অধীর রঞ্জন চৌধুরী,আপনাকে কুর্নিশ– সৌম্য আইচ রায়।

adhirchowdhary2-lead--1-_730x419আজ সকালে একটা কথা খুব মনে পড়ে গেলো,প্রাসঙ্গিক কিনা সেটা আপনাদের বিচারের ওপর ছেড়ে দিলাম।

” অযোগ্য নেতৃত্ব, নিতিহীন নেতা ও কাপুরুষ রাজনীতিবিদের সাথে কোন দিন এক সাথে হয়ে দেশের কাজে নামতে নেই। তাতে দেশ সেবার চেয়ে দেশের ও জনগনের সর্বনাশ ই বেশী হয়” — বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান

আজ বাংলার নেত্রীর অবস্থান শুধু লজ্জার নয়,ভয়ঙ্কর। গনতান্ত্রিক পরিকাঠামোর ওপর চরম কুঠারাঘাত। এই নির্লজ্জতার আগুনে পুড়তে হবে সব গনতন্ত্র প্রিয় মানুষকেই। বাংলার ১০ কোটি মানুষকে মূর্খ ভাবার জঘন্য প্রয়াস চলছে।

মার্টিন লুথার কিং’এর সেই বিখ্যাত উক্তি ভুলে গেলে চলবে না- “Never forget that everything Hitlar did in Germany was legal”

শিরদাঁড়া সোজা করে বিরোধী নেতা অধীর চৌধুরী যে কথা বলতে পারছেন, বাকি নেতারা কেন বলতে পারছেন না? এটা নিয়ে বাংলায় একটা চর্চা শুরু হয়ে গেছে। সাদা কালোর তফাত বুঝেও বিরোধী দলের সব নেতাদের দায় সারা কথা কি অযোগ্যতার নিদর্শন নয়? গনতন্ত্র রক্ষায় দায় ও দায়িত্ব কি বিরোধী দলগুলোর ওপর বর্তায় না?

সোজা সাপটা, সত্যি কথা বলার সাহস দেখানো নেতাই তো আগামী প্রজন্মের আশা ভরসা। এই হতাসাগ্রস্থ বাংলার, অপমানিত মানুষের অন্তর আত্মা অধীর চৌধুরী আপনাকে কুর্নিশ।

দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে বাংলায় তৃনমূল বিরোধী শক্তিকে এক জায়গায় করে ফেলেছিলেন। বাংলা বাঁচাতে। আজ মানুষ বুঝতে পারছেন ওনার দূরদৃষ্টি কতটা সঠিক ছিল।

এই বাংলায় অতীতে অনেক রাজনৈতিক লড়াই হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার পর কোন রাজনৈতিক দল বোধহয় এমন নগ্নতায় পৌঁছয় নি। যেখানে স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভোউমতব, সংবিধান, রাষ্ট্র ব্যবস্থা, রাষ্ট্রের দ্বারাই আক্রান্ত। নিতিহীন নেতা, চোর লুটেরা এবং লম্পটরা এখন সংবিধানের শপথ নিয়ে সংবিধানকেই টুকরো টুকরো করছে। তখনই তো বাংলা মায়ের দামাল ছেলে, অধীর চৌধুরীদের দরকার হয়ে পড়েছে। জেগে ঘুমানো নেতাদের দিবা নিদ্রা থেকে ওঠানোর সতর্ক ঘণ্টির নাম- অধীর চৌধুরী।

সারা বাংলায় যুব সমাজ,সাম্প্রদায়িকতার ধারক বাহক স্বৈরাচারী বিজেপি আর তার দোসর তৃনমূলের ছদ্মযুদ্ধ বুঝে গেছে। দরকার শুধু একটু অগ্নি শলাকার।

হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা,আপনি রাজ্যবাসীর লড়াইয়ের শক্তি। আপনিই ঠিক,বাকিরা বুঝবে হয়তো অনেক দেরিতে, কিন্তু আজ আপনাকে আমাদের ভীষণ দরকার।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, পাপকে ঠেকানোর জন্য কিছু না করাটাই পাপ। বিজেপি নামক স্বৈরাচারী শক্তির পরাজয় নিশ্চিত করতে, স্বৈরাচারী ত্রিনমুলের করুনা পার্থনা করা বা সমর্থন করা এক ভয়ঙ্কর পরিনতির দিকে ঠেলে দেবে রাজ্যবাসিকে। এই সত্যটা অধীর চৌধুরী অনেক আগেই বুঝেছেন এবং অন্যকে বুঝিয়েছেন। তৈরি হতে হবে সবাইকেই। লড়াইটা শুধু কোন রাজনৈতিক দলের নয়, অথবা ব্যক্তি অধীর চৌধুরীর নয়। এটা বেঁচে থাকার লড়াই, সবাইকে নিয়ে সন্মানের সঙ্গে টিকে থাকার লড়াই।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের থেকে দির্ঘদিনের লড়াইয়ের ফসল ছিনিয়ে আনা স্বাধীনতা আজ ভূলুণ্ঠিত। আবার নতুন করে স্বসন্মানে স্বাধীনতা ও গনতন্ত্র বাঁচিয়ে রাখার লড়াই শুরু হয়ে গেলো।

সৌম্য আইচ রায়

সৌম্য আইচ রায়

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *