জলদস্যুতার সেকাল একাল.. (চতুর্থ পর্ব) (লেখক- অনির্বাণ ভট্টাচার্য)

1বিখ্যাত সব জলদস্যুদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ফ্রান্সিস ড্রেক।প্রথম জীবনে তিনি ছিলেন বৃটিশ রাজবাহীনির নৌসেনাপতি।তবে পরবর্তী কালে তিনি এক মূর্তিমান সমুদ্র ত্রাসে পরিনত হন।১৫৮৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জে এক বিরাট অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।শোনা যায় এই অভিযানে পঁচিশটা জাহাজ নিয়ে তিনি সমুদ্র যাত্রা করেছিলেন।ইংল্যান্ডেশ্বরী স্বয়ং এই অভিযানের জন্য কুড়ি হাজার পাউন্ড বিনিয়োগ করেছিলেন।তবে অভিযানের সময় কোনো কারনে ড্রেকের সঙ্গে রাণীর মনোমালিন্য ঘটে।দূরত্বও বাড়ে।খবর পৌঁছয় ড্রেকের কানে।চর মারফত খবর পান,ইংল্যান্ডে ফিরলেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে।আর কোনো চরম শাস্তি তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে।শোনার পরেও ড্রেক দেশে ফিরলেন।এক জাহাজ ভর্তি বিপুল মণি মানিক্য,হীরে জহরত,সোনা রুপো সব রাণীকে উপঢৌকন হিসেবে অর্পণ করলেন।সঙ্গে সঙ্গে রাণীকে এও জানালেন,আরও ভেট আসছে,বাকি জাহাজে।ব্যাস!রাণীর রাগ পড়ে গেল।আর ফ্রান্সিস ডেকের নতুন উপাধি জুটল নাইটহুড।স্যার ফ্রান্সিস ডেক।ম্যাগেলানের পৃথিবী প্রদক্ষিনের ষাট বছর পরে স্যার ফ্রান্সিস ড্রেক ই প্রথম ব্যাক্তি যিনি তিন বছর ধরে পৃথিবী প্রদক্ষিন করেন।এই অসমসাহসী নাবিকের মৃত্যু হয় ১৫৯৬ খ্রিস্টাব্দে।

3

বিখ্যাত জলদস্যু বেলামি,মারিয়া নামের একটি মেয়ের প্রেমে পড়েছিল।তখন অবশ্য বেলানির রোজগার পাতি বলতে তেমন কিছুই ছিলনা।স্বভাবতই মারিয়ার বাড়ির লোকজন এমন কোনো ছেলের হাতে নিজেদের মেয়েকে পাত্রস্থ করতে রাজী হয়নি।রোখ চেপে যায় বেলানির।বাড়ি ছাড়ে।বেঞ্জামিন হর্নিগোল্ড নামক এক দস্যু সর্দারের দলে যোগ দেয়।বেলানির দান ধ্যানের জন্য তাকে “জলদস্যুদের রবিনহুড” বলা হত।মাত্র ২৮ বছর বেলানির

জীবন দীপ নির্বাপিত হয়।

তেমনই এক দুর্ধর্ষ জলদস্যু ছিলেন রবার্টস বা ব্ল্যাক বার্ট।১৭২২ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ নৌবাহিনীর হাতে পরাজিত হবার আগে পর্যন্ত প্রায় চারশো জাহাজ লুঠ করেছিল।

সপ্তদশ শতকের সাড়া ফেলে দেওয়া এক ভয়ংকর জলদস্যু ছিলেন এল.হেনরি মরগ্যান বা ক্যাপ্টেন মরগ্যান।জাহাজ লুঠ ছাড়াও ইনি ইউরোপের দেশগুলোর উপনিবেশে লুঠতরাজ করায় বেশ পটু ছিলেন।কেবল নিজের বুদ্ধি এবং সাহসের ওপর ভরসা রেখে তিনি একবার পানামা আক্রমন করে বসেন।দীর্ঘ লড়াই এর পর অবশেষে তাঁকে বন্দী করতে সমর্থ হয় ফরাসী সেনা।১৬৭৪ খ্রিস্টাব্দে মরগ্যান কে পুরোপুরি বাগে আনতে না পেরে তাঁকেই জামাইকার ডেপুটি গভর্নরের পদে অভিষিক্ত করা হয়।ঐ বছরই তাঁকে “নাইটহুড”ও দেওয়া হয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *