“মারন প্লাস্টিক থেকে বাঁচতে”

Kormann--Plasticsশিল্পায়ন ও নগরায়নের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবনে প্লাস্টিক আজ অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আমাদের খাদ্যাভ্যাস ও পরিচিত জীবন বদলে যাচ্ছে। বাজারহাট, খাবারের দোকান, সুপারমল, খাবারের মোড়ক,পন্যের মোড়ক আজ সবই প্লাস্টিক। যত প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়ছে ততই বেড়ে চলেছে প্লাস্টিক বর্জ্য। ইতালির সুমুদ্র উপকুলে ভেসে আসা এক তিমি মাছের পেট থেকে ২২ কিলো প্লাস্টিক পাওয়া গিয়েছিল। প্রত্যেকদিনই সামুদ্রিক প্রাণী মারা যাচ্ছে প্লাস্টিক দূষণে। জলেই যদি এই অবস্থা হয় তাহলে ডাঙার প্রাণীরা আর কতদিন এই বিপদসীমার বাইরে থাকতে পারবে!!

ভয়ঙ্কর দূষণ থেকে বাঁচতে ইতিমধ্যে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের প্লেট, কাপ, গ্লাস, স্ট্র, বেলুন স্টিক, কটন বাড, ইত্যাদির ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। তথ্যে প্রকাশ, শুধুমাত্র ইউরোপেই বছরে আড়াই কোটি টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদিত হয়। জলে ফেলে দেওয়া এইসব বর্জ্য স্রোতের মাধ্যমে সাগর-মহাসাগরে ভেসে বেড়াচ্ছে।

ওপর এক গবেষণা সুত্র অনুযায়ী, প্লাস্টিক বর্জ্যের ক্ষুদ্রতম ভগ্নাংশ বা মাইক্রোপ্লাস্টিক বায়ুতাড়িত হয়ে বিভিন্ন পর্বতচুড়ায় ছড়িয়ে পড়ছে। বায়ুদূষণের অন্যান্য ভাসমান বস্তুকণার মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকও  গেড়ে বসেছে। এবং অনায়াসে সেটা মানুষের শরীরেও ঢুকে পড়ছে।ফলে আর ঘুরপথে নয়, সরাসরি মানুষের শরীরে ঢুকছে।

প্লাস্টিকের দূষণ থেকে বাঁচতে আজ সারা পৃথিবীজুড়ে বিকল্পের সন্ধান শুরু হয়ে গেছে। ভারত অনেক পরে হলেও বুঝতে শুরু করেছে। প্লাস্টিক বর্জ্য দূষণ সংক্রান্ত বিষয়ে ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী খুব সচেতন। ইতিমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিও সরকার দ্বারা গ্রহন করা হয়েছে। কিন্তু শুধু সরকারি পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়, কারন যতক্ষণ না পর্যন্ত দেশের মানুষ প্লাস্টিক দূষণ বিষয়ে সচেতন হচ্ছে ততক্ষণ কিছু করাই সম্ভব নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *