‘হাইপারলুপ ট্রেন’ বদলে দেবে ভবিষ্যৎ যোগাযোগ ব্যবস্থা

Hyperloop_150917-Rearধীর গতির যোগাযোগ ব্যবস্থা যে কোনও উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে অন্যতম প্রধান বাধা। তাই উন্নত দেশগুলি এখন বুলেট ট্রেনের চাইতে তিনগুন বেশি গতিসম্পন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা  ‘হাইপারলুপ’ নিয়ে মশগুল।

হাইপারলুপ ট্রেনের গতিবেগ শব্দের গতিবেগের ০.৯১ গুন। ৭৮৭ বোয়িং উড়োজাহাজের চেয়েও বেশি। ভারতে যদি আগামি ২০২৩ সালে বুলেট ট্রেন চালু হয় তাহলে হাওড়া থেকে দিল্লি যেতে সময় লাগবে চার ঘণ্টার একটু বেশি, সেখানে হাইপারলুপ পৌঁছে দেবে এক ঘণ্টার সামান্য বেশি সময়ে! বাস্তবে এই ট্রেন চালু হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার চেহারাটাই বদলে দেবে।

হাইপারলুপ- একটা ক্যাপসুলকে কম চাপযুক্ত ষ্টীলের টিউবের মধ্যে দিয়ে চালনা করা হয়। ঠিক উড়োজাহাজ যেমন বায়ুমন্ডলের উপরের কম চাপযুক্ত স্তরের মধ্যে দিয়ে দ্রুত যাতায়াত করে, ঠিক তেমনই হাইপারলুপে একই ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। হাইপারলুপে নিউমেটিক প্রোপালসান ব্যবস্থা বৈদ্যুতিক শক্তিকে ব্যবহার করে টিউবের মধ্যে বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টি করে এবং এই বায়ুপ্রবাহ ক্যাপসুলকে চালনা করে। এই বায়ুপ্রবাহকে নিয়ন্ত্রন করে ক্যাপসুলের গতিবেগ কমানো বা বাড়ানো যায়। টিউবের মধ্যে পরিবর্তনশীল চৌম্বকক্ষেত্র ক্যাপসুলের গতি সৃষ্টিতে সাহায্য করে। হাইপারলুপ ট্রেনে মুখোমুখি সংঘর্ষের কোনও সম্ভাবনা নেই।

হাইপারলুপের প্রধান সুবিধা হল খারাপ আবহাওয়া এর যাত্রায় কোনও প্রভাব ফেলতে পারে না। তাই ৩৪০০ যাত্রী বহনে সক্ষম হাইপারলুপ ট্রেন চালু হলে বুলেট ট্রেন ও উড়োজাহাজের থেকে অনেকটাই এগিয়ে থাকবে।

হাইপারলুপ ট্রেনকে অপ্রচলিত শক্তির দ্বারা চালনা করা যায়। পরিবেশ বান্ধব ব্যবস্থায় ট্রেন চলার ফলে উৎপন্ন গতিশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ২৪ ঘণ্টার জন্য সঞ্চয় করা যাবে।

স্পেস এক্স কোম্পানির কর্ণধার ইলন মাস্ক, প্রথমে লস অ্যাঞ্জেলস থেকে সানফ্রানসিসকো পর্যন্ত হাইপারলুপ ট্রেনের পরিকাঠামো নির্মাণে অগ্রসর হয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *