প্যাটেল। তাই পার্টিশন কাউন্সিলে তিনিই ভারতের প্রতিনিধি হয়েছিলেন৷

সর্দার প্যাটেল ১৯৫০ সালের ১৫ ডিসেম্বর হৃৎরোগে আক্রান্ত হয়ে বম্বের বিড়লা হাউসে মারা যান৷ মৃত্যুর পরে তাঁকে ভারতরত্ন দেওয়া হয়৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *