বেবি ট্যাক্সি ৮০ তে-১০০ গোল নিয়ে।

is (3)বিহার থেকে আসা ছেলেটিকে কলকাতার মানুষ আদর করে নাম দিয়েছিল বেবি ট্যাক্সি। মাঠের উইং দিয়ে দুরন্ত গতিতে দৌড়,পায়ে নিখুঁত নিশানায় শক্তিশালী শট,দুর্দান্ত বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং সর্বোপরি ফুটবল বোধ। ৮০তে পা দিলেন প্রদিপ ব্যানার্জি।

বাংলার মাঠ থেকে রান্নাঘরে, বৈঠকখানা থেকে পাড়ার রক সরগরম থাকত উত্তম-সৌমিত্র আর“চুনি-পিকে” নিয়ে। কে বড় আর কে ছোট এই তর্কে বহু সন্ধ্যায় কালাতিপাত করেছে বাঙ্গালি। তবে বাকিদের থেকে ‘পিকে’ একটু আলাদা। যেখানে আর সবাই মোহনবাগান বা ইস্টবেঙ্গল খেলে খ্যাতির শিখরে উঠেছিল সেখানে বিহার থেকে আসা একজন ছেলে শুধু এরিয়ান বা রেলে খেলে বাকিদের সমকক্ষ তো হয়েইছিল, উপরন্ত অনেক ভারতীয় ফুটবলের বড় নামকে ছাপিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছিল।

৮৪টা আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৬৪ টা গোল!!!!! ভাবা যায়। ক্লাব ফুটবলের কথা বাদ দিলাম, ওটা জুড়লে ১০০ পার হবে!! কারোর কর্তাভজা না হয়ে এই দৃস্থান্ত সত্যি ভারতীয় ফুটবলে বিরল। ভারত সরকার খেলোয়াড়দের সন্মানিত করতে অর্জুন পুরষ্কারের প্রচলন করার শুরুতেই, কোনও ভুল করেনি, সবার আগে পিকের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে। বিংশ শতকে ফিফা মনোনীত ভারতীয় ফুটবলার যাকে ভারত সরকার পদ্মশ্রী সন্মানে ভূষিত করেন- এই সিদ্ধান্তেও কোনও ভুল ছিল না- না ফিফার না ভারত সরকারের।

আজ সকালেই ফোনে কথা বললাম। উরি বাসস, টকবগ করে ফুটছেন। কি এনার্জি!! সেরিব্র্যালও কাবু করতে পারে নি যতটা স্ত্রী আরতির অকাল প্রয়াণ করে দিয়েছে।

একবিংশ আপনার শতায়ু কামনা করে- আপনি ভালো থাকুন ‘পিকে’। ৮০ তেও প্রজন্ম পার করে আজও সবার স্মৃতিতে অম্লান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *