আপনার শিশুটি কি পড়াশোনায় অমনোযোগী ??

ADHD2-inattentive_Radhika_Imagesbazaar-min-e1439364857459লাইফস্টাইল পাতাঃ  শিশু চঞ্চল হবে, দুষ্টুমি করবে এটাই স্বাভাবিক।দুষ্টু শিশুর বাবা-মাকে বয়স্ক পরিজনরা পরামর্শ দিয়ে থাকে-শিশুর চঞ্চলতা তার বুদ্ধিমত্তা ও শারীরিক সুস্থতার পরিচয়।

এখানেই  শিশু বিশেষজ্ঞরা একটু দ্বিমত পোষণ করছেন।চঞ্চল শিশু মানেই একশ শতাংশ সুস্থ নাও হতে পারে। চঞ্চলতাকে ছাপিয়ে একটি শিশু যখন অমনোযোগী হয়ে ওঠে তখনই বিপদ। প্রতিমুহূর্তেই তার গতিবিধি পরিবর্তন হয়ে যায়। পড়ার সময় ওর মন চলে গেছে খেলার মাঠে। বড়দের গল্পের আসরে বসে থাকা, মন্তব্য করা। খানিক আগের পড়া প্রশ্ন করলে সঠিক উত্তর দিতে অক্ষমতা। এমন সমস্যা অনেক শিশুরই হয়ে থাকে এবং সময়ের সাথে আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু সমস্যা যদি বেশিদিন স্থায়ী হয় তখন চিন্তার কারন হয়ে দাঁড়ায়।

এক্ষেত্রে অভিভাবককে ধৈর্য সহকারে এগিয়ে আসতে হবে। শিশুর সমস্যাটা কোথায় সেটা বুঝতে হবে। অতিরিক্ত অস্থিরমতিকে অসুস্থতার লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। এ রোগটিকে বলা হয় অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভ ডিসঅর্ডার (এডিএইচডি) বা হাইপারকাইনেটিক ডিস অর্ডার।

এই ধরনের অমনোযোগী শিশুকে কিভাবে সামলাবেন তার উপায় বাৎলে দিতে পারে একমাত্র চিকিৎসক। রোগ অল্প আকারের হলে বিহেভিয়ার থেরাপি এবং সোশাল থেরাপি দিলে মিটে যায়।কিন্তু যদি বেশি মাত্রায় হয়ে থাকে তাহলে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। তবে শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গেলে সবচেয় ভাল হয়।

কি ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে:

১. প্রায় কোনো কিছুতে মনোযোগ দিতে পারে না।
২. খামখেয়ালি পনা।
৩.  নির্দেশ অনুসরণ করতে না পারা।

৪.ঝোঁকের বশে কাজ করার প্রবণতা।
৫. খুব বেশি কথা বলা।
৬. অল্পতেই উত্তেজিত হয়ে ওঠা।

ওপরের লক্ষণগুলি শিশুর মধ্যে অতি মাত্রায় দেখা গেলে প্রাথমিকভাবে অভিভাবকদের অবশ্য করনীয় হোল।

১. শিশুটিকে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দৈনন্দিন কাজের রুটিনের মধ্যে নিয়ে আসা। শিশুর আচরণের পরিবর্তন হলে রুটিন পরিবর্তন করা।
২.অভিভাবকরাও কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম পালন করুন। এতে শিশুটি বড়দের দেখে নিয়ম মাফিক কাজ করা শিখবে।
৩. স্বভাবগত দিক থেকে যেহেতু অস্থির ও অমনোযোগী তাই তাকে নির্দেশনাগুলো পালন করার ক্ষেত্রে সময় দিন। নির্দেশনাগুলো পালন করলে শিশুটিকে পুরষ্কার দিন। আর নিয়ম ভঙ্গ করলে শাস্তির বদলে পুরস্কার প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করুন। কখনোই রুঢ় আচরণ করবেন না। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের মনে রাখতে হবে শিশুটির  আচরণ পরিবর্তন করাই আসল উদ্দেশ্য।
৪. শিশুর সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ  স্কুলের শিক্ষকে জানান। কারন অনেক সময় অজ্ঞতার কারনে স্কুলের শিক্ষকরা রুঢ় আচরণ করে ফেলেন।
৫. সামাজিক নিয়মনীতি শিখতে পরিবারের পাশাপাশি তার বন্ধুদেরও প্রয়োজন। তাই সমবয়সীদের সঙ্গে মিশতে ও খেলতে উৎসাহিত করুন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *