হতে চলেছে,কলকাতায় ভুতের বাড়ী পর্যটন।

maxresdefault কথায় আছে অশরীরীরা গল্প বলে না। কিন্তু অশরীরীদের নিয়ে হাড় হিম করা আষাঢ়ে গল্পের অভাব নেই। এই সব গল্পের দালানকোঠা এ বার পর্যটকদের জন্য খুলে দিতে চলেছে রাজ্য পর্যটন দফতর। ভাঙাচোরা ঘর- বারান্দা। এখানে ওখানে মাকড়সার জাল। শ্যাওলা দাগ ধরা ঘর-দেয়াল। বাদুরের ডানা ঝাপটিয়ে উড়ে যাওয়া। অভ্যর্থনা জানাতে সামনে দাঁড়িয়ে একটি কঙ্কাল। আচমকা পিলে চমকানো তীক্ষ্ন আওয়াজ। 15এই ধরনের পর্যটন মডেল  বিদেশে খুব জনপ্রিয়। আমেরিকা বা ব্রিটেনের মতো দেশে ভুতুড়ে বাড়ি ঘিরে পর্যটন খুবই প্রচলিত। এ ব্যাপারে সব চেয়ে এগিয়ে সম্ভবত স্কটল্যান্ড। স্কটিশ রাজধানী এডিনবরায় ভুতুড়ে পর্যটনকেন্দ্রের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু ভুতুড়ে পরিবেশে ভয় পেয়ে পর্যটকেরা দূরে সরে থাকবেন না তো? “ঠিক তার উল্টোটা। এই ধরনের হাড় হিম করা অভিজ্ঞতাই অনেকে পেতে চান। এই আয়োজন তাঁদেরই জন্য। hastingsআজকাল বিভিন্ন মল, সায়েন্স মিউজিয়াম বা বিনোদন পার্কে মজুত থাকে এই ধরনের হানাবাড়ি বা ‘স্কেয়ারি হাউস। কৃত্রিম ব্যবস্থাপনায় তৈরি গা ছমছমে বা ভুতুড়ে অনুভূতি। পয়সা দিয়ে কিছু ক্ষণের জন্য আতঙ্ক কেনার আয়োজন। এ বার আর  মল বা বিজ্ঞান পার্কের সংক্ষিপ্ত বিনোদন নয়। বাছাই করা ১০টি হানাবাড়িকে ঘিরে পুরোদস্তুর পর্যটন প্রকল্প তৈরিতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য পর্যটন দফতর।প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্ষুধিত পাষাণ। haunted-putulbari-kolkataরাজ্যের সব জেলাশাসকদের চিঠি দিয়ে জানাতে বলা হয়েছে, এই ধরনের হানাবাড়ির তালিকা ও বিস্তারিত বিবরণ পাঠাতে। ইতিমধ্যে ১০টি পোড়োবাড়ির বছাই পর্ব শেষ। প্রথম দফায় চারটি বাড়িকে ঘিরে শুরু হবে পর্যটন। এর জন্য প্রাথমিক খরচ ধরা হয়েছে দু’কোটি টাকা। পর্যটন দফতর সূত্রের খবর ঐতিহাসিক তাৎপর্য, ঐতিহ্য, কাছাকাছির মধ্যে রিসর্ট ও পার্কিং লট-এর প্রয়োজনীয় জায়গা আছে কি না, সে সব বিচার করেই হানাবাড়িগুলিকে বেছে নেওয়া হবে। কাছের ফাঁকা জমিতে তৈরি হবে বিলাসবহুল কটেজ, যেখানে পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত থাকবে। আর সূর্যাস্তের পর কালো জোব্বা পরা কোনও ব্যক্তি বা মহিলা মোমবাতি হাতে পর্যটকদের ওই হানাবাড়ি ঘুরিয়ে দেখাবেন। গায়ে কাঁটা দেওয়া গল্প শোনাবেন। গা শিরশিরানি ভাব যাতে আরও জাঁকিয়ে বসে, সে জন্য শব্দ ও আলোর খেলায় তৈরি হবে উপযুক্ত পরিবেশ। কোনও রাতে পর্যটকেরা হয়তো শুনতে পাবেন, পোড়ো বাড়ি থেকে ভেসে আসা কণ্ঠস্বর। জোগান দেবেন ইতিহাসের জরুরি তথ্য। প্রাথমিক ভাবে মুশির্দাবাদে মিরজাফরের প্রাসাদ, নদিয়ার করিমপুরের নীলকুঠি কিংবা কলকাতার লর্ড ক্লাইভের বাড়ির কথা তাঁদের মাথায় রয়েছে। ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরাই সরকারের লক্ষ্য। কিন্তু সেটা যদি গা ছমছমে পরিবেশে হয়, তা হলে অনেকে মনে মনে সেই পুরনো সময়ে ফিরে যেতে পারবেন।” ভবিষ্যতে এই প্রকল্প থেকে মোটা আয়ের সম্ভাবনা দেখছে পর্যটন দফতর। এটা হেরিটেজ পর্যটনেরই একটা অঙ্গ। এর দৌলতে ওই বাড়িগুলোরও সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ হবে।

haunted-hastings-house-kolkata

কথাটা তো সত্যিই। বুদ্ধদেব বসু সেই কবেই বলেছিলেন, “ভূত আমাদের অন্তরের একটা অনুভূতি। আমরাই তাকে সৃষ্টি করেছি মনের ইচ্ছা থেকে। ভূত আমরা চাই।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *