মেলার পর ঘুরে আসুন-“গঙ্গা সাগর”

A "Sadhu", or a Hindu holy man, takes a dip at the confluence of the river Ganges and the Bay of Bengal, ahead of the "Makar Sankranti" festival at Sagar Island, south of Kolkata January 13, 2015. REUTERS/Rupak De Chowdhuriগঙ্গা ও বঙ্গোপসাগরের মিলনস্থান তীর্থভূমি গঙ্গাসাগর।এই গঙ্গাসাগরের বিশ্বজোড়া খ্যাতির মুলে মকর সংক্রান্তির স্নান ও মেলা।কিন্তু গঙ্গাসাগরের বেলাভূমিটি কম আকর্ষণীয় নয়।মেলার সময়টুকু বাদ দিলে গঙ্গাসাগর নিরালা, নির্জন। মন্দিরের সামনে থেকে নির্জন বালিয়াড়িটি সোজা গিয়ে মিশেছে সমুদ্রে। এখানে সমুদ্র ঢেউ ভাঙে না। তির তির করে এগিয়ে এসে পা ভিজিয়ে যায়। হাঁটতে হাঁটতে চলে যান সমুদ্রের ভিতরে। পায়ের পাতা ভেজানো জল থেকে হাঁটু জলে।ইচ্ছে থাকলে অনায়াসে স্নান করা যায়।অবাধে খেলে বেড়ায় লাল কাঁকড়া। কারোর আগমন টের পেলে সেঁধিয়ে যায় গর্তে। দূরে, দিগন্তরেখায়, একটা, দু’টো, তিনটে….অনেক অনেক নৌকা বা ট্রলার। মাছ ধরতে গেছে গভীর সমুদ্রে।

ভ্যানরিকশায় চেপে বেরিয়ে পড়ুন দ্বীপ দর্শনে। মঠ–মন্দির-আশ্রমের এই সাগরসঙ্গমে। ঘুরে এসো মনসাদ্বীপে রামকৃষ্ণ মিশনের আশ্রমে আর লাইটহাউসে। বিকেলে আর একবার চলে যান সাগর কিনারায়। তবে ভিন্ন পথে। যে পথ সেচবাংলো থেকে সমুদ্রে গেছে। এই পথে ঝাউয়ের জঙ্গল পাবেন।এখনও অক্ষত।সন্ধ্যায় ঘরে বসে বড়োদের কাছে শুনে নিন ভগীরথের গঙ্গাকে মর্ত্যে আনার কাহিনি।

ছোটবড় ৫১টি দ্বীপ নিয়ে ৫৮০ বর্গ কিমি জুড়ে সাগরদ্বীপ। গঙ্গার মর্ত্যে আসা ও সগর রাজার পুত্রদের জীবনদানের লোকগাথাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এই তীর্থভূমি। কপিল মুনির আশ্রমটি সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে গেলেও পরবর্তীকালে গড়ে ওঠা কপিল মুনির মন্দিরটিকে কেন্দ্র করে ভক্ত সমাগম হয়। মকর সংক্রান্তির পুণ্য তিথিতে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড় জমে এই সঙ্গমে।

Ganga3

কিভাবে আসবেনঃ- নিকটতম বড় শহর কলকাতা।রেলস্টেশন কাকদ্বীপ ও নামখানা।কলকাতা থেকে বাসে ঘণ্টা তিনেকের যাত্রায় পৌঁছনো যায় হারউড পয়েন্ট ৮ নম্বর লঞ্চ ঘাটে।ট্রেনে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখা থেকে কাকদ্বীপ বা নামখানা পৌঁছে বাসে বা রিকশায় হারউড পয়েন্ট ৮ নম্বর লঞ্চ ঘাটে পৌঁছনো যায়। সেখান থেকে ফেরি ভেসেলে গঙ্গা পেরিয়ে কচুবেড়িয়া। কচুবেড়িয়া থেকে বাসে বা ট্রেকারে ৩০ কিমি দূরে সাগর।

কোথায় থাকবেনঃ- গঙ্গাসাগরে থাকার জন্য নানান ধরমশালা ও পান্থনিবাস আছে।এছাড়া পি ডব্লু ডি, সেচ দফতরের ও পাবলিক হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বাংলো ও পঞ্চায়েতের যাত্রীনিবাস আছে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *