“ভারতের বীর সন্ন্যাসী বিবেকানন্দ”

cwsv-vol09-img3স্বামী বিবেকানন্দ  ১২ জানুয়ারি, ১৮৬৩ সালে জন্মগ্রহন করেন।পূর্বাশ্রমে নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ দত্ত। স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন একজন হিন্দু সন্ন্যাসী, দার্শনিক, লেখক, সংগীতজ্ঞ এবং ১৯শ-শতাব্দীর ভারতীয় অতীন্দ্রি়বাদী রামকৃষ্ণ পরমহংসের প্রধান শিষ্য।তার পূর্বাশ্রমের নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ দত্ত। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে হিন্দুধর্ম তথা ভারতীয় বেদান্ত ও যোগ দর্শনের প্রচারে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন।অনেকে ১৯শ শতাব্দীর শেষার্ধে বিভিন্ন ধর্মমতগুলির মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক স্থাপন এবং হিন্দুধর্মকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান ধর্ম হিসেবে প্রচার করার কৃতিত্ব বিবেকানন্দকে দিয়ে থাকেন।ভারতে হিন্দু পুনরায় জাগরনে তিনি ছিলেন অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব।সেই সঙ্গে ব্রিটিশ ভারতে তিনি ভারতীয় জাতিয়তাবাদের ধারণাটি প্রবর্তন করেন।বিবেকানন্দ রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।তার সবচেয়ে বিখ্যাত বক্তৃতাটি হল,”আমেরিকার ভাই ও বোনেরা …,”১৮৯৩ সালে মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্রের শিকাগোয় বিশ্ব ধর্ম মহাসভায় প্রদত্ত চিকাগো বক্তৃতা,যার মাধ্যমেই তিনি পাশ্চাত্য সমাজে প্রথম হিন্দুধর্ম প্রচার করেন।

স্বামী বিবেকানন্দ কলকাতার এক উচ্চবিত্ত হিন্দু বাঙালি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।ছেলেবেলা থেকেই আধ্যাত্মিকতার প্রতি তিনি আকর্ষিত হতেন। তার গুরু রামকৃষ্ণ দেবের কাছ থেকে তিনি শেখেন,সকল জীবই ঈশ্বরের প্রতিভূ; তাই মানুষের সেবা করলেই ঈশ্বরের সেবা করা হয়। রামকৃষ্ণের মৃত্যুর পর বিবেকানন্দ ভারতীয় উপমহাদেশ ভালোভাবে ঘুরে দেখেন এবং ব্রিটিশ ভারতের আর্থ-সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ জ্ঞান অর্জন করেন।পরে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ১৮৯৩ সালের বিশ্ব ধর্ম মহাসভায় ভারত ও হিন্দুধর্মের প্রতিনিধিত্ব করেন।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড ও ইউরোপে তিনি হিন্দু দর্শনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অসংখ্য সাধারণ ও ঘরোয়া বক্তৃতা দিয়েছিলেন এবং ক্লাস নিয়েছিলেন। তার রচিত গ্রন্থগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য চিকাগো বক্তৃতা,কর্মযোগ,রাজযোগ,জ্ঞানযোগ,হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বেদান্ত,ভারতের বিবেকানন্দ,ভাববার কথা,পরিব্রাজক,প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য,বর্তমান ভারত,বীরবানী,মদীয় আচার্যদেব ইত্যাদি।বিবেকানন্দ ছিলেন সংগীতজ্ঞ ও গায়ক।তাঁর রচিত দুইটি বিখ্যাত গান হল “খণ্ডন- ভব -বন্ধন”  (শ্রীরামকৃষ্ণ আরাত্রিক ভজন) ও “নাহি সূর্য নাহি জ্যোতি”।এছাড়া “নাচুক তাহাতে শ্যামা”,”৪ঠা জুলাইয়ের প্রতি”, “সন্ন্যাসীর গীতি” ও “সখার প্রতি” তার রচিত কয়েকটি বিখ্যাত কবিতা।”সখার প্রতি” কবিতার অন্তিম দুইটি চরণ– “বহুরূপে সম্মুখে তোমার ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর? / জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।” – বিবেকানন্দের সর্বাধিক উদ্ধৃত একটি উক্তি।

ভারতে বিবেকানন্দকে ‘বীর সন্ন্যাসী” নামে অভিহিত করা হয় এবং তার জন্মদিনটি ভারতে জাতীয় যুব দিবস হিসেবে পালিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *