জনগনের ভোটে দল সরকারে এলো.. বিনিময়ে জনগন কি পেল?- দেবাশীষ পাইন

poster111২৫ জন মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়ে ও শতাধিককে গুরুতর আহত করে ভেঙে পড়ল বিবেকানন্দ উড়ালপুল। রবীন্দ্র সরণী ও বিবেকানন্দ রোডের সংযোগস্থলে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা পুরো কলকাতাবাসীকে নাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলির দায় স্বীকারে একে অপরের প্রতি চাপান উতর সত্যি লজ্জা দিচ্ছে। সাধারণ মানুষ মনে করতেই পারেন রাজনৈতিক দলগুলি ক্ষমতায় তো আসেন মানুষের সেবার কথা বলে আদতে শুধুই লোক ঠকান, দলগুলির মানবিকতা বলে কোনও পদার্থ নেই। লোহা আর কংক্রিটের নীচে চাপা পড়া মানুষগুলিকে উদ্ধার কে করবে পুলিশ না সেনা বাহিনি এই সিদ্ধান্ত নিতে কয়েক ঘণ্টা অনায়াসে পার করে দিতে পারে আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলি। এই ধরনের দুর্ঘটনার কাজে সেনা বাহিনী কতটা পটু তার প্রমান পেয়েছে বিগত অমরনাথ ও কাশ্মিরে তা সত্তেও কেন এই বিলম্ব? কেন সেনা বাহিনির জওয়ানদের দর্শকের ভূমিকায় দেখল কলকাতার মানুষ!  সামনের নির্বাচনই কি বাধ্য করাল এই আচরণে, সরকার ভালো করেই জানে পুলিশ ও দমকল দিয়ে এই অসাধ্য সাধন অসম্ভব। উপযুক্ত সময়ে উদ্ধারকাজে নামলে অনেক আহতকেই মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচান যেত। শুধুমাত্র অক্ষমতাকে লোকদেখানো সক্ষমতায় তুলে ধরাতে গিয়ে বহু মানুষের প্রাণ গেল। ভোটের আগে কোনও ভাবেই কোনও ঘটনাকেই হারের কারন হতে দেওয়া যাবে না তাতে মানুষের প্রাণ গেলে যাক। দেখছেন না কি ভাবে এক দল ৩৪ বছরের শাসনকে দুষছে  পাল্টা দল ৫ বছরের শাসনকে আর এই চাপান উতরের জাঁতা কলে পিষছেন সাধারণ মানুষ। মানছি ২০০৯ সালে বাম আমলে এই প্রকল্পের শুরু হয় কিন্তু ২০১১ সালে তৃনমূল ক্ষমতায় আসার আগে ivrcl সংস্থাটি ভারতের বহু রাজ্যে কালো তালিকা ভুক্তির আওতায় এসে যায়। এখন প্রশ্ন তৃনমূল সরকার কেন এহেন কালো তালিকাভুক্ত IVRCL  কে বাতিল করল না। ২০০৯ সালে চুক্তির সময় উড়ালপুল নির্মাণে ১৬৮ কোটি খরচ ধার্য করা হয়েছিল মাঝের ৭ বছর প্রায় কোনও কাজ হয়নি বললেই চলে এর ভেতরে নিদেন পক্ষে ২২ বার উড়ালপুলের নকশায় পরিবর্তন করা হয় কারন মাটির নীচে কেবেল বাঁচিয়ে নকশা বানাতে গিয়ে কোথায় গলদ হয়ে গেছে কারোর জানা নেই। ইতিমধ্যে কোমপানিটি  প্রায় ১০০০০ হাজার কোটি টাকা দেনা এবং ২০০০ কোটি টাকা লোকসানে চলছে, হটাত করে   মুখ্যমন্ত্রী কোনও এক বিধায়কের জগধাত্রি পুজার উদ্বোধনে গিয়ে ঘোষণা করে দিলেন ২.২ কিমি উড়ালপুলটির বাকি ৯০০ মিটার কাজ ফেব্রুয়ারির মাসের মধ্যে শেষ করে জনগনের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হবে। পাশে বসা নগরউন্নয়ন মন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রীকে বলেন সেপ্টেম্বরের আগে কিছুতেই সম্ভব নয় কিন্তু তাড়াহুড়ো করা স্বভাবের মুখ্যমন্ত্রী কারোর কথা শোনার পাত্রী নন আর এই সুযোগের সদব্যবহার করল IVRCL  কোম্পানি। নির্মাণের মালমশলা কেনার জন্য হেঁকে বসল ৭৪ কোটি টাকার interim bail out সরকার ওই টাকা দিতে রাজি না হওয়াতে sub contact এ দিয়ে দিল IVRCL, হাজার হাজার মানুষ যে উড়ালপুল দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করবে সেই পুলের প্যাঁচ কেটে যাওয়া নাটবল্টু ঝালাই করে তার ওপর ঢালাই করে দিল। একবারও ভাবল না কি পরিণতি হতে পারে।

এখন  তৃনমূল সাংসদ সুদীপ ব্যানার্জী বলছেন যে, ব্রীজের নকশায় ভুল ছিল। তাহলে জনগনের ভোটে দল সরকারে এলো… জনগনের টাকা আত্মসাদ হল… বিনিময়ে জনগন কি পেল? প্রান দিল। এর পরেও যদি সম্বিত না ফেরে তাহলে কবে ফিরবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *