‘পপ কিং’ মাইকেল জ্যাকসন….

michael_inner_683165120-800x515২৯ আগস্ট প্রয়াত ‘পপ কিং’ মাইকেল জ্যাকসনের জন্মদিন।জন্ম ২৯ আগস্ট, ১৯৫৮, গ্যারি ইন্ডিয়ানায়।২০০৯ সালে তার মৃত্যুর পর থেকে প্রতিবছর আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে সপ্তাহব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জ্যাকসনের জন্মদিনের উৎসব উদযাপন করা হয়।পৃথিবীর তাবড় জ্যাকসন প্রেমীরা এসে জড় হয় এই অনুষ্ঠানে।

মাইকেল জ্যাকসন ছিলেন একাধারে একজন সঙ্গীতশিল্পী, নৃত্যশিল্পী এবং সমাজসেবক। মাইকেল মাত্র পাঁচ বছর বয়সে ১৯৬৩ সালে পেশাদার সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি তখন জ্যাকসন ফাইভ নামের সঙ্গীত গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে গান গাইতেন। ১৯৭১ সাল থেকে মাইকেল একক শিল্পী হিসেবে গান গাইতে শুরু করেন। মাইকেলের গাওয়া পাঁচটি সঙ্গীত অ্যালবাম বিশ্বের সর্বাধিক বিক্রিত রেকডের্র মধ্যে রয়েছে- অফ দ্য ওয়াল (১৯৭৯), থ্রিলার (১৯৮২), ব্যাড (১৯৮৭), ডেঞ্জারাস (১৯৯১) এবং হিস্টরি (১৯৯৫)। মাইকেলকে পপ সঙ্গীতের রাজা বলা হয়।

মৃত্যুর পর সংগীতের ইতিহাসে জনপ্রিয়তার হিসাব-নিকাশ অনেকটাই বদলে দিয়েছেন মাইকেল জ্যাকসন; গড়েছেন নিত্যনতুন সব রেকর্ড। ২০০৯ সালের ২৫ জুন পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে যাওয়ার পর সে বছর সর্বাধিক বিক্রীত অ্যালবামের শিল্পী হিসেবে আবির্ভূত হন জ্যাকসন। মৃত্যুর এক বছরের মাথায় কেবল আমেরিকাতেই তার অ্যালবাম বিক্রি হয় ৮.২ মিলিয়ন কপি; আর বিশ্বজুড়ে বিক্রি হয় ৩৫ মিলিয়ন।

মৃত্যুর পর গান ডাউনলোডের ইতিহাসেও রেকর্ড গড়েন ‘পপ কিং’। মাত্র এক সপ্তাহে পয়সা খরচ করে জ্যাকসনের ১০ লাখ গান ডাউনলোড করে তার ভক্তরা। এর আগে এত কম সময়ে আর কোনো শিল্পীর এত বেশিসংখ্যক গান ডাউনলোড হয়নি।

জ্যাকসনের মৃত্যুর পর তার নির্বাচিত গান নিয়ে প্রকাশিত তিনটি অ্যালবাম এত বেশি বিক্রি হয় যে, কোনো জনপ্রিয় শিল্পীর নতুন অ্যালবামও এত বিক্রি হয়নি। এ ছাড়া, এক বছরে সর্বাধিক বিক্রীত সেরা বিশের তালিকায় জায়গা করে নেয় জ্যাকসনের চার-চারটি অ্যালবাম। আমেরিকার সংগীতের ইতিহাসে আর কোনো শিল্পীর ক্ষেত্রে এমনটা ঘটেনি।

১৯৮০র দশকে মাইকেল সঙ্গীত শিল্পীদের মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছান। তিনি প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী যিনি এমটিভিতে এতো জনপ্রিয়তা পান। বলা হয়, তার গাওয়া গানের ভিডিওর মাধ্যমেই এমটিভির প্রসার ঘটেছিল। গানের তালে তালে মাইকেলের নাচের কৌশলগুলোও ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। মাইকেলের জনপ্রিয় নাচের মধ্যে রবোট, ও মুনওয়াক (চাঁদে হাঁটা) রয়েছে। মুনওয়াক আসলে হলো সামনের দিকে হাঁটার দৃষ্টিভ্রম সৃষ্টি করে পিছনে যাবার ভঙ্গিমা।

২০০৫ সালে চাঁদে ১২০০ একরের প্লট কিনেছিলেন ‘পপ কিং’ মাইকেল জ্যাকসন। তার মৃত্যুর পর চাঁদের একটি আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের নাম পরিবর্তন করে ‘মাইকেল জোসেফ জ্যাকসন’ রাখা হয়। জ্যাকসনকে সম্মান জানাতেই এমনটা করেছিল দ্য লুনার রিপাবলিক সোসাইটি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *