আজ রাশিয়ায় অক্টোবর বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন– লেলিন

১৯১৭ সালে রুশ দেশে অক্টোবর বিপ্লব ১০০ বছরে পদার্পণ করল।সারা পৃথিবীকে চমকে ও বদলে দিয়েছিল এই বিপ্লব।শুধুই যে শাসনের পরিবর্তন হয়েছিল এমনটা নয়।পরিবর্তন হয়েছিল  চিন্তায়, দৃষ্টিভঙ্গিতে, রাজনীতি ও সংস্কৃতি, সমাজব্যবস্থায়,মানবিক সম্পর্কে।

october_21মুক্তকামী মানুষের মুক্ত সমাজ’ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অক্টোবর বিপ্লব মানবসভ্যতায় সূচনা করেছিল এক নতুন যুগের।অক্টোবর বিপ্লব পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করে, সৃষ্টি করে বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের এক নতুন আন্তর্জাতিকতা।তাই শতবর্ষ অতিক্রান্ত অক্টোবর বিপ্লব আজও প্রাসঙ্গিক।

রাশিয়ার শ্রমিক-কৃষক মেহনতি মানুষ লেনিন ও বলশেভিক পার্টির নেতৃত্বে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিল।‘রুটি ও জমি’র-স্লোগানকে সামনে রেখে শ্রমিক-কৃষক-জনতার লালবাহিনী রাশিয়ার তৎকালীন বুর্জোয়া সরকারকে উত্খাত করে। প্রতিষ্ঠিত হয় সোভিয়েত ইউনিয়ন। পার্লামেন্টে বুর্জুয়া প্রতিনিধিদের সব ক্ষমতা চলে গিয়েছিল মেহনতি,শোষিত ও নিপীড়িত মানুষের প্রতিনিধিদের কাছে। অক্টোবর বিপ্লবের ফলে দেশে দেশে শুরু হয় শোষণ ও নিপীড়নমূলক রাষ্ট্র কাঠামোকে ভেঙে ফেলার কাজ। সাম্য, মৈত্রী,স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের নতুন অর্থ উন্মোচিত হলো। এই বিপ্লব বুঝিয়ে দিল যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রথম শর্ত হচ্ছে দার্শনিক ইহজাগতিকতা ও রাজনৈতিক ধর্মনিরপেক্ষতা। মানুষ বুঝতে শিখল যে গণতন্ত্র কখনোই গণতান্ত্রিক হবে না, যদি না নাগরিকদের ভেতর অধিকার ও সুযোগের সাম্য থাকে। নারী-পুরুষের সম্পর্ক ও বিবাহের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হল স্বাভাবিক ও সমান অধিকার। নারীমুক্তি ছাড়া যে সামাজিক মুক্তি সম্ভব নয় তা দেখিয়ে দিল। প্রমাণ করল যে মানুষের ভেতর যে সৃষ্টিশীলতা আছে তাকে মুক্ত করলে তবেই অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। বিপ্লব জানিয়ে দিল যে মানুষের ইতিহাস শ্রেণিসংগ্রামেরই ইতিহাস এবং সভ্যতা এগোয় মেহনতি মানুষের শ্রমের কারণেই। অবসান ঘটাল পুঁজির অমানবিক দাসত্ব ও দুঃশাসনের। বিপ্লব ব্যক্তিমালিকানার জায়গায় পর্যায়ক্রমে নিয়ে এলো সামাজিক মালিকানাকে।

সোভিয়েত ইউনিয়নকে ধ্বংস করার জন্য ব্রিটেন, ফ্রান্স, আমেরিকাসহ ১৬টি দেশ সেনাবাহিনী প্রেরণ করেছে। চেষ্টা করা হয়েছে লেনিনকে হত্যা করার।তবুও সোভিয়েত ইউনিয়ন টিকে গেছে।সারা বিশ্বের মেহনতি মানুষরা সে সময় নবগঠিত সোভিয়েত রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। ১৯৩০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভ্রমণ করে তাই বিস্ময়াভিভূত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘রাশিয়ার চিঠি’তে লেখেন, ‘রাশিয়ায় এসেছি—না হলে এ জন্মের তীর্থদর্শন অত্যন্ত অসমাপ্ত থাকত। ’ তাঁর মতে, রাশিয়া তাদের কর্মকাণ্ডে সাধারণের কাজ,সাধারণের চিত্ত, সাধারণের স্বত্ব বলে একটা অসাধারণ ‘সত্তা সৃষ্টি করতে পেরেছে।’

সোভিয়েত ইউনিয়ন আজ আর নেই।কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপর্যয় অক্টোবর বিপ্লবের মাহাত্ম্যকে কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন করেনি, বরং তার তাত্পর্যকে আরো উজ্জ্বল করে তুলেছে।এই বছর মহান অক্টোবর বিপ্লবের শততমবার্ষিকী। সারা বিশ্বের শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষ অক্টোবর বিপ্লবের শতবর্ষ উদ্‌যাপন করছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *