আপনি কি বাতকর্মবীরের ইমেজ থেকে মুক্তি পেতে চান? জেনে নিন কি করতে হবে।

17-4-696x461আমির খান অভিনীত “থ্রী ইডিয়েট” চলচ্চিত্র যারা দেখেছে তারা নিশ্চয় জানেন চতুর রামলিঙ্গম কিভাবে বর-মেজো ও কনিষ্ঠ বাতকর্মের বর্ণনা দিয়েছিলেন।আমি আর বিস্তৃত বর্ণনায় যাচ্ছি না।আবার আমাদের মেলামেশার পরিবেষের মধ্যে কিছু ব্যক্তিত্ব এমন থাকেন যাদের ইমেজ বাতকর্মবীর হিসাবে স্বীকৃত।অনেক সময় এমনও হয় সেই ব্যক্তি হয়ত বাতকর্ম করেননি কিন্তু সকলের অভিযোগের আঙ্গুল ওনার দিকেই ওঠে।সামাজিক পরিবৃত্তে এই ইমেজ নিয়ে অবস্থান করা সত্যি দুর্বিষহ।বাতকর্মবীররা যদি একটু সচেতন হন তাহলে নিজের ইমেজ থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

 -এবার জেনে নেওয়া যাক কোন কোন কাজের জন্য বাতকর্ম বেশি হয়-

১) সোডা জাতীয় পানীয় পান করাঃ সোডা জাতীয় সফট ড্রিংসে কার্বোনেটেড মেশানো থাকে।পান করার কিছুক্ষণ পর থেকে ঢেকুর উঠতে শুরু করে।এই হাওয়া উর্দ্ধমুখী বা নিম্নমুখী হয়ে বার হয়। তাই বাতকর্ম হওয়া স্বাভাবিক।

২) সালাদের প্রতি আসক্তিঃ সবুজ সালাদ খাওয়া স্বাস্থ্যকর।কিন্তু এই স্বাস্থ্যকর খাবারও যে অতিরিক্ত বাতকর্মের কারন হতে পারে সেটা হয়তো কেউ ভাবেননি।ব্রকোলি,বাঁধাকপি বা শাকসবজিতে এক ধরনের কার্বোহাইড্রেট থাকে যা সহজে হজম হয় না।তাই অবাঞ্চিত গ্যাস তৈরি করে।

৩) মুলোর প্রতি আসক্তিঃ শীতকালে বাজারে সাদা, লাল, গোল, চ্যাপ্টা, লম্বা বিভিন্ন ধরনের মুলো দেখতে পাওয়া যায়।এই মুলো আমরা রান্নায় এবং কাঁচা স্যালাডে চিবিয়ে খাই।মুলো খেলে বাতকর্ম হওয়া কেউ আটকাতে পারবে না।

৪) হাওয়া গিলে ফেলাঃ খাওয়া, কথা বলা, স্ট্র দিয়ে কোনও পানীয় পান করা ইত্যাদি কাজের মাধ্যমে আপনি অজান্তেই বেশ খানিকটা হাওয়া গিলে ফেলেন। সেটা গিয়ে জমা হয় ইন্টেস্টাইনাল ট্র্যাকে।যখন আর হাওয়া ধরার জায়গা থাকে না, তখন সেটা বাতকর্মের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়।

৫)  মিষ্টিঃ  মিষ্টি ছাড়া আমাদের খাওয়া সম্পন্ন হয় না। যেমন সারাদিনে বেশ কয়েক কাপ চিনি দেওয়া চা। ব্যস, বাতকর্মের জন্য আর কী চাই! খওয়ার শেষপাতে মিষ্টি।আজকের বেশিরভাগ মিষ্টিতে কৃত্রিম চিনি ব্যবহার হয়। যাকে ইংরেজিতে আর্টিফিশিয়াল সুইটনার বলা হয়।এই চিনি আমাদের শরীর হজম করতে পারে না।ফলে শরীরে জমা হয়ে তা ফার্মেন্টেড হয় এবং গ্যাস তৈরি করে।

৬)  মানসিক চাপঃঅতিরিক্ত মানসিক চাপ বিভিন্ন ভাবে আমাদের শরীরের ক্ষতি করে।এই ক্ষতির তালিকায় নতুন সংযোজন হল বাতকর্ম। পেটের সঙ্গে স্নায়ুতন্ত্রের প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে। ফলে মানসিক চাপ থাকলে তা পরোক্ষে পেটের ওপরও চাপ তৈরি করে। তার ফলেই  গণ্ডগোল।

৭) সদ্য মা হয়েছেনঃ এ সময়ে এমনটা হয় তবে  দীর্ঘস্থায়ী হয় না। আসলে পেটের যে অংশ জুড়ে বাচ্চা ছিল, তা বেরিয়ে আসার পর সেই খালি জায়গায় গ্যাস জমা হয়।তবে এটা ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যায়।

৮) কোষ্ঠকাঠিন্যঃ সকালে পেটসাফ না হলে বা কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের ধাত থাকলে বাতকর্ম হবেই।এ রোগ যদি দীর্ঘমেয়াদী হয় সে ক্ষেত্রে দুর্গন্ধযুক্ত বাতকর্ম হয়। জমে থাকা মল থেকে গ্যাস নির্গত হয় এবং তা বাতকর্মের মাধ্যমে বেরিয়ে আসে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *