‘বাসবী নন্দী চলে গেলেন’

image২২সে জুলাই ১৮ রবিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আমাদের ছেড়ে চিরকালের জন্য চলে গেলেন বাংলা চলচ্চিত্রের বিশিষ্ট অভিনেত্রী বাসবী নন্দী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তাঁর মৃত্যুর খবরে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ষাটের দশকে যে সমস্থ অভিনেত্রী  রঙ্গমঞ্চ থেকে সিনেমায় এসেছিলেন, বাসবী নন্দী ছিলেন তাঁদের অন্যতম। থিয়েটারে অভিনয়ের পাশাপাশি বাসবী নন্দী গানও গেয়েছেন। সতীনাথ মুখোপাধ্যায় আর উৎপলা সেনের কাছে তিনি বাংলা গানের তালিম নেন৷ নাচ শিখেছিলেন গোবিন্দন কুট্টির কাছে।

বাসবী নন্দী চলচ্চিত্রে প্রথম অভিনয় করেন ‘যমালয়ে জীবন্ত মানুষ’ (১৯৫৮) ছবিতে। ‘বনপলাশীর পদাবলী’ (১৯৭৩) ছবিতে উত্তমকুমারের সঙ্গে তাঁর অভিনয় বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মনে থাকবে অনেক দিন। এ ছবিতে অভিনয়ের জন্য ১৯৭৪ সালে তিনি বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্ট’স অ্যাসোসিয়েশন থেকে বেস্ট সাপোর্টিং অ্যাকট্রেসের পুরস্কার পান। এ ছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হলো ‘মৃতের মর্ত্যে আগমন’, ‘বাঘিনী’, ‘সেই চোখ’, ‘রাতের কুহেলি’, ‘গজমুক্তা’, কায়াহীনের কাহিনী,শত্রুপক্ষ, নবরাগ, অভয়া ও শ্রীকান্ত,  ‘আমি সে ও সখা’৷ হিন্দি ছবি ‘দো দিলোঁ কি দস্তান’ (১৯৬৬) ছবিতে অভিনয় করেছিলেন প্রদীপ কুমার, বৈজয়ন্তীমালা, রেহমান, শশীকলা, নাসির হোসেন প্রমুখ অভিনেতার সঙ্গে।

কলকাতার সব কটি মঞ্চেই অভিনয় করেন বাসবী নন্দী। স্টার থিয়েটারে ‘কারাগার’ (১৯৬২), রঙমহলে ‘সেইম-সাইড’ (১৯৬৮/৬৯), বিজন থিয়েটারে ‘শ্রীমতী ভয়ঙ্করী’ (১৯৮০) তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক।

বাসবী নন্দীর জন্ম ১৯৩৯ সালে। কলকাতার ইউনাইটেড মিশনারি গার্লস হাই স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে আশুতোষ কলেজ থেকে আইএ পাস করেন৷

বাসবী নন্দীর অকস্মাৎ প্রয়ানে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। একবিংশের পক্ষ থেকে ওনার আত্মার শান্তি কামনা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *