অবহেলায় ‘মণিহারা’র মণিমালিকা’ চলে গেলেন।

The-Lost-Jewels_sourceগত ১৬ তারিক ইহলোক ত্যাগ করলেন বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের অভিনেত্রী কনিকা মজুমদার। পাঁচ দিন পর জনৈক সংবাদপত্রে ছোট্ট একটা সংবাদে বাংলার মানুষ ও চলচ্চিত্র অনুরাগীরা জানতে পারল যে সত্যজিৎ রায়ের তিনকন্যার এক কন্যা নীরবে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন । মৃত্যুর আগে পর্যন্ত লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে ‘অন্তরাগ’ বৃদ্ধাশ্রমে কাটিয়ে যাওয়া অভিনেত্রীকে নিয়ে আজ কোনও হেলদোল নেই।

বাংলা সিনেমার এই প্রতিভাময়ী অভিনেত্রীকে কেন্দ্র করে কোন তাপ উত্তাপ নেই। নেই নন্দন চত্তরে শায়িত মরদেহর ওপর নেতা, মন্ত্রী, অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের হামলে পড়া ভিড়। কেন থাকবে ? কনিকা দেবী কি নির্দিষ্ট কোন দলের অনুরাগী ছিলেন? না, ছিলেন না। তাহলে এই আচরণটাই বর্তমান সময়ে স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া হয়। তাই নমঃ নমঃ করে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন।

বাংলাদেশের ময়মনসিংহে ১৯৩৫ সালে জন্ম হয় কনিকা মজুমদারের। ব্রাহ্ম পরিবারের মেয়ে ছিলেন।সঙ্গীত এবং নৃত্যে পারদর্শীতার সঙ্গে ছিল চেহারায় নজর কাড়া সৌন্দর্য্য ও আভিজাত্য যা পরবর্তীকালে অনেক পরিচালকেই আকর্ষণ করেছিল।

১৯৬১ সালে সত্যজিত্‍ রায়ের ছবি ‘তিনকন্যা’-র ‘মণিহারা’ গল্পে নায়িকা হলেন কনিকা। সেই বছরেই কাজ করলেন মৃণাল সেনের ‘পুনশ্চ’ ছবিতে। এক বছরের মধ্যে দুই জগত বিখ্যাত পরচালকের সিনেমায় দাপটের সঙ্গে অভিনয় কনিকাকে খ্যাতির ছুড়ায় পৌঁছে দিয়েছিল।

এরপর ‘অগ্নিশিখা’,’চিড়িয়াখানা’, ‘বসন্তবিলাপ’, ‘বিলম্বিত লয়’, ‘হার মানা হার’,’রানুর প্রথম ভাগ’ ইত্যাদি সিনেমায় কনিকার অভিনয়ের রথের চাকা এগিয়ে চলে। উত্তমকুমারের সঙ্গে চুটিয়ে ৬টি সিনেমায় সাফল্যের সঙ্গে অভিনয় করেছেন ।।সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত ছবি তিন কন্যার ‘মণিহারা’র মণিমালিকা, ‘চিড়িয়াখানায়’ দময়ন্তীর চরিত্রে ও ‘বসন্ত বিলাপে’ স্নেহময়ী বৌদির চরিত্রে কনিকার অভিনয় বাঙালি আজ মনে রেখেছে।

ছায়াছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি কনিকা মজুমদার দীর্ঘদিন বেতার এবং মঞ্চে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন।মঞ্চে, ‘বেগম মেরী বিশ্বাস’ ও কড়ি দিয়ে কিনলাম নাটকে কনিকার অভিনয় টিকিট ঘরে হাউসফুল বোর্ড টাঙিয়ে রাখতো।

এই অসামান্য অভিনেত্রীর আত্মার শান্তি কামনা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *