“অ্যাব তেরা ক্যা হোগা–মুকুল”, লিখেছেন-কালের কণ্ঠ

west-bengal-chief-minister-mamata-banerjee-and-trinamool-congress-general-secretary-mukul-roy-durবলা যেতে পারে তিনি তৃণমুল কংগ্রেসের এক সময়ের মুকুটহীন সম্রাট। মমতা ব্যাণার্জীর অত্যন্ত আস্থা ভাজন মুকুল রায় আজ দলে ব্রাত্য। কেন?
১৯৯৭ সাল থেকেই মুকুল রায়ের কথা অনুযায়ী  তৃণমুল দল গঠন করতে মমতা ব্যাণার্জীর ছায়া সঙ্গী ছিলেন। দিনের পর দিন সংগঠনকে মজবুত করতে পরিশ্রম করেছেন। মমতা ব্যাণার্জীও তাকে বিশ্বাস করতেন এবং যথেষ্ট মর্যাদা দিতেন। আর আজ তিনি বাতিলের দলে। কবে থেকে শুরুয়াত!! কি তবে সারদা??
সারদা কেলেঙ্কারী নিয়ে দলে যখন যথেষ্ট অস্বস্তিতে তখনোও মমতা ব্যাণার্জী নিজে উদ্যোদ নিয়ে মুকুল রায়কে আগলেছেন। এমনকি ২০১৪ সালে লোকসভার নির্বাচনের আগে কলকাতার বুকে দাঁড়িয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় নেতৃত্ব মমতা ব্যাণার্জীর সাথে মুকুল রায়কেও কটাক্ষ করেন । এতেই বোঝা যায় দলে তার কতটা গুরুত্ব ছিল।
রাজ্য-রাজনীতির বর্তমানে একটাই আলোচনা কি হতে চলেছে, মুকুল রায়ের বহিষ্কার না কি দলত্যাগ ? দু-পক্ষই এ ব্যাপারে একটা হেস্তনেস্ত করতে চাইছে। গত কয়েকদিনে একের পর এক পদ থেকে মুকুলবাবুকে সরিয়ে দিয়ে তাঁর ডানা ছেঁটেই ফেলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷   প্রকাশ্যেই মুকুলকে অসম্মান করা শুরু করল তৃণমূল, যার লক্ষ্য, ধারাবাহিক অপমানে কোণঠাসা নেতা যাতে দল ছেড়ে দিতে বাধ্য হন৷ সেই লক্ষ্যেই কোনও নেতা মুকুলবাবুকে কেরানি, কেউ বা বিজেপির খপ্পরে পরা টোপ, কারো মতে সন্ত্রাসের মদত দাতা এই সব মন্তব্য করে  কটাক্ষ হয়েই চলেছে। এসবের উওরে- মুকুল, সেফ সাইড খেলেছেন। তার মতে উইকেট আঁকড়ে পরে থাকি তাহলে রান বাড়তে বাধ্য। আসলে তিনি চাইছেন শহীদের মর্যাদা পেতে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইছেন মুকুলকে বহিষ্কার না-করতে। রাজনৈতিক ফায়দা মুকুল রায়কে তিনি পেতে দেবেন না। ধৈর্য ধরছেন মুকুল বাবুও।  ‘পথ দেখার’ বার্তা পেয়েও এ দিন সদ্য প্রাক্তন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক  যথেষ্টই স্বাভাবিক আছেন৷ সিবিআইয়ের নোটিস পাওয়ার পর তাঁকে বেশ বিচলিত দেখিয়েছিল৷ এই প্রবল রাজনৈতিক সংকটেও তাঁর চোখে মুখে টেনশনের কোনও ছাপ নেই৷ ঠান্ডা মাথার মুকুলকে নিয়ে বহুদিন ধরেই তৃণমূলে ‘মুকুল-কুল’ বলে একটা কথা চালু আছে৷ সেই মেজাজেই দেখা গিয়েছে দলে ব্রাত্য, একঘরে এই নেতাকে৷ বয়সে ছোট, পদমর্যাদাতেও এতদিন তাঁর থেকে অনেক নীচের সারির নেতাদের কটাক্ষ, বিদ্রুপের জবাবে বলেছেন- ‘আমি এ সব এনজয় করছি৷ বিক্ষুব্ধ নেতার এই ধীর স্থির মনোভাব অস্বস্তি বাড়িয়েছে তৃণমূল দলে৷ দলও বলছে মুকুল রায় এখনো এমন কিছুই দল বিরোধী কথা বলেননি যে তাকে অর্ধচন্দ্র দেওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়েছে।তিনি এখন স্রেফ তৃণমূলের একজন সাধারণ সদস্য এবং রাজ্যসভার সাংসদ মাত্র৷

দলের কোর কমিটিতে থাকলেও খোদ তৃণমূল কংগ্রেসেই এখন উপেক্ষিত মুকুল রায় এবং মদন মিত্র। এ দিকে, নারদকাণ্ডে সিবিআইয়ের এফআইআরে এক এবং দুই নম্বরে নাম রয়েছে এই দু’জনের। তার উপর, নিজেদের রাজনৈতিক জীবনের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে সরাসরি বিজেপিতে যোগদান করতে না পারলেও, নারদকাণ্ডে অভিযুক্তদের পৃথক দল গঠনের চর্চাও জারি রয়েছে ঘাসফুল শিবিরের বিভিন্ন অংশে।
বিজেপির লক্ষ্য ২০১৯। হাঁ করে তাকিয়ে পশ্চিমবঙ্গের দিকে। তাই পশ্চিমবঙ্গকে পেতে গেলে চাই তৃণমুলের ভাঙন।বিজেপি’র আসল উদ্দেশ্য সেটাই। সারদাতে অপদস্থ কিন্তু নারদাতে বিপর্যস্ত মুকুল রায় তাই কি সব বাঁচাতে মরিয়া হয়ে বিজেপির সাথে ফল্গু যোগাযোগে লিপ্ত হলেন?

কোর কমিটির বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গ ত্যাগ করার ‘নির্দেশ’ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিলেন বলেই মনে করছে দলের অনেকেই।
দলনেত্রী এমনই জানিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে, বিজেপির সঙ্গে যাঁরা গোপনে যোগাযোগ রাখছেন, তাঁরা দল ছেড়ে বেরিয়ে যেতে পারেন। এবং, স্বয়ং দলনেত্রীর এই ধরনের মন্তব্যের জেরেই খোদ তৃণমূল কংগ্রেসেরই বিভিন্ন অংশে এখন চর্চা চলছে। কোর কমিটির বৈঠকে এই ধরনের কথা যখন বলেছেন দলনেত্রী, তখন যাঁদের লক্ষ্য করে তিনি এই ‘নির্দেশ’ দিয়েছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তা হলে, তাঁরা, কারা?
শুধুমাত্র তাই নয়। একই সঙ্গে ঘাসফুল শিবিরের ওই সব অংশে এমন চর্চাও চলছে যে, বিজেপির তরফে বিভিন্ন সময় দাবি করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের অনেকেই আগামী দিনে গেরুয়া শিবিরে যোগদান করবেন। বিজেপির তরফেও তৃণমূল কংগ্রেসের এমন কোনও কোনও নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। তাঁদের কেউ আবার এ রাজ্যের মন্ত্রী হিসাবেও রয়েছেন।
আসলে রাজনীতিতে কেউই অপরিহার্য নয় তেমন প্রিয়পাত্র চিরকালীন কেউ থাকেন না। ব্রুটাসরা সব কালেই থেকে যায়। খুব মনে পড়ছে কংগ্রেস নেতা সোমেন মিত্রের একটা কথা- ” শত ঘোষ (দা)কে সরিয়ে আমি তারক  ব্যানার্জীকে পদ দিলাম। প্রদেশ কংগ্রেসে অর্গানাইজিং সেক্রেটারীর পদ তৈরী করলাম। শত ঘোষ, সেদিন বলে ছিলেন এই তারক ও তোর সাথে শেষ মুহুর্তে থাকবে না”। রাজনীতির বদল আসে পাশার চালে।
যাই হোক মুকুল বাবু কিন্তু ‘কুল’। বারংবার সব প্রশ্নের উওর যত্ন যহকারে এড়িয়ে গেছেন। তার বাড়ীর পুজো নিয়েই তিনি এখন ব্যস্ত।
বিশ্বকর্মা পুজোর দিন ভবনে তাকে ডাকা হয়েছিল, তিনি যান নি। নিজের কিছু প্রিয়জনকে নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। বল্ক স্তরের কর্মীদের নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তাহলে কি গুটি সাজানো শুরু? আরো খবর রাষ্ট্রপতির সাথেও দেখা করতে চেয়েছেন তিনি। যাকে তৃণমুল ভোট দেয়নি। যদিও মমতা ব্যাণার্জী নবনিযুক্ত রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা পাঠিয়েছিলেন কিন্তু তাতেও বরফ গলেনি। একের পর এক সব দরজা বন্ধ করে কোন নতুন সিংহদ্বার খুলতে চলেছেন মুকুল রায়?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *