==ক্যালেন্ডারের জানা ও অজানা কথা==

egyptian-calendar-4000bc-2

Egyptian Calendar

ক্যালেন্ডারের ভুমিকা আমাদের জীবনে অসীম। অস্বীকার করার উপায় নেই যে আমাদের জীবন যাপন ক্যালেন্ডারের ছকে বাধা।কিন্তু আমদের কখনও মনে হয়েছে কি যে এই উপকারি ক্যালেন্ডারের আবিষ্কার কোথায় এবং কবে!কারা প্রথমে ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিল?এবং সেই ক্যালেন্ডারের চেহারা কেমন ছিল?

আমরা এখন যে ইংরাজি বর্ষ পালন করি সেটা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার।কয়েকশো বছর পিছিয়ে গেলে ইতিহাস থেকে যা জানা যায়,এই গ্রেগরিয়ান আসলে একটি সৌর বছর।এখন আমরা ক্যালেন্ডারের যে চেহারা দেখি সেই চেহারায় পৌছতে লেগে গিয়েছিল কয়েকশো বছর।বিস্তর পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে বর্তমান ক্যালেন্ডার রুপ নিয়েছে।ইতিহাস বলছে যে চাঁদের সরন দেখে মানুষ প্রথম বর্ষ গননা শুরু করে। সূর্যের বা সৌর গননার পদ্ধতি আসে অনেক পরে। জেনে রাখা ভালো যে সৌর ও চন্দ্র গননার হিসাব আলাদা। সৌর গননায় ঋতুর সম্পর্ক থাকে কিন্তু চন্দ্র গননায় ঋতুর সঙ্গে কোন সম্পর্ক থাকে না। বর্ষপঞ্জিকা তৈরির বিষয়টি সুমেরীয় সভ্যতার দান। মিসরিয়দের মধ্যে জ্যোতিবিজ্ঞান ও অঙ্কে পারদর্শিতা দেখতে পাওয়া জায়।এরাই পৃথিবীর প্রাচীনতম সৌর ক্যালেন্ডার আবিষ্কার করেছিল বলে ঐতিহাসিকরা জানাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের দীর্ঘ গবেষণার ফলাফল বলছে খ্রিষ্টপূর্ব ৪২৩৬ অব্দ থেকে ক্যালেন্ডারের ব্যবহার শুরু হয়।এবার অনুমান করে নিন প্রায় ছয় হাজার বছর আগে থেকে মানুষ ক্যালেন্ডার ব্যবহার করছে।

the-gregorian-calendar-western-calendar-christian-calendar-is-the-G15H69

Gregorian calendar

জ্ঞান বিজ্ঞানে মিসরীয়দের সঙ্গে সমানে পাল্লা দিত গ্রিক ও রোমানরা।গ্রিকদের থেকে ক্যালেন্ডার তৈরি শিখে ছিল রোমানরা।কিন্তু রোমানরা জানত না যে একটি বছরে ১২টি মাষ হয়, তারা জানত ১০ মাষে বছর।সমগ্র বছরে তারা ৩০৪ দিনের হিসাব করত। রোমানরা শীতকালের দুটি মাষ বর্ষ গননার হিসাবের মদ্ধেই রাখত না।১লা মার্চ থেকে তারা বছর শুরু করত। রোমান সম্রাট রামুলাস আনুমানিক ৭৩৮ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকে রোমান ক্যালেন্ডার চালু করেন। রোমান সম্রাট নুমা আরও দুটি মাষ যোগ করেন যথাক্রমে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি এবং জানুয়ারিকে বছরের প্রথম মাষ হিসাবে যুক্ত করেন।জানুয়ারি মাষ ২৯ দিন এবং ফেব্রুয়ারি মাষ ২৮ দিন।এই দুটি মাষের বাইরেও তিনি আরও একটা অতিরিক্ত মাষ জুড়ে দেন।মাষটি ২২ দিনে গননা করা হতো।এই বাড়তি মাষটি গননা করা হতো একবছর অন্তর ফেব্রুয়ারি মাষের ২৩ এবং ২৪ তারিখের মাঝখানে।এই হিসাবটি খ্রিষ্টপূর্ব ৪৩২ অব্দে বদলে যায়।আমরা এখন যে চার বছর অন্তর লিপ ইয়ার পালন করি তা রোমানরাই প্রবর্তন করেছিল। রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার রোমে মিসরীয় ক্যালেন্ডার চালু করেন।সিজার খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬ অব্দে নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মাঝে ৬৭ দিন এবং ফেব্রুয়ারি মাষের শেষে ২৩ দিন,মোট ৯০ দিন যুক্ত করে ক্যালেন্ডার সংস্কার করেন। এই ক্যালেন্ডারকে জুলিয়াস ক্যালেন্ডার বলা হতো। জুলিয়াস ক্যালেন্ডারে মার্চ,মে,কুইন্টিলিস ও অক্টোবর মাষের দিন সংখ্যা ৩১ এবং ফেব্রুয়ারি মাষ ২৮ দিন যাকে আমরা লিপ ইয়ার বলি,সেই ফেব্রুয়ারি মাষে প্রতি চার বছর অন্তর একদিন করে যুক্ত করা হয়।নাম বদলে কুইন্টিলিস মাষ হয় জুলিয়াসের নামে জুলাই।

Aztecan

রোমান সম্রাট আগাস্টাসের নামে সেক্সটিনিস মাষ নাম বদলে হয় আগাস্ট মাষ।জুলিয়াস সিজার ৩৬৫ দিনের ক্যালেন্ডার চালু করেন। খ্রিষ্ট বছর বা খ্রিষ্টাব্দ চালু হয় আরও পরে।ডাইওনিসিয়াম এক্সিগুয়াস নামে এক খ্রিষ্টান পাদরি যিশু খ্রিষ্টের জন্ম বছর ৫৩২ অব্দ থেকে সূচনা করেন খ্রিষ্টাব্দের।পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি জ্যোতির্বিদের পরামর্শে ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে জুলিয়াস ক্যালেন্ডারের পুনরায় সংস্কার করেন। অক্টোবর মাষ থেকে ১৫ দিন বাদ দেওয়া হয় ফলে ঐ বছর ৫ তারিখকে করা হয় ১৫ তারিখ।ঠিক হয়,যে সব শতবর্ষীয় অব্দ ৪০০ দিয়ে বিভক্ত হবে,সেই সব শতবর্ষ লিপ ইয়ার হিসাবে গন্য হবে।পোপ গ্রেগরি প্রবর্তিত ক্যালেন্ডারই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার হিসাবে পরিচিতি পায় এবং এই ক্যালেন্ডারটিকেই নিখুঁত ক্যালেন্ডার হিসাবে মান্যতা দিয়ে ইংরাজি নতুন বর্ষ পালন করি।

আরও একটা ব্যাপার আমরা যে বাংলা ক্যালেন্ডার দেখে ১লা বৈশাখ পালন করি তার প্রবর্তন করেছিলে সম্রাট আকবর।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *