ছোট্ট ছুটির সন্ধানে–চলুন ঘুরে আসি-“গাদিয়াড়া,গেঁয়োখালি ও নূরপুর”

45370761বেড়াতে যেতে চাইলে আশপাশে এমন অনেক জায়গা রয়েছে, যেখান থেকে কম খরচে অল্প সময়ে ঘুরে আসতে পারেন। আগের সপ্তাহে কলকাতা থেকে গড়চুমুক বেড়িয়ে আসার হদিস দেওয়া হয়েছিল এবার বেড়ানোর ঠিকানা দেওয়া হল গাদিয়াড়া,গেঁয়োখালি ও নূরপুর। গড়চুমুককে স্থায়ী ঠিকানা করে জায়গাগুলো বেড়িয়ে আসা যায় অথবা সোজা কলকাতা থেকে গাদিয়াড়া চলে যান।

গড়চুমুকের কাছেই গাদিয়াড়া। পর্যটকদের প্রিয় জায়গা। কলকাতা থেকে দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার। বাকি জায়গাগুলোর তুলনায় গাদিয়াড়া বেশি জমজমাট। লর্ড ক্লাইভের তৈরি ফোর্ট মর্নিংটনের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পাবেন এখানে। যার অধিকাংশই এখন জলের তলায়। শোনা যায়, ১৯৪২ সালের বন্যাতে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল দুর্গের মূল অংশ। কাছাকাছি একটা ছোট লাইটহাউজও রয়েছে। গাদিয়াড়াতে হুগলি, দামোদরের সঙ্গে এসে মিশেছে রূপনারায়ণও। বছরের যে কোনও সময় গেলেই ভাল লাগবে জায়গাটা। তবে ভরা বর্ষায় বেশি ভাল লাগবে। বিশেষ করে জোয়ারের সময়। এখানে সারি দিয়ে বাঁধানো বসার জায়গা রয়েছে। বিকেলে নদীর ধারে হাঁটতে বেরোলে ট্রলার থেকে শুরু করে বড় জাহাজ— সবকিছুরই দেখা মিলবে।লঞ্চ, নৌকা কিংবা ভটভটি করে নদী পেরিয়ে চলে যেতে পারেন গেঁয়োখালি। জায়গাটা পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলে। এখানে নদী এতটাই চওড়া যে সমুদ্র বলে ভুল হতে পারে! দেখে আসতে পারেন মহিষাদল প্যালেস, রাধাকৃষ্ণের মন্দির।

gadiara

গেঁয়োখালি যাওয়ার পথেই পড়বে নূরপুর। মাঝে নেমে গিয়ে এখান থেকেও একটু ঘুরে আসতে পারেন। দক্ষিণ ২৪ পরগণার অন্তর্গত কোলাহল মুক্ত এক প্রত্যন্ত গ্রাম। শান্ত নদী বেয়ে কলকাতা বন্দরের দিকে জাহাজের আনাগনা দেখতে দেখতেই বিকেল কেটে যাবে। স্থানীয়এখানেও একটাছোট্ট একটা লাইটহাউজ রয়েছে।

কীভাবে যাবেন: হাওড়া থেকে ট্রেনে উলুবেড়িয়া পৌঁছে যান। স্টেশনে নেমে জিপ, বাস, অ্যাম্বাসেডর কিংবা ট্রেকার পেয়ে যাবেন গড়চুমুক যাওয়ার। সরাসরি বাস ছাড়ছেএসপ্ল্যানেড থেকে গাদিয়াড়া যাওয়ার। আটান্ন গেট স্টপে নেমে যান। আড়াই ঘণ্টা লাগবে। নিজের গাড়ীতে যেতে চাইলে বম্বে রোড ধরে সোজা কোলাঘাটের দিকে ড্রাইভ করে গেলে উলুবেড়িয়া কিংবা বাগনান থেকে বেঁকে যেতে হবে। গাদিয়াড়া থেকে নদী পেরোলেই নূরপুর আর গেঁয়োখালি পৌঁছে যাবেন। হাতে দিনদুয়েক সময় নিয়ে গেলেই সবক’টা জায়গা ঘোরা হয়ে যাবে।

rupnarayan-tourist-lodge

কোথায় থাকবেন: দামোদর-হুগলির সংযোগস্থলে অনেক হোটেলও আছে। গাদিয়াড়াতে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের রূপনারায়ণ ট্যুরিস্ট লজে থাকতে পারেন। আগে থেকে অনলাইন বুকিং করে রাখতে পারেন। গেঁয়োখালিতে হলদিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটির ত্রিবেণী সংগম ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্সে থাকতে পারেন।এছাড়া অজস্র প্রাইভেট হোটেল রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *