জন্মদিনে, খানিকটা নরেন্দ্র মোদি চর্চার চেষ্টা। সোনালী সাহা নন্দী।

FB_IMG_1600322383388

বর্তমান ভারতের ১৬তম জনদরদী প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি। গত কয়েক বছরে তিনি ক্রমাগত নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়ে ভারতবর্ষকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য পর পর যে কঠিন থেকে কঠিনতর পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন তা সত্যিই নজিরবিহীন ঘটনা এবং ইতিহাস সাক্ষী রাখে।

‌ ১৯৫০সালে ১৭ই সেপ্টেম্বর ভারতবর্ষের অন্তর্গত গুজরাটের একটি ছোট্ট শহরে এক অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । তাঁর পরিবারের দারিদ্রতা থাকলেও ভালোবাসা ছিল অসীম। এইরকম দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও দু চোখে অনেক স্বপ্ন তাকে আজকে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী তৈরি করতে সাহায্য করেছিল। তাঁর নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী থেকে নরেন্দ্র মোদী হয়ে ওঠার গল্পটা নিদারুণ মর্মস্পর্শী।

অতি দারিদ্রতা থাকা সত্ত্বেও স্কুল জীবন অতিবাহিত করে গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন । জীবনের প্রারম্ভিক বাধা-বিপত্তিগুলি তাকে কেবল কঠোর পরিশ্রমের মূল্যবোধই শেখায়নি তার পাশাপাশি জনসাধারণের সুখে-দুখে থেকে প্রকৃত মনুষত্ব জ্ঞান তৈরি করতে সাহায্য করেছিল এবং জীবনের সঠিক মূল্যবোধের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে খুব অল্প বয়সে দেশ সেবার কাজে নিয়োজিত হন।

জীবনের প্রথমাবস্থায় ছোট ছোট সমাজসেবার মধ্য দিয়ে তিনি কাজ শুরু করেন এবং পরে জাতীয় রাজ্যস্তরে ভারতীয় জনতা পার্টির হয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত হন । ২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী পদে তিনি নির্বাচিত হন এবং 13 বছর ধরে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। টানা ১৩ বছর মুখ্যমন্ত্রিত্ব পদে থেকে গুজরাটের আমূল পরিবর্তন যেভাবে তিনি আনেন তা সত্যিই প্রশংসিত এবং চর্চার। এবং পরে ২০১৪ সালে ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী পদে নিযুক্ত হন এবং ২০১৪ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত তিনি ভারতের ইতিহাসে যে যে রাজনৈতিক প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন তা সত্যি অতুলনীয় এবং তার জন্য ২০১৯সালে পুনরায় তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচিত হন।

‘সবকা সাথ , সবকা বিকাশ , সবকা বিশ্বাস’ এই মন্ত্রে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি যে ভারতব্যাপী যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে সক্ষম হন তা সত্যি সারা বিশ্বের সংবাদ শিরোনামে চর্চিত। তার প্রশাসনিক ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্যই হলো সর্বব্যাপী, উন্নয়ন কেন্দ্রীক, দুর্নীতি মুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা । মোদীজি মেক ইন ইন্ডিয়া পরিকল্পনা থেকে স্বচ্ছ ভারত, উজ্জ্বলা, কৃষি বিকাশ যোজনা অতৃন্ত দক্ষতার সাথে করেন।

জীবনে বেঁচে থাকার জন্য জ্বালানির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ এই প্রসঙ্গ মাথায় রেখেই তিনি ২০১৬ সালের দরিদ্র মানুষকে রান্নার গ্যাসের সংযোগ বিনামূল্যে পৌঁছে দিতে বিনামূল্যে উজ্জ্বলা যোজনা ঘোষণা করেন ফলে শত শত মানুষের জীবনে বিরাট বড় প্রভাব ঘটে। শ্রী নরেন্দ্র মোদী মহাশয় শৌচকর্ম পুরোপুরি বন্ধ করার জন্য ২০১৪ সালের ২রা, অক্টোবার অর্থাৎ গান্ধীজীর জন্ম তিথিতে স্বচ্ছ ভারতে যে পরিকল্পনা করেন সেই প্রসঙ্গে , বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই প্রসঙ্গে প্রশংসা করে বলেছেন এই অভিযান ৩লক্ষ পর্যন্ত জীবন বাঁচাতে পারে । এবং মোদীজি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মেকিং ইন্ডিয়া কর্মসূচির আবিষ্কার করেন ফলে ভারতবর্ষের শিল্পের বিকাশ কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পেয়েছে । কর্ম সংযোগ বেড়েছে ফলে মোবাইলফোন প্রস্তুতি উৎপাদন ২০১৪তে ২ থেকে ২০১৯ এ 122 হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতবর্ষের অর্থনীতিতে কৃষির ভূমিকার কথা মাথায় রেখে কৃষি বিকাশ এর জন্য তিনি কিষান বিকাশ যোজনা চালু করেন। যার ফলে কৃষকদের কাছে নিয়মিতভাবে কিস্তির টাকা পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে এবং যোজনার অন্তর্গত সকল সুযোগ সুবিধা গুলো পৌঁছে যাবার সুবিধে রয়েছে। মোদীজি দারিদ্র মুক্তির পথে অগ্রসর হয়ে জনসাধারণের জন্য জনধন যোজনা চালু করেন যার প্রভাবে দেশের দরিদ্র মানুষেরা ব্যাঙ্কিং পরিষেবা এবং বীমা, পেনশন ইত্যাদি সুবিধা পায় এবং এর সুবাদে তিনি ভারতবর্ষে ৩৫ কোটি টাকা খরচ করেন। এছাড়া তিনি নিম্নবিত্তদের জন্য ২০১৪ থেকে ১৯ এর মধ্যে এক কোটি ২৫ লক্ষ গৃহ নির্মাণ করেন এবং বর্তমানে পরিসংখ্যান বলছে ২০২২ এর মধ্যে এখন অবধি যারা এই আওতার বাইরে থেকে গেছে তাদেরও কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। তাছাড়া ক্ষমতায় আসার পর ১৮০০০ গ্রামে তিনি বৈদ্যুতিক সংযোগ ঘটানো।

মাননীয় প্রধান মন্ত্রী মহাশয় একই বছরে পরপর নোট বন্দি, জিএসটি , কাশ্মীরের মত জটিল সমস্যা যা বছরের পর বছর ধরে ন্যায় বিচারের আশায় অপেক্ষমান ছিল তার হিসাব থেকে উরি হামলা যোগ্য জবাব , তিন তালাক বাতিল এবং অযোধ্যা সমস্যা সমাধান করে রাম মন্দির নির্মাণের কাজ শক্ত হাতে যেভাবে সামাল দিয়েছিলেন তা নিদারুণ প্রশংসার যোগ্য।

ইদানীংকালে শিক্ষাক্ষেত্রে ভোল পাল্টানোর জন্য যুগ-যুগান্তরে থেকে নির্ধারিত শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটান। এক কথায় বলা যেতে পারে শিক্ষাক্ষেত্রে একটা রেনেসাঁস ঘটেছে‌। এই পরিবর্তনের ফলে দশম শ্রেণীর পর থেকে বিভিন্ন তফাৎ উঠে যাবে। এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ভোকেশনাল বিষয় শেখানো হবে। অষ্টম শ্রেণী থেকে বিভিন্ন বিভাগের নির্বাচন করে পড়াশোনা সুযোগ চলতি বছরের প্রথম নিয়ম করেন।

তিনি মনে করেন যে পরিবর্তনের লক্ষ্যে পরিবহন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বহন করে এই চিন্তাভাবনাকে মাথায় রেখে রেল সড়ক ও নৌপথে উন্নত মানের যান চলাচল ব্যবস্থার অভূতপূর্ব পরিবর্তন ঘটান।

নরেন্দ্র মোদী রাষ্ট্রসংঘে বছরের একটি দিনকে ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস’ হিসাবে ঘোষণার আন্তরিক আহ্বান জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানের প্রেক্ষিতে প্রথমবার ১৭৭টি রাষ্ট্র একযোগে এগিয়ে এসে ২১শে জুন দিনটিকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসাবে ঘোষণা করার প্রস্তাব অনুমোদন করে।

মোদীর বৈদেশিক নীতির ফলে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসাবে ভারতের প্রকৃত সম্ভাবনা ও ভূমিকার বাস্তবায়ন ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে প্রথমবার শপথ গ্রহণের সময় সার্ক দেশগুলির সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা এবং দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার সময় বিমস্টেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তাঁর ভাষণ সারা বিশ্বে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদীকে একাধিক সম্মান ও পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, সৌদি আরবের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘সাশ অফ কিং আব্দুল্লাজিজ’; রাশিয়ার সর্বোচ্চ সম্মান ‘দ্য অর্ডার অফ দ্য হোলি অ্যাপস্টেল অ্যান্ড্রু দ্য ফার্স্ট’; প্যালেস্তাইনের ‘গ্র্যান্ড কলার অফ দ্য স্টেট অফ প্যালেস্তাইন’; আফগানিস্তানের ‘আমির আব্দুল্লা খান’ পুরস্কার; সংযুক্ত আরব আমীরশাহীর ‘জায়েদ মেডেল’; মালদ্বীপের ‘রুল অফ নিশান ইজুদ্দিন’ প্রভৃতি। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শান্তি ও উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য মর্যাদাপূর্ণ সিওল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন।

বর্তমান ভারতবর্ষের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আসলে ভারতবর্ষের শিক্ষা, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থার পুনর্নির্মাণ করে ঢেলে সাজাবার চেষ্টা এতদ্বসত্ত্বেও পর্যন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন । তার যুগান্তকারী চিন্তাভাবনাকে আমরা সেলুট জানাই । পাশাপাশি কোন জিনিস পুনর্নির্মাণ করে ঢেলে সাজাতে গেলে যে সূক্ষাতিসূক্ষ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তার ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য আমাদের দরকার ওনার সাথে হাতে হাত রেখে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া তবেই আমরা প্রগতিশীল সুন্দর ভারতবর্ষের স্বপ্ন দেখতে পারবো। তাই আজ তার শুভ জন্মদিনে তিথিতে উনার জন্য সমগ্র ভারতবর্ষের তরফ থেকে রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং আগামী দিনে এগিয়ে যাওয়ার শতকোটি অনুপ্রেরণা।

সোনালী সাহা নন্দী

সোনালী সাহা নন্দী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *