এখনও সোনিয়া গান্ধী ভাবেন নি……অধীর বলছেন কেন?

posterসামনে বিধানসভা নির্বাচন, পশ্চিমবাংলার দুই যুযুধান শিবিরে চাপানউতর।জাতীয় কংগ্রেস কার সঙ্গে জোট করবে, সিপিএম না তৃনমূল? জাতীয় রাজনীতির বাধ্য বাধকতা অবশ্যই এই জোট সঙ্গী হওয়ার ব্যাপারে একটা বড় ভূমিকা পালন করবে। বঙ্গ কংগ্রেসের নেতাদের ঘনঘন দিল্লী-কলকাতা উড়ানে উড়ে যাওয়া আর নিজেদের স্বপক্ষে যুক্তি খাড়া করার কৌশল চলছে চলবে।কিন্তু আকাট্য যুক্তির অভাব রয়েছে বোঝা যাচ্ছে, জোট বিরোধী ব্যানার-হোডিং কলকাতা ও বিভিন্ন জেলায় ছেয়ে যাওয়া প্রমান করে জোটপন্থী ও জোট বিরোধীদের তরজা। গতকাল কংগ্রেসি নেতাদের চাতক পাখির মতো দিল্লীর দিকে তাকিয়ে থাকাই সাড় হল। সর্বভারতীয় কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী কিছুই জানালেন না, হয়ত আগামী ৫ই মার্চের আগে জানাবেনও না কিন্তু মজার ব্যাপার হল কেন জানালেন না, কেন বঙ্গ কংগ্রেস নেতাদের চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করাচ্ছেন। কারন সেই চিরন্তন জাতীয় রাজনীতির বাধ্যবাধকতা,আজ থেকে সংসদদের বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে, সংসদে রোহিত ভেমুলা ও জে এন ইউ ইস্যুতে ঝড় তোলার জন্য কংগ্রেস কোমর বাঁধছে। বিশেষ করে ইউপিএ-র আমলে আনা জমি অধিগ্রহণ বিল যা ২০১৪সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই,পর পর অর্ডিন্যান্স জারি করে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিরিখে লোকসভায় বিলটি পাশ করালেও বিলটি রাজ্যসভায় আটকে যায়, কংগ্রেসের আনা ছয়টি সংশোধনী মেনে নিয়েছেন মোদী, ২০১১ জমি অধিগ্রহণ বিলের চরিত্র বদলে গেছে। সেই বিল প্রত্যাহার এবং মোদী সরকারের নতুন বিল যা লোকসভায় পেশ করবে বি যে পি। তৃনমূলের দীর্ঘদিনের লড়াই,সরকারি আইনকে হাতিয়ার করে জমি অধিগ্রহণ করা যাবে না, সেই লড়াই সার্থক রূপ পেতে চলেছে এই নতুন জমি বিলটীতে। সেক্ষেত্রে লোকসভায় তৃনমূলের আচরণ কংগ্রেস সভানেত্রির অন্যতম দেখার বিষয়।আবার বিজেপি ও আরএসএস-এর অসহিষ্ণুতার প্রশ্নে তৃণমূলের ও বামদলগুলির ভূমিকা প্রধান বিচার্য হবে নিঃসন্দেহে।অতএব সংসদ অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলবেন না সোনিয়া গান্ধী।অন্য দিকে বামদলগুলি তাদের দুমুখোনীতি প্রকাশ করেছে। কেরল ও আসাম এ কংগ্রেস মূল শত্রু এবং সেখানে কংগ্রেসকে কুশাসক আখ্যা দিয়ে কংগ্রেস হাটাও শ্লোগান দিয়েছে। তামিলনাড়ু ও পদুচেরিতে কংগ্রেস বিরোধী জোটে সামিল হয়েছে। শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সুবিধাবাদী নীতি নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করা যায় বলে মত প্রকাশ করেছে। সোনিয়া গান্ধী বিচক্ষণ মহিলা, কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার আগে উনি বাজেট অধিবেশনকে খুব তীক্ষ্ণ নজরে দেখবেন এবং আগামিদিনে জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেস কাদেরকে নিজের পাশে পাবে, কারা সংসদের ভিতর বিজেপিকে মহড়া নিতে সাহায্য করছে সেই হিসেব কোষে নিকেশ করবে। আগামী ৫ই মার্চের আগে সোনিয়া গান্ধী বঙ্গ কংগ্রেসের জোট সংক্রান্ত কোন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন বলে মনে হয় না।

বঙ্গ কংগ্রেসে জোটের পক্ষে যে অনুশীলন চলছে তা প্রকাশ পাচ্ছে কান্দি পুরসভার অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে। যেখানে কংগ্রেস কাউন্সিলারদের সাথে বাম সমর্থিত নির্দল কাউন্সিলার দেবজ্যোতি রায়ের অপহরণকে কেন্দ্র করে ধর্মতলায় প্রদেশ সভাপতির ধর্না অবস্থান।উল্লেখযোগ্য বিষয়, সেই ধর্না মঞ্ছে কংগ্রেস এবং সিপিএম যৌথ মিছিল করে যোগদান। যে জনৈক যুবক নিজেকে ডি,ওয়াই,এফ  নেতা পরিচয় দিয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিলেন এই মর্মে অপশাসক তৃনমূল সরকারকে উৎখাত করার জন্য স্বইচ্ছায় যোগদান করেছেন। কিন্তু তার পুষ্টি ডি,ওয়াই,এফ,আই রাজ্য কমিটি পক্ষ থেকে হয়নি,জনসমক্ষে জোট দেখাতে গিয়ে কংগ্রেসিরাই লাল ঝাণ্ডা ধরেনি তো?প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলছেন আমাদের জোট হয়ে গেছে তাহলে দিল্লীর সংকেতের অপেক্ষায় থাকাছেন কেন?আসলে অধীরবাবু নিজের মুর্শিদাবাদকে বাঁচাতে মরীয়া তাই আগে থেকে অঙ্ক কোষে জোটের ধুয়ো তুলে বাঁচতে চাইছেন।নাহলে জোট হয়েগেছে একমাত্র উনিই বার বার বলছেন কেন?আসলে সিপিএম কংগ্রেস যৌথ শক্তির বাতাবরণ তৈরি করে নিজের জেলায় তৃনমূলকে চাপে রাখছেন।রাজনৈতিক কৌশলের দিক থেকে ঠিক কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার যখন হাইকম্যান্ডের সেই ক্ষেত্রে আগ বাড়িয়ে বাজার গরম করে নিজের ক্ষতি করছেন কেন?সোনা যাচ্ছে অধীর বাবু দিনকয়েক আগে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন, সোনিয়া গান্ধী সময় দেননি কিন্তু বাকি যারা সময় চেয়েছিলেন তাদের সকলের সঙ্গেই কথা বলেছেন।তাহলে অনুমান করা অমুলক হবে, দিল্লী শুরুতে অধীরকে যে একক ক্ষমতা দিয়েছিল,সেই ক্ষমতার ক্রমাগত অপব্যবহার করে বাকি নেতাদের একঘরে করে দিতে গিয়ে অধীরের বিরুদ্ধে ওঠা ক্রমাগত অভিযোগ,দিল্লিকে কি ভাবাচ্ছে?নিশ্চয় এর পরিনতি আমরা দেখবে সকলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *