Eden e Choto Bole..Boro Lorai,DG Talks.

Supreme_Court_of_India_-_Retouchedমহারাজের রাজত্বে রণকৌশল নাকি তৈরি হবে ২৯জুনের পর! ঐদিন সুপ্রিম কোর্টের লোধা কমিটির রিপোর্ট নিয়ে পরবর্তী শুনানি। অভিজ্ঞ মহল মনে করছে, ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ে ক্রিকেট নিয়ে রায়দান জুলাইয়ে গরিয়ে যাবে। জুলাইয়ের কবে? দিনটার দিকে তাকিয়ে ‘সিএবি’র ১০০ভাগ কর্তারা, সৌরভ গাঙ্গুলিও, কারন কি? লোধা কমিটির একটি সুপারিশে আগ্রহী বাংলার ক্রিকেট কর্তারা।টানা আট বছরের বেশী ক্রিকেট সংস্থার কোনও পদে থাকা যাবে না। এই নিয়মটা বোর্ডের সংবিধানে চেপে বসলেই- সৌরভ শিবিরের ম্যাচ জয় মসৃণ হয়ে যাবে। সৌরভ বনাম বিশ্বরূপ ডুয়েলের সেইদিনই ইতি ঘটে যাবে।

কিন্তু কেন এসব ইডেনের ক্লাব হাউসের চেম্বারে চেম্বারে চলছে! বিশ্বনাথ দত্ত- জগমোহন ডালমিয়ারা সবসময় চেয়েছিলেন ‘সিএবি’তে যেন নির্বাচন না হয়। ক্রিকেট ভদ্রলোকের খেলা, ক্ষমতার লড়াইয়ে নিজেদের মধ্যে লড়াই চাইতেন না। ডালমিয়া প্রয়াত হয়েছেন এক বছরও হয়নি,অথছ তারই মধ্যে ‘সিএবি’তে এবার নির্বাচন হাওয়া প্রবল ভাবে বইছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী চেয়েছিলেন। নিন্দুকরা বলেন, সেই সময় জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া(চ্যাপেল চালে) সৌরভ পক্ষও চেয়েছিল। তাই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য- র আশীর্বাদ নিয়ে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার প্রসুন মুখোপাধ্যায় সিএবি নির্বাচনে লড়ে। প্রশাসনিক সাপোর্ট ছিল। মিত্র- দাসগুপ্তরাও ময়দানের পালাবদলে ডালমিয়া শিবির ছেড়ে মুখোপাধ্যায় শিবিরে ভিড়ে ছিল। বেশ মনে পড়ে রোটারি সদনে সান্ধ্য জমায়েতের ছবিতা।কয়েক কিলোমিটার দূরে থিয়েটার রোডের অফিসে ডালমিয়া তখন নিঃসঙ্গ, থুড়ি একমাত্র ছায়াসঙ্গী বিশ্বরূপ দে। শরদিন্দু পালরা। সমর পাল- প্রসূনরা সঙ্গে পেয়েছিলেন সৌরভের দাদা স্নেহাশিস গাঙ্গুলিকে, অর্থাৎ শিবির বদলের সাজ সাজ রব উঠেছিল।

download (1)

অথচ এই বিশ্বরূপ দে’র ক্লাব সেন্ট্রাল ক্যালকাটা থেকে অনেক সময় ‘সিএবি’তে ডালমিয়ার বিপক্ষে কেউ-না-কেউ দাঁড়িয়ে ছিলেন। ভুপেন্দ্র নাথ দে’ও(বিশ্বরূপের বাবা)ব্যতিক্রম ছিলেন না, এবং গো হারান হারতেন বার বার। একইভাবে মাঝে-মধ্যে সচিব পদে এরিয়ানের সমর পালও বিরোধী শিবির থেকে লড়েছেন। হেরেওছেন।কিন্তু সভাপতি প্রসুন মুখোপাধ্যায় এর সময় এই সমর পাল-ই ছিলেন যুগ্ম সচিব এবং সমর বাবু বন্ধু দিলিপ বেঙ্গসরকরের জামানায় আবার সৌরভকে জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেন। সৌরভ জাতীয় দলে ফিরতেই, বিশ্বরূপ শুরু করেন জগমোহন ডালমিয়াকে রাজ্য এবং জাতীয় ক্রিকেট প্রশাসনে ফিরিয়ে আনার ঘুঁটি সাজাতে। শ্রীনিবাসন আঙ্কেল হন বিশ্বরূপের আর শ্রীনির বউ হন আন্টি। ললিত মোদীর ওপর কোপ পড়তেই অ্যান্টি শ্রীনিকে অভিজ্ঞ ডালমিয়ার কাছাকাছি আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। শশাঙ্ক মনোহর- শ্রীনিদের ডালমিয়া রোষ থেকে বের করার ‘পিআর’ জবটা সারেন এই বিশ্বরূপই। আজ বিশ্বরূপ সিএবি’র কোষাধ্যক্ষ, সৌরভ সিএবি’র সভাপতি কিন্তু জুলাইতে সিএবি’র নির্বাচন হাওয়াটা গরম এই দুজনের একরোখা মনোভাবেই।সৌরভ- বিশ্বরূপ ক্যামেরাবন্ধী হন একসঙ্গে কিন্তু কেউ কারোর সঙ্গ পছন্দ করেন কি? উত্তরটা হলঃ না। তাই সিএবি’তে একই দলে থেকে আজ উপদল তৈরি হওয়ার তোরজোড়।

কোনও সন্দেহ নেই, ডালমিয়ার প্রত্যাবর্তনে কারোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ থাকলে- তা অবশ্যই বিশ্বরূপ দে’র আবার সৌরভকে প্রশাসকের আসনে বসিয়ে দেওয়ার কারিগর ডালমিয়াই। সৌরভ মানেই প্রচারের ফ্লাডলাইট তারই ওপর থাকা। ফলে বিশ্বরূপ- সুবীর গাঙ্গুলি-গৌতম দাসগুপ্ত- চিত্রক মিত্র- শরদিন্দু পাল’রা সেই বলয় থেকে দূরে সরে যেতে থাকলেন। ডালমিয়া যখন ভারতীয় বোর্ডের হত্তা- কর্তা, তখনই সৌরভের দাদাগিরি তুঙ্গে। কোচ জন রাইটও মাষ মাহিনা সময় মতো না পেলে সৌরভকে ধরতেন। সৌরভ স্যারকে(ডালমিয়া) ফোন করতেন। সঙ্গে সঙ্গে কাজ হতো। ডালমিয়া’র নেতৃতে সৌরভ যুগ্ম সচিব হয়ে কাজ শুরু করলেও সময় তেমন দিতে পারতেন না।টিভির ধারাভাষ্যকার, দাদাগিরি টিভি শো, আর কিছুটা মন থেকে টান কম থাকায়।

পট দ্রুত বদলায়,ডালমিয়া প্রয়ানেই। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর স্নেহধন্য হয়ে ওঠা, প্রিন্স অফ ক্যালকাটা সভাপতি হয়ে যান। এটাই বিশ্বরূপরা মানতে পারেননি। প্রশাসক আর খেলোয়াড়দের ইগোর এক বিচিত্র লড়াই আছে। প্রশাসক বিশ্বরূপ তাই বিনা যুদ্ধে নাহি দিব ছুচাগ্র মেদনী মেজাজেই রয়েছেন। স্বাভাবিক ওনার ভাবনাটা। জেলা থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্লাব প্রতিনিধির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। এমনকি কোনও ক্লাব কর্তার জন্মদিন হলে কেক নিয়ে তার বাড়ী উপস্থিত হন। জেলার ডাকে হাজির থাকা। গ্রাউন্ড লেভেলে বিশ্বরূপ অনেক বেশী গ্রহণযোগ্য। সৌরভ আজও তারকা- সেলিব্রিটি। ওর সঙ্গে সেলফি কিংবা ছবি তুলেনিয়ে যাওয়াটা মিটিং এ আসা অনেক কর্তারই লক্ষ্য। সৌরভ তাও এই কমাসে নিজেকে অনেক বদলেছেন। টিভি ভাস্যকারের ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার লোভনীয় চুক্তি হেলায় ফিরিয়ে দিয়েছেন শুধুমাত্র সিএবিকে বেশী সময় দেবেন বলে। সৌরভ সফল সভাপতি হতে চান।

cricket_association_kolkata

সেই রাস্তায় সৌরভ অনেকটাই এগিয়েছেন। এই বছর প্রায় ১২-১৩ কোটি টাকা সিএবি’র জন্য স্পন্সর জোগাড় করেছেন।সকলে বলাবলি করছেন, সৌরভ যুগ্ম সচিব হয়েও তো এই কাজটা করতে পারতেন-ডালমিয়া দেখে যেতে পারতেন। যোগ্য উত্তরসুরি সিএবিকে দিয়ে গেলেন এই তৃপ্তিতে ঢেঁকুর তুলতেন। অনেক এও বলছে যে ডালমিয়া ৮-১০ বছর সভাপতি হয়ে যা যা করেন নি, সৌরভ তাই তাই করছেন। কারন নিজের ক্ষমতা জাহির করে বোঝানো তার হাতেই বাংলা ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত।

তাহলে বিশ্বরূপ কেন সংঘাতে নামছেন!- আসলে সিএবি থেকে কাজকর্মের মেয়াদ শেষে তিনি দূরে চলে যাবেন, এটা মানতে পারছেন না। ডালমিয়া পরিবারে একটা বড় অংশ আজও ভোলেনি ডালমিয়ার জন্য কি কি করেছেন। শেষবেলায় বোর্ডের বার্ষিক সভায় হাজির হলে অনুরাগ ঠাকুরকে জিতিয়ে শ্রীনি শিবিরকে বেসামাল করে দেন। শ্রীনি’র সব গেমপ্ল্যান চৌপাট হয়ে জায়।এমনকি বিশ্বরূপ যে লক্ষ্যে এগুচ্ছিলেন – তাও ধ্বসে যায়। শুরু সৌরভ- বিশ্বরূপের প্রবল সংঘাত।

তাই সকলে লোধা কমিশনের রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে। যদি সিএবি’র নমিনেশন জমা দেওয়ার আগে তা প্রকাশ পায় তাহলে সৌরভ অনেকটাই নিশ্চিত হবেন। কারন যুগ্ম সচিব, সচিব ও কোষাধ্যক্ষও পদে থাকা বিশ্বরূপ টানা ৮ বছর পূর্ণ করে ফেলেছেন। তাহলে আবার যুগ্ম সচিব পদে ফেরার আসা শেষ। বিশ্বরূপ নিশ্চয় এতটা বোকা এখন আর নন যে, সৌরভের সঙ্গে সভাপতি পদে লড়বেন। বরঞ্চ মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাব মতন এবার চাইতে পারেন- আবার যুগ্ম সচিব পদে ফিরতে( যদি লোধা কমিশনের টানা ৮ বছরের বিধিনিষেধ চালু না হয়) সৌরভও অপেক্ষায় আছেন। নিজস্ব নেটওয়ার্ক দিয়ে বরঞ্চ চাইছেন সর্বক্ষেত্রে এ নিয়ম চালু করতে।

Nabanna-1456922172

এবং নবান্ন নজর তো থাকছেই। ইতিমধ্যে সিএবিতে দশটি ক্লাব থেকে তৃনমূলের প্রথম সারির নেতা- মন্ত্রীরা ঢুকে পড়েছেন। জেলা থেকেও বাড়ছে বিধায়ক ও প্রভাবশালীদের ভির।এর সঙ্গে রয়েছেন লক্ষ্মীরতন শুক্লা। নজীর গড়ে ফেললেন মন্ত্রী হয়ে ক্লাবের হয়ে খেলে যাওয়ায়। মুখ্যমন্ত্রীর আগ্রহে নাকি লক্ষ্মী মাঠে ফিরেছেন। এরপর সিএবিতে কোনও ক্লাবের হয়ে চলে আসতেই পারেন। ময়দান জানে লক্ষ্মী এখন ক্রিকেটারের চেয়ে বড় পদে- ক্রীড়া মন্ত্রী। সৌরভ যে লক্ষ্মী মন্ত্রী নিয়ে মানসিক অস্বস্তিতে আছেন- তা লিখে আর মুখে বলার অপেক্ষা রাখে না।

নবান্ন নিউট্রাল হলে, সৌরভের প্যানেলে যুগ্ম সচিব প্রবীর চক্রবর্তী কিংবা খাজাঞ্চি পদে নরেশ ওঝা হলেও- বিশ্বরূপ প্যানেল একটা আসন জিতলেও – সৌরভের পরাজয়ই। বরঞ্চ ইগো সরিয়ে সমঝোতাই বাংলার ক্রিকেটের খুব দরকার। কিন্তু বেড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে বাঁ কারা???

safe_image (5)

DG Talks.

দীপঙ্কর গুহ… সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক

মতামত জানান…guha.dipankar@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *