কুখ্যাত রাওলাট আইন ও অহিংস আন্দোলন।

The+Rowlatt+Acts১৯১৪ সালের ১ম বিশ্বযুদ্ধে ইংরেজ সরকার জার্মানির বিরুদ্ধে ভারতবাসীকে ব্যবহার করেছিলো। ভারতের সৈন্য, অর্থ, অস্ত্র সবই ব্যবহার করেছিলো। ভারতীয় নেতারাও এই যুদ্ধে ইংরেজকে সমর্থন করেছিল। লোকমান্য তিলক একটানা ৬ বছর জেল খেটেও ইংরেজকে সমর্থন দিয়েছিলেন। কিন্তু এর প্রতিদান হিসেবে ভারতবাসীর ঝুলিতে ফল মিলেছিল- শূন্য।

যুদ্ধের কুফল পেতে শুরু করেছিল ভারতবাসী। অর্থনীতিতে যে ধস নেমেছিলো তার ভোগান্তি শুর হয়েছিল হলো ভারতের উপর। জিনিস পত্রের দাম বেড়ে গেল। শুর হোল হোম রুল আন্দোলন। নেতৃত্ব দিলেন তিলক এবং শ্রীমতি এনি বেশান্ত। প্রতিষ্ঠা ঘটালো হোমরুল লীগ। এই সময় আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতা যুদ্ধ তিলককে ইংরেজ বিরোধী পদক্ষেপ নিতে অনুপ্রাণিত করেছিলো। ভারতের প্রথমসারির নেতারা হোমরুল লীগে যোগদান করতে শুরু করে। এর মধ্যে ছিলেন সি. পি রামস্বামী আয়েঙ্গার, লালা লাজপত রায়, বিপিন চন্দ্র পাল এবং মুহম্মদ আলী জিন্নাহ সহ অন্যান্য নেতারা। ইংরেজরা ভয় পায়। চালাকি করে ইংরেজ ভারতকে ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাসের প্রতিশ্র”তি দেয়।

১৯১৮ সালে ১ম বিশ্বযুদ্ধ জয়লাভের পর ইংরেজ প্রতিশ্র”তি ভঙ্গ করে কুখ্যাত রাওলাট আইন প্রবর্তন করেন। ১৯১৮ সালের এপ্রিল মাসে রাওলাট কমিটির সুপারিশ প্রকাশিত হলো। রাওলাট এ্যাক্টের প্রধান লক্ষ্য ছিলো ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দমন করা।জনগণের স্বাধীনতা ও অধিকার হরণ করা । সরকার বিরোধী যে-কোনো প্রচারকার্যকে দন্ডনীয় অপরাধ বলে চিহ্নিত করা এবং কোনো রকম সাক্ষ্য ও প্রমাণ ছাড়াই যেকোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বিনা পরোয়ানায়  গ্রেফতার, যতদিন খুশি আটক রাখার অবাধ ক্ষমতা ও ঘরবাড়ি তল্লাশির অধিকার সরকারকে দেওয়া হয় ।এই আইনের আসল উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয়দের ন্যায়বিচার লাভের অধিকার সম্পূর্ণভাবে কেড়ে নেওয়া। তাই রাওলাট আইনকে কালাকানুন বলা হয়।  ক্ষুব্ধ কংগ্রেস নেতারা বুঝলেন যে মন্টেগু চেমস ফোর্ডের রিপোর্টে ভারতীয়দের আশা আকাঙ্ক্ষাকে ন্যূনতম মূল্য দেয়া হয় নি। ভারতীয়দের হাতে সামান্যতম ক্ষমতাও রইল না। কংগ্রেসের নেতারা ১৯১৮ সালে বোম্বাইয়ের অধিবেশনে চেমস ফোর্ডের রিপোর্ট প্রত্যাখান করলেন।

১৯১৯ সালের শুরুতেই  সমস্ত ভারতীয়দের মতামত উপক্ষো করে রাওলাট কমিটির সুপারিশ পাশ করে পুলিশের হাতে বেপরোয়া ক্ষমতা দেয়া হলো। বিখ্যাত নেতা সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি রাওলাট আইনকে অসহােগ আন্দোলনের জনক বলেছেন। এই কুখ্যাত আইনের বিরুদ্ধে ভারতীয়রা আগুনের মতো জ্বলে উঠলো। গান্ধী এবং জিন্নাহ  দু’জনই এই আইনের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিবাদ করলেন।দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতে ফিরে আসার পর গান্ধীজী সর্বপ্রথম জাতীয় নেতৃত্বের সামনের শারীতে চলে এলেন। রাওলাট আইন প্রতিহত করার লক্ষ্যে তিনি সত্যাগ্রহ কমিটি গঠন করেন। তিনি নির্দেশ দিলেন ইংরেজের দমনপীড়ন মুলক আইনকে অহিংস পন্থায় অমান্য করতে হবে। আইন অমান্য আন্দোলনের দিন হিসেবে গান্ধীজী ঠিক করলেন ১৯১৯ সালের ৩০শে মার্চ ও ৬ এপ্রিল। ওই দিনগুলিতে সারা ভারতে সফল হরতাল পালিত হয়েছিলো।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *