ক্ষতিপূরণ দিলেই দায় শেষ হয়ে যায় না।

20180129_201228-310x165সোমবার সকাল ৬টা নাগাদ মুর্শিদাবাদ জেলার দৌলতাবাদে বালিরঘাট এলাকায় নলিনী বাস্কে সেতুর ওপর নিয়ন্ত্রন হারিয়ে সেতুর রেলিং ভেঙে একটি যাত্রী বোঝাই বাস গোবরা খালে পড়ে যায়! আন্দাজ করা হচ্ছে বাসটিতে প্রায় ৫৫-৬০ জন যাত্রী ছিল।প্রথম দফায় ১১টি মৃতদেহ উদ্ধার হলেও পরে সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৬।

জীবিত বাসযাত্রীদের অনেকেই বাস চালকের বেপরোয়া বাস চালনাকেই দায়ী করেন।মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে বাস চালনার সময় অনেক যাত্রী চালকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় কিন্তু বাসের কন্ডাক্টার তাদের ধমকে চুপ করিয়ে দেয়! বিগত ২০শে জানুয়ারি মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙার নয়ানজুলিতে বাস  দুর্ঘটনায় ৭জনের মৃত্যু হয়। ঠিক তার নয়দিনের মাথায় আরও একটা দুর্ঘটনা কি করে হয় এটাই বিস্ময়।পর পর দুটি দুর্ঘটনা প্রশাসনকে অনেকগুলি প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে।

১) যখন বার বার এমন দুর্ঘটনা ঘটছে তখন প্রশাসন কেন বাস শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের ডেকে হুঁশিয়ারি দেননি? বেপরোয়া বাস চালালে কড়া জরিমানা ও লাইসেন্স জব্দ এধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিলে কিছুটা নিয়ন্ত্রন করা যেত কিন্তু তা করা হয়নি। শাসক দলের ছত্রছায়ায় লালিত বাস চালকরা আজ অভয়ারণ্যে বাস করছে।প্রশাসনও আজ এদের সমীহ করে চলে।

২) শুধু সেফ ড্রাইভ- সেভ লাইফ- এর স্লোগান তুলে, কোটি কোটি টাকা বিজ্ঞাপনে খরচ করলে হবে না। প্রশাসনকে কড়া হতে হবে।

৩) উত্তরবঙ্গ পরিবহন দফতরের বাসগুলি আদৌ যাত্রী বহনে চলনযোগ্য ছিল কিনা সেটার পরীক্ষা নিরীক্ষা  পরিবহন বিশেষজ্ঞদের দিয়ে করানোর পর রুটে নামান হয়েছিল কিনা তার তদন্ত দরকার।

৪) দুর্ঘটনা মোকাবিলায় ৬-৮ ঘণ্টা দেরি হোল কেন? স্থানীয় মৎস্যজীবীরা যদি সেই সময় উপস্থিত  না থাকত তাহলে একজনকেও বাঁচানো যেত না।

এরকম আরও অনেক প্রশ্ন মনে ঘোরপাক  খাচ্ছে। মিছিল মিটিং এ লোক বাড়ানোর তাগিদে আজ পরিবহন সংগঠনগুলি ব্যবহৃত হচ্ছে।মালিক শ্রমিক উভয় সংগঠন এর ফায়দা পূর্ণ সদ্ব্যবহার করছে।এ দোষে শাসক বিরোধী উভয় রাজনৈতিক দল দায়ী। মরছে সাধারন মানুষ। মৃত্ ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দিলেই দায় শেষ হয়ে যায় না। আসলে দায়টা মানবতার জন্য নিতে জানতে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *