“আপনি, সদা আমাদের স্মৃতিতে বিদ্যমান থাকবেন”– দেবাশীষ পাইন

506-780x405এই উপমহাদেশের রাজনীতিতে এক আদর্শবান রাজনীতিবিদের জীবনাবসান হলো।প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের মৃত্যুতে ভারতীয় রাজনীতিতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হল তা সহজে পুরন হওয়ার নয়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হটাৎ করে রক্তে চিনি কমে যায়। বুকে ব্যাথা অনুভব করায় তাকে দ্রুত অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সে ভর্তি করা হয়। তড়িঘড়ি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে চিকিৎসা শুরু হয় কিন্তু চিকিৎসকদের প্রাণপণ প্রচেষ্টা স্বত্তেও রাত ৯টা নাগাদ তিনি মারা যান।

বুধবার সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত জনগণ তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবে। দুপুর নাগাদ মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে দিনদয়াল মার্গে বিজেপির প্রধান কার্যালয়ে। সেখানে দলীয় নেতাকর্মীরা তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন। বিকেল ৩টা নাগাদ লোধি রোডে বৈদ্যুতিক চুল্লিতে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

সংসদের মধ্যে ও বাইরে তার অসাধারন শানিত যুক্তির বাগ্মিতা, নিতি আদর্শের প্রতি অটল নিষ্ঠা, বজ্র্য কঠিন মানসিক জোর ও মন্ত্রক পরিচালনা করার যোগ্যতা, সবমিলিয়ে ভারতীয় রাজনীতিতে তিনি অন্য মাত্রায় বিরাজ করতেন। আপনি সদা আমাদের স্মৃতিতে বিদ্যমান থাকবেন। সুষমা স্বরাজ বারবার লোকসভা ও বিধানসভার সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রমাণ করেছিলেন যে তিনি ভারতের রাজনীতিতে অসাধারণ জনপ্রিয়তার অধিকারিণী।

২০১৬ সালে কিডনি প্রতিস্থাপন হওয়ার পর থেকে জীবনযাপনে বিধিনিষেধ চলে এসেছিল। শারীরিক ভাবে সক্রিয় রাজনীতিতে কুলিয়ে উঠতে পারছিলেন না। তাই প্রচণ্ড জনপ্রিয়তা থাকা স্বত্তেও ২০১৯ সালে লোকসভার নির্বাচনে স্বেচ্ছায় নিজেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। মাত্র ৬৭ বছর বয়সে এই ভাবে তিনি ইহলোকের মায়া ত্যাগ করবেন তা কল্পনার অতীত।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মন্তব্য করেছেন- “সুষমা স্বরাজের মৃত্যুতে ভারতের রাজনীতি থেকে একটি ঐশ্বর্যময় অধ্যায়ের অবসান হলো”।

সুষমা স্বরাজের সঙ্গে সাধারন মানুষের সম্পর্ক ছিল অনায়াস। নিজেকে অতি সহজ করে তুলেছিলেন। তার অধীন মন্ত্রণালয়ে যে কেউ তার সঙ্গে সহজে সাক্ষাত করতে পারতেন। নিয়মিত টুইট করতেন, লোকজনের টুইটের জবাব দিতেন। এভাবে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে  থাকা ভারতীয়দের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতেন এবং হতাশায় থাকা ভারতীয়দের সহায়তায় উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে বিন্দুমাত্র পিছপা হতেন না।

যেহেতু খুব অল্প বয়সে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের একজন সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু তাই তার রাজনৈতিক জীবন বাকিদের থেকে বেশ খানিকটা বড়। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি অনেক সময় দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়েও কথা বলেছেন। বিশেষত অন্যায়ের বিরুদ্ধে। যা উচিৎ সেটাই সমর্থন করেছেন।

একবার এক সিনিয়র রাজনীতিক অন্য দল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর, পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপমানজনক মন্তব্য করেন। ফুঁসে উঠেছিলেন সুষমা স্বরাজ। সংসদের মধ্যে প্রকাশ্যে সেই সাংসদকে তার মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে বলেন।

ভারতীয় সংসদে তিনিই প্রথম নারী যার ঝুলিতে ‘আউটস্ট্যান্ডিং পার্লামেন্টারিয়ান এওয়ার্ড’টি রাখা আছে। এ ছাড়া এযাবতকালে পূর্ণ মেয়াদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী তিনিই প্রথম।ভারতের রাজনীতিতে তার উত্থান এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। মাত্র ২৫ বছর বয়সে ১৯৭৭ সালে তিনি সবচেয়ে কম বয়সী মন্ত্রী নির্বাচিত হন। তিনিই প্রথম দিল্লির নারী মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি দলে তিনিই প্রথম নারী মুখপাত্র।

আমার অন্তরের সব শ্রদ্ধা জানিয়ে আপনার মহান আত্মার শান্তি কামনা করছি।

দেবাশীষ পাইন

দেবাশীষ পাইন

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *