“অ্যাব তেরা ক্যা হোগা–মুকুল”(পর্ব ২)লিখেছেন-কালের কণ্ঠ

west-bengal-chief-minister-mamata-banerjee-and-trinamool-congress-general-secretary-mukul-roy-dur-300x178একিলাস থাকলে ব্রুটাসরাও থাকবে। তবে কিনা এটা ২০১৭। সব দুর্বলতা জানা সত্ত্বেও এখন ব্রুটাসরা অসহায়। যেমন ধরুন মুকুল রায়। না, উনি ব্রুটাস হয়ে দুর্বলতম জায়গায় আঘাত হানতেই পারেন তবে কতটা কার্যকরী হবে সেটাই দেখার। সত্যি এখন রাজ্য রাজনীতির একটাই আলোচনার বিষয় মুকুল রায় শেষ পর্যন্ত কি করবেন? আর জাতীয় স্তরে একটাই প্রশ্ন বিজেপি কি সারদা-নারদাতে জড়ানো নাম মুকুল রায়কে তামা তুলসি দিয়ে শুদ্ধ করে ঘরে তুলবেন? তাহলে বিজেপির হুঙ্কারের কি হল? সারদা-নারদা’তে অভিযুক্ত কাউকে ছাড়া হবেনা!!!
তো, মুকুল ফির তেরা ক্যা হোগা?
তাহলে কি নিজের দল ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেসের হয়েই নিজের পরবর্তী রাজনৈতিক জীবন শুরু করবেন? কিন্তু সে প্রচেষ্টায় বালি ঢেলে দিয়েছেন মমতা ব্যাণার্জী আগেই।একসময়ের তৃণমূল কংগ্রেসে মমতার পরই দ্বিতীয় ব্যক্তি মুকুল রায়কে নিয়ে সকলেরই এক প্রশ্ন এমন কেন হল। মমতার ছায়াসঙ্গী অথবা তার ল্যেফটানান্ট ইন কম্যান্ড মমতার আগে নিজেই বহু দলীয় সমস্যার সমাধান করে দিতেন। তাকেই আজ অর্ধচন্দ্র দিলেন মমতা দেবী। কেন?  বিধানসভার টিকিটে হেরে যাওয়া মানুষটিকে প্রথমে রাজ্যসভার সংসদ পরে রেলমন্ত্রী অবধি বানিয়েছিলেন। তাকেই কিনা দল ছাড়তে হল!! আসলে দক্ষ সংগঠক মুকুল রায় তার সবটা দিয়ে যেমন সংগঠনকে মজবুত করতে সাহায্য করেছিলেন পুরষ্কার স্বরূপ  মমতা দেবীও তাকে অনেকটাই দিয়েছেন। তবে তখন ছিল সুখের সময়। মানে ২০১৪ সারদাতে সিবিআই ডাকার আগে অবধি। কুণাল, মদন, সৃঞ্জয়, যখন জেলে বসে  তখন সিবিআই এর জেরার পর হাস্যরত মুখে মুকুলের প্রর্তাবর্তন মমতাদেবী সহ অনেকেরই ভ্রু ধনুক করে ছেড়েছিল। শুরুয়াত। এরপর যুবরাজ অভিষেকের উত্থান আর মুকুলের ঝরার সময়।

২০১৫তে একটু মিলমিশ হলেও ভাঙা আয়নার দাগ থেকেই গেছিল। শুরু হয়েছিল ডানা ছাঁটা। মুকুল রায় বুঝতে পেরে কয়েকজন বিধায়ক কে নিয়ে শুরু করলেন প্রস্তুতি। নতুন দল গঠনের। সেই বিধায়কদের সাময়িক সাসপেন্ড করা হলেও তারা আবার মুল স্রোতে ফিরে এলেন।মুকুল রায় আরও ব্রাত্য হয়ে পড়লেন। আসলে দিবা স্বপ্নে বিভোর মুকুল ভাবলেন হাত ছেড়ে সাবলম্বী হবেন কিন্তু ফল হল উল্টো। ছত্রছায়া সরে গিয়ে চাঁদিফাটা রোদে ভিমরী খাওয়ার জোগাড় হল। মুকুল ভাবলেন মমতা দেবীর আর আগের মত জনপ্রিয়তা নেই আর আমিও তার ছায়াসঙ্গী, দলের আটঘাট জানি অতএব আমিই দ্বিতীয় মমতা। কিন্তু বাস্তবটা উল্টো। জনপ্রিয়তায় কমবেশী হতেই পারে কিন্তু আজও তিনি মমতা ব্যাণার্জী। ভবিষ্যতের কথা ছেড়ে দিয়ে বলতে পারি আজও শুধু তার নামেই সব বিধায়কদের ভোট বৈতরণী পার হতে হয়।যতই সারদা নারদার কলঙ্ক মাথায় থাক। মমতার জনপ্রিয়তার সিকি ভাগও যদি মুকুলের থাকত তাহলে ইন্ডোর স্টেডিয়ামের বাইরে আরেকটা আউটডোর প্রোগ্রাম বাংলা দেখত।
মুকুল রায়  তৃণমূলের সদস্যপদ ও সাংসদপদে ইস্তফা দিয়েছেন কিন্তু নিজের পরবর্তী রাজনৈতিক জীবন নিয়ে এখনও মুখ খোলেন নি । তাহলে কি. সারদা-নারদ মামলা  বিজেপিতে যোগ দেবার পথে প্রধান অন্তরায়? আর সেই জন্যেই কি মুকুল চেয়েছেন মোহন ভাগবতের সাথে দেখা করতে?
এদিকে অন্যান্য তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে নারদ মামলায় নাম আছে মুকুলেরও। এখন মুকুল বিজেপিতে যোগ দিলে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা গুলোর কি হবে? প্রশ্ন এখানেই।
সারদাতেও তাঁকে জেরা করা হয়েছে, নারদাতেও তাঁর নাম চার্জশিটে আছে, এমন একজন বিজেপিতে যোগ দিয়েছে বলেই ক্লিন চিট দিতে হবে, এমন সম্ভাবনা কম। আবার অন্যদিকে মুকুল বিজেপিতে যোগ দেবার পর আর তো তার বিরুদ্ধে মামলা চালান যাবে না? মামলা চললে তখন বিরোধীদের তরফ থেকেই তোলা হবে প্রশ্ন।
উভয়সঙ্কটে বিজেপি।  তৃণমূলের পক্ষ থেকেই ইস্যু করা হবে যে, সবটাই তৃণমূলকে বিপদে ফেলার জন্য করা হয়েছে। তাই মুকুলের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ তুলে নেওয়া হল। আবার সারদা নারদ- মামলা চালিয়ে অন্যান্য নেতাদের বিপদে ফেলতে গেলে মুকুল রায়ের বিরুদ্ধেও মামলা চালাতে হবে। তখন বিরোধীদের তরফ থেকেই অভিযোগ করা হবে যে নারদ মামলায় জড়িত জেনেও কি করে বিজেপি তাঁকে দলে নিল। ফলে যে সারদা-নারদ মামলাকে কেন্দ্র করে বিজেপি তৃণমূলকে বিপদে ফেলার বড় রাস্তা বলে মনে করছে, সেই মামলা দুটিই এখন মুকুলকে বিজেপিতে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মুকুল রায়ের মত দক্ষ সংগঠককে হাতছাড়া করতেও চাইছেন না বিজেপি নেতারা।সংঘ পরিবারের অনুমতি ছাড়া যে মুকুল বিজেপিতে যোগ দিতে পারবেন না, এটা জলের মত পরিস্কার। সারদা-নারদ কাঁটাই যে এখন বিজেপি ও মুকুলের মধ্যে প্রাচীর তুলে রেখে রেখেছে তা বলাই যায়।বাংলার স্বঘোষিত চাণক্য আজ ‘না ঘর কা না ঘাট কা’। বাংলার মানুষ ভাবছে আব তেরা ক্যা হোগা মুকুল?

কৈলাশ বিজয়বর্গী পরে অমিত শাহ এর সাথে মিটিং এর পর তিনি দল ও সংসদ পদে ইস্তফা দেন।কিছু একটা আশ্বাস পেয়েছেন। সারদা-নারদায় ক্লিনচিট পাওয়ার আশ্বাস না পেলে মুকুল এতটা সাহসী হতে পারত কিনা সন্দেহ আছে। কিন্তু ভাগ মমতা ভাগ বা ভাগ মুকুল ভাগ এই শ্লোগানের নিয়তি কি হবে?বাংলায় যুযুধান দুই রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য, বাংলার আগামী পঞ্চায়েত ভোট। দক্ষ সংগঠক মুকুলককে দলে নিয়ে কি বিজেপি ফাটকা খেলবে?

শাসক তৃণমুল আর প্রতিবাদী বিরোধী তৃণমুলের রাজনৈতিক ভুমিকার আকাশ-পাতাল তফাতের কথা মুকুল বলতেই পারেন।তবে মুকুলের মুখে এই সমালোচনা কতোটা মানায় এ নিয়ে বিতর্ক থাকাটা খুব সঙ্গত।বহু অনৈতিক কাজ তিনি করেছেন যা সংসদীয় রাজনীতিতে বেমানান।মুকুল,সাফাই গাইছেন যা করেছেন সবটাই নেত্রীর নির্দেশে তাহলে ওনার আজকের জাগ্রত বিবেক সেদিন কোথায় ছিল।যেমন, অনৈতিক উপায়ে অন্য দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দল ভাঙ্গিয়ে তৃনমূলে সামিল করান।ইত্যাদি প্রশ্নগুলো সামনে আসতে থাকবে।শেষ সাংবাদিক বৈঠকে সাংবাদিকদের করা এমন ধরনের প্রশ্নের উত্তর আমতা আমতা করে দিয়ে দায় সেরেছেন।প্রশ্ন থাকছেই- পিঠ আর পকেট বাঁচাতে যারা ভোল পাল্টায় তার আর যাই হোক রাজনৈতিক ধর্মের পথে ইমানদার নন কখনই।

তৃণমুলের মতে তদন্তকারী সংস্থাগুলির চাপে নতিস্বীকার করে মুকুল রায় এতদিন তলায় তলায় দলের স্বার্থ-বিরোধী কাজ করেছেন৷তৃনমূলের তরফ থেকে মুকুলের ‘সমান্তরাল সংগঠন ’-এর লোক হিসেবে পরিচিত নেতাদের ক্রমে কোণঠাসা করার উদ্যোগ শুরু হয়েছে৷ দলছুট প্রাক্তন শীর্ষ নেতার অঙ্গুলিহেলনে পুরসভা -পঞ্চায়েতে অনাস্থা আনার প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে৷ পরবর্তী ভোটগুলির কথা মাথায় রেখে মুকুলের অনুগামীরা বহু জেলায় বিধানসভা ভিত্তিক ‘ডেমোগ্রাফি ’ রিপোর্ট তৈরি করেছেন বলেও দলের কাছে খবর৷ সেই রিপোর্টে নতুন করে খতিয়ে দেখা হয়েছে হিন্দু-মুসলিম ভোটারদের সাম্প্রতিকতম অনুপাত , ভাষাগত তারতম্যের মতো তথ্য৷ কালীপুজোর পর বিজেপিতে পাকাপাকি ভাবে মুকুল। ১৪ ই অক্টোবর জাতীয় স্তরের তাবড় হেভিওয়েট নেতাদের নিয়ে কলকাতায় বিজেপির ঘরোয়া মিটিং। বিজেপিতে,মুকুলের জন্য কি পদমর্যাদা হবে তারই বৈঠক। তবে তার কপাল কুসুমাকীর্ণ কখনই নয় কারণ ঘাড়ের ওপর নিশ্বাস ফেলছে দিলীপ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *