“অতএব এ দেশে এখন হনুমানরাজ”– সুজাতা ভৌমিক মণ্ডল

rss-connection-of-bjpআমরাও তাই ভরসায় বুক বাঁধছি। ভুত তাড়াতে হনমানশীলাচাল্লিশার কথা সকলেই জানেন। তাহলে কি মিথ্যাচারিতা, ভন্ডামি, ধর্মান্ধতার ভুত শীঘ্রই ডিজিটাল ইন্ডিয়া থেকে বিতারিত হবে?
সব থেকে সুখের কথা কলেজে পা দেওয়া সন্তানের বখে যাওয়া নিয়ে আর মা বাবাকে ভাবতে হবে না। কারণ গড়ে উঠেছে রোমিও দমন বাহিনী।আশা করা যায় কালেদিনে তা সমস্ত ভারতেও ছড়িয়ে পড়বে। দেশ এগোচ্ছে দাদা। সবকে সাথ সবকা বিকাশ। দেশ এগোচ্ছে।কোনভাবেই এই এগোনোকে  থামানা যাবে না। প্রয়োজনে কোন শিক্ষাবিদ, বিঞ্জানী বা সমাজসচেতক কোন কথা বললেই কয়েকটা বুলেটই যথেষ্ট। মাদুলি কবচ ছিল,আছে ও থাকবে তা নিয়ে শিক্ষিত সমাজের মাথা ব্যথা কেন? আরে বাবা শিক্ষা ডিজিটাল ইন্ডিয়া কি শেখায়? লেখা পড়া করে যে গাড়ি চাপা পড়ে সে।আর কি শেখায়? শেখায় কবির কলম থামাও আর মহিলা কবি হলে সোজা ধর্ষণের ফতোয়া। মহিলা মানুষের  আবার প্রতিবাদ কি শুনি?
আজকের হিরক রাজা থুরি ভারত রাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রী অনেক বড়ো ছাতিওয়ালা মানুষ। উনি বেতারে মন কি বাত করেন। মানে নিজের মনের কথা পরিষ্কার বলে দেন তার পরও যদি সাম্প্রদায়িক বলে চিৎকার করেন তার দায় দেশবাসীর।
রামভক্তের রাজত্বে মন্দির হবেই। হিন্দু ধর্মের পতাকাই উড়বে। ভারতের সুপ্রাচীন সভ্যতা ও সংস্কৃতির মধ্যের সহিষ্ণুতা ওসব প্রাচীন কথা আধুনিক ডিজিটাল ইন্ডিয়ায় একটি সংকীর্ণ ধর্মীয় মোড়কে দেশকে পুরে ফেলা হবে।

তাই রাজনীতির ময়দানে সংঘ পরিবারের প্রধান মোহন ভাগবতের ‘হিন্দুস্তান-হিন্দু’ বলে প্রবল বিতর্কের ঝড় তোলেন। বিজেপির আদর্শগত চালিকাশক্তি আরএসএসে’র সভাপতি মন্তব্য করেন, ভারতবর্ষ হিন্দু রাষ্ট্র তাই ভারতের সব নাগরিককে হিন্দুই বলতে হবে।এই তাঁর দাবি ও যুক্তি। গোটা দুনিয়া ভারতীয়দের হিন্দু বলেই মানে।তাই ভারতবর্ষ হিন্দু রাষ্ট্র।ব্যাপারটা তো জলের মতো সহজ- ইংল্যান্ডের লোককে যদি ইংরেজ বলতে হয়, জার্মানির বাসিন্দাদের জার্মান, আমেরিকার নাগরিকদের আমেরিকান, তবে হিন্দুস্তানের সব বাসিন্দাই তো হিন্দু!

স্বাভাবিকভাবেই তাঁর এহেন বক্তব্যে ক্ষুব্ধ দেশবাসী কড়া ভাষায় ভাগবতের হিন্দুত্ববাদী সওয়ালের বিরোধিতা করেন। কংগ্রেসের মুখপাত্র থেকে শুরু করে সিপিএম পলিটব্যুরো সদস্য সীতারাম ইয়েচুরি।তবু থামানো যাবেনা হিন্দুত্বের প্রচার।ভাগবত বলেন, হিন্দুত্বই সব ভারতীয়ের সাংস্কৃতিক পরিচয়।দেশের বর্তমান বাসিন্দারা সকলেই এই মহান সংস্কৃতির উত্তরসূরী।

হিন্দুত্ব একটি জীবনধারা, এই দাবি করে সংঘ-প্রধান ব্যাখ্যা করেন, যে কোনও ধর্মের মানুষ, তিনি কোনও দেবদেবীকে পুজো করুন বা না করুন, হিন্দু হতে পারেন।নিজের দাবির স্বপক্ষে বিবেকানন্দকে উল্লেখ করেন তিনি।বলেন, কেউ একজন কোনও দেবদেবীরই পুজো করেন না, তার মানে এই নয় তিনি নাস্তিক।বরং যাঁর নিজের মধ্যেই বিশ্বাস-ভক্তি নেই, তাঁকে নাস্তিক বলা যায়।
ভাগবতের দাবি, এত অজস্র  বৈচিত্র্য সত্ত্বেও সেই প্রাচীন যুগ থেকে ভারত অটুট থাকার একমাত্র ভিত্তি হল হিন্দুত্ব। সেটা আজ বুঝতে পারছে সমগ্র বিশ্ব।কিন্তু ভারতে কিছু কিছু লোক সেটা বুঝতে পারেন না।এ নিয়ে কোনও বিতর্ক, আলোচনা উঠলেই যিনি নিজেকে হিন্দু বলেন, তাঁকে সাম্প্রদায়িক তকমা মেরে দেওয়া হয়।ভাগবত এও বলেন, যেদিকেই তাকাও শুধু অন্ধকার।গোটা দুনিয়া কিন্তু আলোর দিশা চেয়ে ভারতের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে।কেননা আজও ভারত ন্যায়ের পথে রয়েছে।ভারতে যতদিন ধর্ম থাকবে, পৃথিবী তাকে সম্ভ্রমের চোখে দেখবে।কিন্তু যেদিন ধর্ম বিদায় নেবে, বিশ্বের কোনও শক্তি ভারতের পতন রোধ করতে পারবে না। এদেশেই কি সেই লাঙট পরা ফকির বলেছিলেন “রঘুপতি রাঘব রাজা রাম পাতিত পাবন সীতারাম-ঈশ্বর আল্লা তেরো নাম সবকো সম্মতি দে ভগবান” কে জানে হবে হয়তো!!

কিন্তু ভারতবাসী মানেই হিন্দু, ভাগবতের দাবি খারিজ করে সমালোচকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, সংবিধান কিন্তু ইন্ডিয়ার বদলে ‘হিন্দুস্তান’ নয়, ‘ভারত’ নামটি দিয়েছে। ভাগবত সংবিধানের ধার ধারেন না। কিসের সংবিধান? আম্বেদকর সাহেব? ওনার লেখাও পড়তে হবেতো তাহলে। ভারত অনেকগুলি প্রদেশকে নিয়ে গঠিত দেশ।সংবিধানের রচয়িতারা হিন্দুস্তান নয়, ইন্ডিয়া বা ভারত নামটি ব্যবহার করেছেন এই বাস্তবটা বোঝে না আরএসএস। সংবিধান বলছে, ভারত যা হল ভারত, হিন্দুস্তান বলতেই পারেন, কিন্তু আসলে তা ভারত। আম্বেদকরজি যখন সংবিধান লেখেন, তিনি কিন্তু মাথায় রেখেছিলেন, এ দেশে নানা ধর্ম, মতের মানুষ থাকেন তাই হিন্দুস্তান নয়, ভারত নামটি দেওয়া সমুচিন হবে।আরএসএস সভাপতির সংবিধান জ্ঞান নেই। থাকার দরকার কি? তিনি যা জানেন তা কেউ জানেনা।
শাসক গোষ্ঠী তার সংকীর্ণ স্বার্থসিদ্ধির জন্য একটি গোষ্ঠীর ভাবাবেগকে প্রশয় দিচ্ছে। হোক না তা রাষ্ট্রের পক্ষে সংকটের। আসলে বাঁচতে গেলে গোদী বাঁচাতে গেলে এমন একটু চলে।বায়বীয় একটি ধারণাকে সামনে রেখে আতঙ্কের বাতাবরণ তৈরী করে জনগণকে যতোটা পারা যাক ভয়ভীতি বা ভ্রান্ত ধারণায় রাখা যায় ততোই ভালো।
শুধু দেশ নয় বিশ্বও বোধহয় বদলাচ্ছে। না হলে কি আর ট্রাম্প রাজ চলে? তার চাইতে যোগীরাজ আর মন্দ কিসে?
যাকগে আমাদের কি। বদলে গা ভাসাই? বিলকিস বানুর কথা মনেই আনবোনা? গোবিন্দ পানসরে বা  কালবুর্গির পরিণতি ভেবে একটু দীর্ঘশ্বাস। ব্যস আর কি। তবু চেতনা মাঝে মাঝে প্রতিবাদ করে। কলমও সচল হয়। তাই ভাবছি- যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলরে।

AIbEiAIAAABDCNS546auuqOfXSILdmNhcmRfcGhvdG8qKGJlNjIxZDFjMDhlNzI0NTA3ZjUzYjczZmEwY2Q4ODc4YTk5OThkODIwAZysZUvWdCMmHMbpImch9e2zYBc3

সুজাতা ভৌমিক মণ্ডল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *