কেরলের “পেরিয়ার” অরন্যে ঘুরে আসুন কয়েকদিন।

Periyar-National-Park-(30)_slider_mainচির সবুজ ঘন অরণ্য, সুবিস্তৃত লেক এবং অফুরান প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সম্পদ করে গড়ে উঠেছে কেরলের পেরিয়ার ওয়াইল্ড লাইফ স্যাংচুয়ারি। ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে, আরব সাগরের তীরে পশ্চিমঘাট পর্বতমালার পাদদেশে ৩২০ বর্গ মাইল জুড়ে তৈরি হয়েছে পেরিয়ার অভয়ারণ্য।পেরিয়ার লেকের চারদিক ঘন অরণ্যে ঢাকা পাহাড়।মুল্লাপেরিয়ার নদীতে জলাধার তৈরির ফলে সৃষ্টি হয়েছিল এই লেক। এই জঙ্গল টাইগার রিজার্ভ ফরেস্ট হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে ১৯৭৮ সালে। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ট্রাভেলসের পরিসংখ্যানে, বিশ্বে ‘ফিফটি প্লেসেস অফ এ লাইফটাইম’-এর অন্যতম কেরল। 30234_13801পেরিয়ারের জঙ্গলের নিসর্গ শোভা উপভোগ করতে হলে আপনাকে নৌকোয় চড়ে ভ্রমণ করতে হবে। যেদিকে তাকাবেন সেদিকেই ঘন সবুজ। সবুজের এত বৈচিত্র আছে এখানে না এলে বোঝা যায় না। চারপাশে তাকিয়ে মনে হবে কোনও এক স্বপ্নময় স্বর্গরাজ্যে চলে এসেছেন। পেরিয়ারের  মতো বৈচিত্রময় অভয়ারণ্য  ভারতবর্ষে নেই। পৃথিবীর অন্য কোনও প্রান্তে আছে কি না সন্দেহ।এই অভয়ারণ্য টাইগার রিজার্ভ বলে স্বীকৃত হলেও বাঘ যে দেখতে পাবেনই তার কোনও গ্যারান্টি নেই।ভাগ্য ভাল হলে তবেই বনের রাজার দেখা মিলতে পারে। বাঘ ছাড়া রয়েছে অসংখ্য হাতি, বুনো মোষ, হরিণ, সাপ বুনো কুকুর আরও অসংখ্য প্রাণী, নানা রং-বেরঙের পাখি এবং শতাধিক ধরনের প্রজাপতি। বার্ড ওয়াচিংয়ের জন্যেও প্রচুর পর্যটক এখানে আসেন। নৌকা ছাড়া হাতির পিঠে চড়েও জঙ্গল দেখার ব্যবস্থা আছে। লঞ্চে করে পেরিয়ার জঙ্গল ঘুরে বেড়িয়ে দেখার জন্য কেরল ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন ( কে টি ডি সি) সুন্দর ব্যবস্থা করেছে। এরা আপনাকে দু’ ঘণ্টা ধরে ঘুরে দেখায়। ফরেস্টের গেট খোলার পর আপনাকে কিছুটা ভিতরে গিয়ে লঞ্চে ওঠার টিকিট কাটতে হবে। অবশ্য বয়স্কদের জন্য এই রাস্তাটুকুতে অটোর ব্যবস্থা আছে। লঞ্চঘাটের যাওয়ার রাস্তাটাও অপূর্ব সুন্দর।

07032012015747Thekkady 1রাস্তার দু’পাশে রকমারি বাহারি গাছ, কত ধরনের বন্য ফুলের সমারোহ, পাখির কলতান, ব্যস্ত বাঁদরের দৌড়াদৌড়ি আপনার মন অন্য জগতে নিয়ে যাবে। পেরিয়ার গেলে অতি অবশ্যই আশপাশ দেখতে ভুলবেন না। কেরল পর্যটন নিগম এবং অনেক বেসরকারি পর্যটন সংস্থা কন্ডাক্টেড ট্যুরের ব্যবস্থা করে। দেখে আসতে পারেন কফি ও মশলার বাগান কুমিলি ও মুরাক্কাডি অঞ্চল, চা বাগানের দেশ মুন্নার, দেখুন চেলার কোভিল জলপ্রপাত। হাতে সময় থাকলে ঘুরে আসুন আল্লেপি। এখানকার বিখ্যাত ব্যাকওয়াটারে বোটিং করা আপনার জীবনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাছাড়া যেতে পারেন ভারতবর্ষের একেবারে শেষপ্রান্ত কন্যাকুমারিকা।তিন মহাসাগরের (বঙ্গোপসাগর, ভারতমহাসাগর, আরবসাগর) মিলিত রূপ। আলাদা তিনটি সাগর, তাই সমুদ্রের জলের রংও আলাদা। পেরিয়ার জঙ্গলে গেলে অবশ্যই সঙ্গে নেবেন বায়নাকুলার, লেন্সওয়ালা ক্যামেরা, টর্চ ইত্যাদি।

 

gallery_img144187992592213

কীভাবে যাবেন- পেরিয়ারের নিকটতম এয়ারপোর্ট কোচি। কাছের রেলওয়ে স্টেশন কোট্টায়াম। চেন্নাই থেকে ট্রেনেও যাওয়া যায় কোট্টায়াম। কোট্টায়াম থেকে গাড়ি বা বাসে যেতে পারেন কুমিলি। কুমিলি থেকে পেরিয়ারের জঙ্গল চার কিলোমিটার। এখান থেকে অটো কিংবা বনবিভাগের বাস পেয়ে যাবেন।

কখন যাবেন- বছরের যে কোনও সময়েই পেরিয়ার জঙ্গলে যাওয়া যায়। তবে বর্ষায় না যাওয়াই ভাল।

কোথায় থাকবেন- পেরিয়ারে প্রচুর হোটেল রয়েছে। আছে কেরালা পর্যটন উন্নয়ন নিগমের তিনটি হোটেল: অরণ্য নিবাস, পেরিয়ার হাউস ও লেক প্যালেস হেরিটেড। ফোন: ৯১-৪৭১-২৩২১১৩২। ফ্যাক্স: ৯১-৪৭১-২৩২২২৭৯।

***কেরল গেলে ওখান থেকে লবঙ্গ, এলাচ, দারচিনি সংগ্রহ করতে ভুলবেন না।

আমাদের প্রতিবেদন আপনাদের কেমন লাগছে জানাবেন।ভাল লাগলে শেয়ার করুন ও লাইক দিন। যোগাযোগঃ media.ekabinsha@gmail.com

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *