আমার চোখে “সুমন”…

IMG-20190207-WA0033দীর্ঘদিন রাজনীতি করার সুবাদে অনেক অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির মধ্যে একটা আক্ষেপ সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হবে,সেটা হোল নতুন প্রজন্মের অভাব ও দলে তাদের সংযুক্তি করন। দীর্ঘ ৪২ বছর ক্ষমতার বাইরে অবস্থান করা জাতীয় কংগ্রেস পশ্চিম বাংলায় অনেক বাধ্য বাধকতা আছে। আমরা নতুন প্রজন্মকে সংযুক্তি করন করতে পারিনি আর যদিও কিছু করেছি তাদের ধরে রাখতে পারিনি।

কারন ও কার্জ পদ্ধতি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হতে পারে কিন্তু বাস্তবটা ব্যার্থতাকেই দর্শায়। তাই আজ মনে হোল আমারও কিছু বলার আছে।

আমার চোখে অনেক নতুন ছেলে মেয়েদের মধ্যে এই নবীন ছেলেটি “সুমন পাল” কংগ্রেস পরিবারের ফসল। ২০০৯ সালে ব্লক যুব কংগ্রেস করতে করতে প্রদেশ যুব কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতা হয়। প্রচণ্ড পরিশ্রমী, তরতাজা প্রান, সূর্য উদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কংগ্রেসের আদর্শ ফেরি করে ফেরা এক নব যৌবন।

যে নেতা বর্তমান রাজনীতির পাঁক থেকে এই পদ্মকে তুলে এনে কংগ্রেসের ফুলদানিতে শোভিত করেছিলেন তার চোখের কদর করতেই হয়।

IMG-20190207-WA0032

কি অসাধারন প্রান ও স্ফূর্তি নিয়ে দল করতে পারে “সুমন”। প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জননেতা অধীর চৌধুরীর নজর এত প্রখর যে খুঁজে পেয়েছিলেন তার উত্তরসূরিকে। দায়িত্ব দিয়েছিলেন জেলা সভাপতি রুপে। অসাধারন সাফল্য ও প্রতিযোগিতার মধ্যে একশো শতাংশ উত্তির্ন হতে সময় লাগলো না “সুমনের”। ওর চোখে দেখেছিলাম অপ্রতিরোধ আগুন, লড়াই করার হিম্মত।

এহেন তরুন, দলের প্রথম সারির সৈনিক হতে হতে কেন জানিনা আজ অদৃশ্য কারনে হতাশ, ভারাক্রান্ত। মনমরা হয়ে ভাবছে তার ত্রুটি বিচ্যুতির কথা। ভাবতে অবাক লাগে সংগঠনের কাজে তাকে যোগ্য সন্মান দিয়ে ব্যবহার করা গেলো না !! আমি থেকে আমরা কেন নয়?

উত্তরের দায় ও দায়িত্ব আমাদের সবার। আমরা সবসময় আক্ষেপ করি নতুন রক্তে দলকে সঞ্চারিত করতে পারছিনা বলে। ছাত্র- যুব সংগঠন অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছে কিন্তু যারা যোগ্যতার প্রমান দিয়ে সামনের সারিতে উঠে আসছে তাদের ধরে রাখাও দলেরই দায়িত্ব।

কংগ্রেস পরিবার আমাদের জাতীয় বোধের শিক্ষায় দীক্ষিত করে কিশোর বয়সেই। পরিবারের গণ্ডি ছাড়িয়ে রাজনীতির আঙ্গিনায় আমরা কংগ্রেস পরিবার এ বড় হই, এই বিশ্বাস নিয়ে যে আমাদের  নেতৃত্ব পিতা মাতার স্নেহে  রক্ষা করবেন।সমস্থ দোষ ত্রুটিকে  শুধরে দিয়ে বড় হতে সাহায্য করবেন।

IMG-20190207-WA0034

কিন্তু অবাক !! পরিবারে অপাংতেও হয়ে প্রতিভারা যখন হারিয়ে যায় তখন দল ও রাজনীতির পরিমণ্ডলে অবক্ষয় নিশ্চিত হয়ে পরে। সমাজ সংস্কার ও সংস্কৃতি থেকে উঠে আশা এই সব তরুন প্রান নাই বা হোল কোন বড় নামের অংশ নাই বা রইল কারো আশীর্বাদের ছোঁয়া। এরা কি আমাদের বৃহত্তর পরিবারের অঙ্গ নয়?

সুমনের পূর্বসূরি যারা কংগ্রেসের পতাকা বয়ে নিয়ে গিয়েছে শেষ দিন পর্যন্ত তাদের আত্মার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি কি এটা হতে পারে না?

সুমন তুমি এগিয়ে চলো, বিভাবরীর সূর্য উদয় শুধু সময়ের অপেক্ষা—অনেক সুমন আজ অপমানিত, অনেক অবিচার এই সব সু-মন দের প্রতি। আমরা কেউ দীর্ঘদিন বেঁচে থাকব না। দল থাকবে। আগামী প্রজন্মের কাছে তাদের জবাব দিতেই হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *