এই উইকএন্ডে “চলুন ঘুরে আসি বকখালি”

image (3) সমুদ্র, লাল কাঁকড়া, ঝাউবন, নির্জনতা, ম্যানগ্রোভ জঙ্গল— এই হল বকখালি। কলকাতা থেকে যেতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা। বাস, ট্রেন বা ব্যক্তিগত গাড়ি, সবকিছুতেই বকখালি যাওয়া যায়।
অন্য জায়গার সমুদ্রের সঙ্গে বকখালির সমু্দ্রর একটু তফাত আছে।সারাদিন ঢেউয়ের গর্জন পাবেন না। কারণ ভাটার সময়ে সুমুদ্র সৈকত থেকে অনেকটা দূরে সরে যায়।বিকেলটা এরকমই থাকে। সকাল থেকে বেলা এগারোটা/ বারোটা পর্যন্ত অবশ্য সমু্দ্রের আসল রুপ পাবেন।যথেষ্ট ভালো ঢেউ।বেলা বাড়তে থাকলে  জল কমতে শুরু করে। আবার সন্ধের পরে নিজের চেহারায়।

image (2)

বকখালির আরেক বিশিষ্ট হল ঝাঁকে ঝাঁকে লাল কাঁকড়া। দীঘা, পুরী, কোথাও এমন ঝাঁকে ঝাঁকে লাল কাঁকড়া দেখতে পাবেন না।পায়ের সামান্য শব্দেই এই লাল কাঁকড়ারা নিজেদের গর্তে ঢুকে যাবে।একবার চলে আসুন,হলফ করে বলছি  নিরিবিলি এই সমু্দ্র সৈকতে  সময় কাটানোর অভিঞ্জতাই অন্যরকমের হবে।

বকখালিতে ঘোরার জন্য বেশ কয়েকটি জায়গা রয়েছে। সবথেকে কাছে ফ্রেজারগঞ্জ। সেখানে অবশ্য সমুদ্র সৈকত ছাড়া আর সেরকম কিছু দেখার নেই। এছাড়া রয়েছে হেনরি’জ আইল্যান্ড। ম্যানগ্রোভ জঙ্গলের ভিতর দিয়ে সরু পথ ধরে আস্তে আস্তে সমুদ্র সৈকতের দিকে এগিয়ে যাওয়া।

হেনরি’জ আইল্যান্ডে  একটি ওয়াচ টাওয়ার থেকে চারপাশের ভিউ পাবেন।সমু্দ্রকেও দূর থেকে দেখা যায়। হেনরি’জ আইল্যআন্ড যাওয়ার জন্য বকখালি থেকে টোটো, মোটরভ্যান ভাড়া পাওয়া যায়। ভাড়া কমবেশি দু’শো টাকা।বকখালি থেকে জম্বুদ্বীপ ঘুরতে যেতে পারেন। জম্বুদ্বীপ যাওয়াটা একটু ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।

কীভাবে বকখালি যাবেন?
• ব্যক্তিগত গাড়ি অথবা ভাড়া গাড়িতে গেলে কলকাতা থেকে ডায়মন্ড হারবার রোড ধরে সোজা নামখানা। সেখান থেকে বার্জে হাতানিয়া-দোয়ানিয়া নদীতে গাড়ি পার করে করে বকখালি। ঘণ্টা চারেক সময় লাগে।
• এছাড়াও সকালে ধর্মতলা এবং হাওড়া থেকে ডব্লুবিএসটিসি-র বাস সরাসরি বকখালি যায়। এছাড়া নামখানা যাওয়ার সরকারি বেসরকারি প্রচুর বাস ধর্মতলা থেকে ছাড়ে।
• ট্রেনে গেলে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখা থেকে নামখানা লোকালে চেপে বসুন।ট্রেনে অথবা বাসে নামখানা পৌঁছে একটি সাইকেল ভ্যান বা টোটোয় ফেরি ঘাটে যেতে হবে। নৌকায় হাঁটানিয়া-দোয়ানিয়া নদী পেরিয়ে বকখালি যাওয়ার বাস বা গাড়ি পাওয়া যায়।বাসে গেলে ৪০-৪৫ মিনিট।

image

থাকবেন কোথায়ঃ বকখালি পৌঁছে থাকার একাধিক হোটেল রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের রিসর্ট আছে।কয়েকটি বড় হোটেলও রয়েছে। উইকএন্ডে কিন্তু হোটেলগুলির ভাল চাহিদা থাকে, বিশেষত শনিবার।

খাওয়া দাওয়াঃ 
বকখালিতে খাবার তুলনামুলক অন্য বিচের চাইতে সস্তা।ভালো খাবারের একাধিক হোটেল রয়েছে। তবে বকখালি গেলে ব্রেকফাস্টে অবশ্যই দক্ষিণ ২৪ পরগনার স্পেশাল পেটা পরোটা খেতে ভুলবেন না।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *