চিত্রশিল্পী যামিনী রায় নিজেকে পটুয়া বলতে ভালবাসতেন।

kobid_7802368175177512d396fe8.84083696.jpg_xlargeতিনি নিজেকে বলতেন ‘পটুয়া’। বেশ গর্ব করে, জোরের সঙ্গে বলতেন। ভারতীয় লোকশিল্পকে আন্তরজার্তিক পৌঁছে দেওয়াটাই পোট্রেটশিল্পী  যামিনী রায়ের সবচাইতে বড় সাফল্য। এই চিত্রশিল্পী ১৮৮৭ সালে ১১ই এপ্রিল জন্মগ্রহন করেন।

ভারতে আধুনিক চিত্রকলার অগ্রপথিক অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রিয় শিষ্য যামিনী রায়  স্কুলের পড়া শেষে ১৯০৩ সালে কলকাতার সরকারি আর্ট স্কুলে ভর্তি হন। এখানে প্রচলিত  ধ্রুপদী অঙ্কনরীতি ও তৈলচিত্রে শিক্ষালাভ করেন। ১৯০৮ সালে ফাইন আর্টে ডিপ্লোমা লাভ করেন।  ছাত্রাবস্থাতেই তার আঁকা ছবি ক্লাসে বাঁধিয়ে টাঙিয়ে রাখা হতো।

যামিনী রায় প্রথম জীবনে পাশ্চাত্যের ইমপ্রেসনিস্ট ধারার ল্যান্ডস্কেপ নিয়ে কাজ করতে শুরু করেন। পরে ঐ ধারা থেকে সরে এসে কালিঘাটের পট চিত্রের প্রতি আকৃষ্ট ও প্রভাবিত হন। ১৯২১ থেকে ১৯২৪ সালের পুরো সময়টা  তিনি সাঁওতাল নাচকে বিষয় আকারে বেছে নেন।  বেঙ্গল স্কুল ও প্রচলিত পশ্চিমা ধারার বিপরিতে গিয়ে সম্পূর্ণ নতুন এক শিল্পধারার জন্ম দেন।

Two_cats_holding_a_large_prawn_(6124606539)

পটুয়াদের মতো তিনি মেটে রংয়ে ছবি আঁকতেন। তাদের মতোই একই বিষয়বস্তুকে বহুবার নানা ভাব-ভঙ্গিতে ও রঙে এঁকেছেন। তার আঁকা বিখ্যাত ছবির মধ্যে রয়েছে- ‘সাঁওতাল মা ও ছেলে’, ‘চাষির মুখ’, ‘পূজারিণী মেয়ে’, ‘কীর্তন’, ‘বাউল’, ‘গণেশ জননী’, ‘তিন কন্যা’, ‘যিশুখ্রীষ্ট’, ‘কনে ও তার দুই সঙ্গী’ ও ‘ক্রন্দসী মাছের সাথে দুই বেড়াল’।

১৯৩৮ সালে কলকাতায় তার প্রথম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৪৬ সালে লন্ডন ও ১৯৫৩ সালে নিউইয়র্কে তার ছবির প্রদর্শনী হয়। এ ছাড়া আরও অনেক দেশী-বিদেশী প্রদর্শনীতে তার ছবি ঠাঁই পেয়েছে। ভিক্টোরিয়া ও আলবার্ট মিউজিয়ামসহ আরও অনেক সংগ্রাহকের মূল্যবান ভাণ্ডারে সংরক্ষিত আছে তার চিত্রকর্ম। পরবর্তী প্রজন্মের অনেক চিত্রশিল্পী তার ধারায় অনুপ্রানিত হয়ে কাজ করে শিল্পীজগতে নিজেদের আসন করে নিতে সক্ষম হয়েছেন।

১৯৫৫ সালে তিনি পদ্ম ভূষণ উপাধি লাভ করেন এবং ১৯৫৬ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি দেয়। ১৯৭২ সালের ২৪ এপ্রিল যামিনী রায় মৃত্যুবরণ করেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *