ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীতে সময়ের থেকে এগিয়ে থাকা গায়ক ও সুরকার- “রাহুল দেব বর্মণ”

rdb22jpgফিচার টেবিলঃ তাকে পঞ্চমদা বলে ডাকাটাই রেয়াজ ছিল। এই পঞ্চম নামের পেছনে এক পারবারিক রসিকতা আছে। ছোটবেলায় যখন নাকি সুরে কাঁদতেন তখন নাকি অনেকটা ‘সারেগামাপা’র মতো শোনা যেত।তাই পঞ্চম নামকরন।

জন্মসূত্রে ত্রিপুরা রাজপরিবারের সদস্য রাহুল দেব বর্মণ  ১৯৩৯ সালে ২৭ জুন জন্মেছিলেন। আজ বেঁচে থাকলে এবার ৭৯তম জন্মদিনের কেক কাটতেন।প্রতি বছর পঞ্চমদার জন্মদিনে তার অনুরাগিরা ভারতজুড়ে নানা অনুস্থানের  আয়োজন করে থাকে।বেশ কয়েক বছর ধরে ইউফনির পক্ষ থেকে তার একসময়ের সতীর্থরা ভারতের কোন না কোন শহরে জড় হয়ে সঙ্গীতের মাধ্যমে রাহুল দেব বর্মণকে স্মরন করে থাকে।

বাবার পথ ধরেই সঙ্গীত জগতে প্রবেশ পঞ্চমের।পরে রাহুলই হয়ে ওঠেন ভারতের জনপ্রিয় গায়ক এবং সুরকার।ঐ সময়ে এমন কিছু চলচ্চিত্র প্রযোজক ছিলেন যারা শুধু আরডি বর্মণের গান ও সুরকে মূলধন করে ছবি বানাতেন! আজও তার করে যাওয়া গান ও সুর একটু অদল বদল করে বিভিন্ন চলচ্চিত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে।রাহুল দেব আজকের প্রজন্মের সুরকারদের কাছে অনুপ্রেরণা।

তিনিই প্রথম ইলেকট্রিক গিটার, রক অ্যান্ড রোলের সংমিশ্রণ করেছিলেন।যে বয়সে তিনি ‘তিসরি মঞ্জিল’ ছবির ‘আজা আজা ম্যায় হু পেয়ার তেরা’ গানের সুর করেছিলে সেটা জিনিয়াস না হলে সম্ভব হয় না।আরডিই প্রথম বলিউডে ব্লুজ ও লাতিন আমেরিকান সংগীতের প্রবর্তন করেন।

আপাদমস্তক বাঙালি আরডি ৩৩ বছরের পেশাদার জীবনে মোট ৩৩১টি ছবির সংগীত পরিচালনা করেন। এর মধ্যে ছিল ২৯২টি হিন্দি, ৩১টি বাংলা, ৩টি তেলেগু, ২টি করে তামিল ও ওড়িয়া এবং ১টি মারাঠি ছবি। ১৯৬১ সালে তিনি প্রথম কাজ করেন অভিনেতা মেহমুদ প্রযোজিত ‘ছোট নবাব’ ছবিতে।

অন্যান্য ছবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘শোলে’, ‘গোলমাল’, ‘সনম তেরি কসম’, ‘মাসুম’, ‘ইয়াদো কি বারাত’, ‘খুবসুরত’, ‘১৯৪২ এ লাভ স্টোরি’, ‘ক্যারাভান’, ‘আপ কি কসম’, ‘খেল খেল মে’, ‘মেহবুবা’, ‘হাম কিসিসে কাম নাহি’, ‘কিনারা’, ‘শালিমার’, ‘শান’, ‘বেতাব’, ‘সাগর’ প্রভৃতি। হ্যা, আরও মনে পড়েছে। ‘বাচনা এ হাসিনো’, ‘মনিকা ও মাই ডার্লিং’, ‘হরে রাম হরে কৃষ্ণ’, ‘মেরে ন্যায়না সাওন ভাদো’, ‘চিঙ্গারি কোই ভাড়কে’, ‘দম মারো দম’, ‘চুরালিয়া হ্যায় তুমনে জো দিল কো’, ‘পিয়া আব তু আজা’, ‘যাহা তেরি ইয়ে নজর হ্যায়’, ‘চালা জাতা হু কিসিকি ধুন মে’, ‘তু তু হ্যায় ওহি’, ‘মেহবুবা মেহবুবা’, ‘ইয়ে দোস্তি’, ‘আজা মেরি জান কাহা থা তুনে সনম’, ‘এক লাড়কি কো দেখা তো’; এমন অসংখ্য কালজয়ী গানের স্রষ্টা আরডি বর্মণ।

ভাবতে ভালো লাগে যে এই গানগুলি আজও রিমেক করা হয়।সেরা সংগীত পরিচালক হিসেবে তিনবার ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। আমার কাছে আরডি বর্মণ একজন সময়ের আগে চলে আশা এবং আগে চলে যাওয়া কিংবদন্তী শিল্পী।আজও তার সৃষ্টি সুরের যাদু সমানভাবে শ্রোতাদের নাড়া দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *