বাংলা সিনেমা– “কবির” (রিভিউ সহ)

দাঙ্গা হিন্দুরা লাগায় না , দাঙ্গা মুসলমানরা লাগায় না ,দাঙ্গা লাগায় দাঙ্গাবাজরা ” জিহাদ কথার অর্থ হলো নিজের সাথে লড়াই করা নিজেকে শুদ্ধ করা। জেহাদি মানে নির্মম হত্যা করা নয় বা টিফিন বক্সে বোমা লুকিয়ে ব্লাস্ট করানো নয়। ছবি শুরু হচ্ছে মুম্বাই শহরের ৭ টা ভয়ানক ব্লাস্ট দিয়ে। কে বা কারা এই ব্লাস্টগুলো করেছে তা জানতে হলে ছবিটা দেখতে হবে। আলতাফ কবির যে ছবির নায়ক সে কথা একদমই স্পষ্ট। এক দল আতঙ্কবাদীর শহরে এসে জাল বিস্তার করা ও লক্ষ্যে সফল না হওয়ার রাগ তাদের খুঁড়ে খুঁড়ে মৃত্যুর শেষ নিঃস্বাশ পর্যন্ত ব্লাস্ট করানোর আকুল চেষ্টা ও অবশেষে সব খেলা মাত করা এস. টি. এফ ডিপার্টমেন্ট – এই সবকিছু নিয়েই কবির । ছবির আবহ সংগীত একদমই মানানসই।মাঝে মধ্যে আবহে ইসলামিক ভোকাল শুনে গায়ে কাঁটা দেবে। ছবির প্রত্যেক মুহূর্তে চমক রয়েছে।.”তেড়ে দরগা ও দ্বার পে আয়ে হে মাওলা ” কাওয়াল শুনে দর্শক মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যাবে।  ইন্দ্রদীপ দাসগুপ্ত প্রতি বারের মতোই তার দায়িত্ব সযত্নে পালন করেছেন। রবিরঞ্জন মৈত্রর সম্পাদনা ছিল সবকিছুর উর্ধে । ছবি শুরু হওয়ার ১৫ মিনিট পর থেকেই এর পরের দৃশ্যে কি হবে কি হবে সেই উত্তেজনায় রেখেছিলেন। চলন্ত দুরন্ত এক্সপ্রেসে প্রাকৃতিক আলোতে যে শুটিং করার অসম্ভব কে সম্ভব করেছেন হরেন্দ্র সিং।গোটা ছবি শুধু কাঁধে আর হাতে ক্যামেরা নিয়ে শট নিয়েছেন যাতে ছবির বাস্তবতাটা বজায় থাকে । ছবির সাউন্ড ডিসাইন ও ছিল অসামান্য । বুলেটের আওয়াজ থেকে শুরু করে চলন্ত ট্রেনের শব্দ সব কিছুই ছিল অসাধারণ। অনিন্দিত রায় আর আদিপ সিং মানকি আবার নিজেদের যোগ্যতা প্রমান করলেন । ছবিটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে। সবার ওপরে ছিলেন পরিচালক অনিকেত চট্টোপাধ্যায় ।সিনেমার চিত্রনাট্য ও সংলাপ দুদ্ধর্ষ।এই ছবির জন্য ১০ এ ৮ দেওয়া যায়। এই সিনেমার মজা নিতে গেলে হলে গিয়ে দেখতে হবে। ছবির অন্যতম চমক ছিল দেব ও রুক্মিনীর অভিনয়। দিনকে দিন নতুন ভাবে নিজেকে তৈরী করছে রুক্মিণী মৈত্র।

** কৃতজ্ঞতা, ‘অয়ন’**

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *