ছোট্ট ছুটির সন্ধানে– “বড়ন্তি”

Baranti_01-945x651
কাছেপিঠে ছুটি কাটানোর নিরিবিলি ঠিকানা বড়ন্তি। ব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি যখন ময়াল সাপের মত আস্টেপিস্টে চেপে ধরে তখন জীবন কয়েকটা দিনের জন্য চাপ থেকে মুক্তি পেতে চায়।
যদি দূরে কোথাও না গিয়ে যদি দু-চার দিনের জন্য ছুটি কাটাতে চান তাহলে হাতের সামনেই রয়েছে আদর্শ জায়গা। পুরুলিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র বড়ন্তি। সেখানকার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নিরিবিলি পরিবেশ আপনাকে রোমাঞ্চিত করবে।

আসানসোল বা মুরাডি স্টেশন থেকে যাওয়ার পাকা রাস্তা।তার পরেই লাল মাটির পথ ধরে পৌঁছে যাবেন বড়ন্তি। জয়চণ্ডী পাহাড় থেকে মাত্র ২১ কিলোমিটার দূরে রয়েছে শান্ত ও সবুজ বড়ন্তি।

পুরুলিয়ার ছোট্ট গ্রাম, বড়ন্তির প্রধান আকর্ষণ বড়ন্তি লেক। বড়ন্তির পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে বড়ন্তি নদী। রামচন্দ্রপুর জলাধার প্রকল্প বড়ন্তি নদীকে বাঁধ দিয়ে তৈরি হয়েছে।

এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ছোটো ছোট টিলা। এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করবে। চারদিকে শুধু শাল, সেগুন, শিশু, পলাশ ও মহুয়ার জঙ্গল আর তার মাঝ দিয়ে চলে গেছে লাল মাটির রাস্তা। চারিদিকে সবুজে ভরা বড়ন্তি যেন একটুকরো শুদ্ধ অক্সিজেনের ঠিকানা।

গ্রামটির আসল নাম রামজীবনপুর। সাঁওতালরাই মুল বাসিন্দা এই গ্রামে। ইচ্ছে থাকলে সেখানকার সাঁওতালদের নানা অনুষ্ঠানেরও স্বাদ নিতে পারেন। বড়ন্তি খুব কাছাকাছি রয়েছে পাঞ্চেত, গড় পঞ্চকোট, জয়চণ্ডী পাহাড়, বিহারীনাথ ইত্যাদি জায়গাও ঘুরে আসতে পারেন।

কীভাবে যাবেন : কলকাতা থেকে বড়ন্তির দূরত্ব ২৬৩ কিলোমিটার। হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে করে পৌঁছে যেতে পারবেন আসানসোল। সেখান থেকে ট্রেনে করে মুরাডি স্টেশন। মুরাডি স্টেশন থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটারের রাস্তা বড়ন্তি। রিকশা করেও পৌঁছে যাতে পারেন। এছাড়া সড়ক পথেও পৌঁছে যেতে পারেন। NH-2 ধরে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগবে।

কোথায় থাকবেন : এখানে থাকা ও খাওয়ার সুব্যবস্থা রয়েছে। থাকতে পারেন বড়ন্তি ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার স্টাডি হাটে। রয়েছে একাধিক রিসর্টও। বড়ন্তি লেক হিল রিসর্ট, পলাশবাড়ি রিসর্ট, আকাশমণি রিসর্ট।

আর দেরি না করে বেড়িয়ে পড়ুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *