উত্তরপ্রদেশে সরকার গড়বে…আশাবাদী বিজেপি।

up-new-759আসন্ন ২০১৭ উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি আর রামমন্দির মুদ্দাকে সামনে রেখে নির্বাচন লড়বে না। তার বদলে ২০১৪ সালের পর থেকে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃতে ভারতব্যাপী উন্নয়নের ছবি তুলে ধরে নির্বাচন লড়বে। এখনও অবধি যা ঠিক আছে তাতে অন্য কোনও দলের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে নির্বাচনে লড়বে না বিজেপি।প্রাক নির্বাচনী বা পরবর্তী সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই জানালেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী মহেশ শর্মা। আগামী উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি দল মহেশ শর্মার ওপর অনেকটাই ভরশা করছে, কারন মহেশ শর্মার দক্ষ ও কুশলী নির্বাচন পরিচালনার ফলে বিগত ২০১৪ লোকসভার নির্বাচনে বিজেপি উত্তরপ্রদেশে যথেষ্ট ভালো ফলাফল করেছে। সেই কারণে বিজেপি ২০১৭ বিধানসভার নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশের ৪০৩ টি আসনের মধ্যে ২৬৫ টি জয়লাভ করবে বলে আশাবাদী।

নির্বাচনী প্রচারের রূপরেখা ইতিমধ্যে প্রস্তুত করে ফেলেছে উত্তরপ্রদেশ বিজেপি।প্রচারের হাতিয়ার মুলত  উন্নয়ন, স্বচ্ছ প্রশাসন, দুর্নীতিমুক্ত সরকার। এবারে বিজেপি কোনভাবেই রামমন্দির নির্মাণকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করছে না। উত্তরপ্রদেশ বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য হল, রামমন্দির নির্মাণ কোটি কোটি ভারতবাসীর আশা-আকাঙ্খা, একটা ধর্মীয় বিশ্বাশ।বিজেপি দল কোনভাবেই এই বিষয়টাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করতে চায় না। নেতৃত্ব আরও জানাচ্ছেন,আমরা অযোধ্যায় রামমন্দির বানানোর সংগ্রাম থেকে সরছি না। কিন্তু আমরা সহমতের ভিত্তিতে মন্দির নির্মাণ করতে চাই, নাহলে মহামান্য আদালত যা নির্দেশ দেবে আমরা সেই পথেই চলব।

mahesh-sharma

আসামে বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ বিজেপিকে বাড়তি মনোবল যোগাচ্ছে।আসাম জয়লাভের প্রভাব উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে কায়দা করে ফেলতে চাইছে বিজেপি।দলের সর্বস্তরের নেতৃত্ব উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনকে পাখীর চোখে দেখছে। জয়লাভ নিজেদের ঝুলিতে পুরতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে বিধানসভা ধরে ধরে কাজ শুরু করে দিয়েছে।

২০১৪ লোকসভার নির্বাচনে ৮০ টা আসনের মধ্যে ৭১ টা আসন বিজেপির ঝুলিতে আসার পর দল আত্মবিশ্বাসের চুড়ায় অবস্থান করছে। যেখানে ২০১২ সালে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি মাত্র ৪৭ টা আসনে জয়লাভ করতে পেরেছিল ১৫% ভোটব্যাঙ্ক সম্বল করে। ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে শুধু যে আসন সংখ্যা বেড়েছে তাই না, ভোট ব্যাঙ্ক ১৫% থেকে বেড়ে ৪২% পৌঁচেছে।

বিজেপি আসন্ন ভোটকে কেন্দ্র করে প্রচণ্ড আশাবাদি কিন্তু জয়লাভ করলে মুখ্যমন্ত্রীর কে হবেন এখনও সামনে আশে নি। অপরদিকে কংগ্রেস রাহুল-পিয়াঙ্কা জুটিকে কৌশল করে সামান্য পেছন দিকে রেখে বর্ষীয়ান নেত্রী শিলা দীক্ষিতকে নির্বাচনী মুখ করে উত্তরপ্রদেশের  নির্বাচন লড়তে চলেছে। এতে করে ২০০৭ সালের পর থেকে লাগাতার অসফল হতে থাকা রাহুল-প্রিয়াঙ্কা জুটিকে রক্ষা করা যাবে। আসন্ন  নির্বাচনে কংগ্রেস অসফল হলে শিলা দীক্ষিতের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে রাহুলের বিরুদ্ধে বার বার ওঠা অযোগ্য নেতৃত্বের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া যাবে। বিজেপি আপাতত একক লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরছে না, এখন দেখার বিহারের ন্যায় উত্তরপ্রদেশে বিজেপি বিরোধী কোনও জোট তৈরির সম্ভাবনা আছে কি না। আছে, যদি বাকি দলগুলি বিজেপি বিরোধী ভোটকে ভাগ করতে দিতে না চান। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে মুলায়েম-মায়াবতি কি করে একজোটে সামিল হবেন? হলে,নিজ নিজ ভোট ব্যাঙ্কে ভুমিকম্প হবে। কোন দল চাইবে নিজ ভোট ব্যাঙ্কে ধ্বস নামাতে!! আর সেকারনেই  কোন দলই জোট নিয়ে কথা বলছে না। বিজেপি পরিস্থিতি হিসেব করে ধরে নিয়েছে, বিজেপি বিরোধী ভোট ভাগ হচ্ছেই। বিজেপি’র বেশী আহ্লাদিত হওয়া সমুচিন হবে না কারন ভোটের এখন অনেক দেরি। উত্তরপ্রদেশের মতো জাতপাত নির্ভর প্রদেশে যে কোনও মুহূর্তে অনেক কিছু রং বদলাতে পারে।

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *