‘বাগরি বাজারের ব্যবসায়ীরা অপেক্ষায় থাক !’, দেবাশীষ পাইন।

9ab2c1e069ae9846a3876c69354b0520শনিবার রাত ২.৪৫ মিনিটে স্মৃতিতে ঝাঁকুনি লাগল। মনে করিয়ে দিল প্রায় একদশক আগের নন্দরাম বাজারের অগ্নিকান্ড। ক্যানিং স্ট্রিটে অবস্থিত বাগরি বাজারে আগুন লাগার ঘটনার ১২ ঘণ্টা পর কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে কেউটে বেরিয়ে পড়তে পারে বলে মনে হচ্ছে। এই অগ্নিকান্ড পরিস্কার অন্তর্ঘাতের দিকে ইঙ্গিত করছে।

আমার প্রথম প্রশ্ন- বাগরি বাজারে সর্বসমেত ১০০০-১১০০ ছোটো-বড় দোকান আছে। আছে মাল মজুত করার  জন্য গোডাউন। আছে আগুনের সঙ্গে যুদ্ধ করার সাজ সরঞ্জামের ব্যবস্থা। কিছুদিন আগে প্রতিটি দোকানদার মাথাপিছু ২০০০০ টাকা পুঁজি একাট্টা করে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ করেছিল। কিন্তু আগুন লাগার পর এই ব্যবস্থা কার্যত কোনও কাজেই লাগেনি! প্রয়োজনের সময় জলাধার শুকনো খটখট করছিল।ফলত,জলের অভাবে আগুনের লেলিহান শিখা সমগ্র বাজারটিকে গ্রাস করে ফেলল। আগুন নেভানোর ব্যবস্থা ছিল কিন্তু জল নেই। যন্ত্র চালানোর জন্য লোক নিযুক্ত আছে কিন্তু দরকারে তার ‘টিকি’ নেই। স্বাভাবিক, আগুনের শিখার সঙ্গে সন্দেহের শিখা তো উঠবেই।

দ্বিতীয় প্রশ্ন- বাগরি বাজারে সব দোকানদার সাব মিটার ব্যবহার করেন। কারন, মুল বিদ্যুৎ মিটার বাজার মালিকের নামে। একজন বিদ্যুৎ তত্ত্বাবধায়ক প্রতিদিন নিয়ম করে সকাল ১০টায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেয় এবং রাত ১০টার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে। তাহলে রাত ২টো ৩৫ মিনিটে শর্ট সার্কিটের কারনে আগুন লাগল কিভাবে? তাই,শর্ট সার্কিটের কারনে আগুন লাগার যে যুক্তি খাড়া করার চেষ্টা হচ্ছে তা আদপে ধোপে টেকে না। এই অগ্নিকান্ড সম্পুর্ন পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।

তৃতীয় প্রশ্ন- বর্তমানে বাগরি বাজারের মালিকানা চার শরিকে বিভক্ত। প্রত্যেক শরিকের মধ্যে ভাড়ার টাকার ভাগ নিয়ে বিবাদ রয়েছে।মামলা চলছে এবং মামলা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। তাই শরিকি ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। মালিক, সমাজবিরোধী ও আধিকারিকদের গোটবন্ধনে আগুন লাগিয়ে উৎখাত করে,পরে ইমারত তৈরি হয়েছে এমন নিদর্শন এই বাংলায় অনেক আছে।

চতুর্থ প্রশ্ন-  আগুন লাগার ঘটনায় বাজার ব্যবসায়ীরা রাজ্য সরকারের কাছে তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কমিশন গঠন করে লাভ কি? আগুন লাগার পর যে তৎপরতায় আগুন নেভানোর কাজে নামা উচিৎ ছিল তা তো হয়নি। মন্ত্রী, আধিকারিকরা এসে বিবৃতি দিয়ে অনেক অসুবিধার কথা শুনিয়েছেন।বৈদ্যুতিক তারের মাকড়সার জাল, জলের অভাব, ঘিঞ্জি এলাক ইত্যাদি। পাল্টা প্রশ্ন, রাজ্য সরকারের বাজার পরিদর্শকরা কি এসব সমস্যার কথা জানত না? পালা পার্বণে উৎকোচের খাম নিতে গিয়েও কি নজরে পড়ে নি, না দেখেও দেখে নি ?

রাজ্য সরকারের মাথাভারি ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিমের অকুস্থলে পৌছতে ও কাজে হাত লাগাতে এত সময় লাগল কেন? এসব প্রশ্ন তো আসবেই। দমকল বাহিনী সবসময় তাদের কাজ নিতি ও আদর্শের ওপর দাঁড়িয়ে করে। আমি সব সময় কুর্নিস করি। ওরা সিমিত সামর্থ নিয়ে বরাবর জান কবুল করে আগুনের সঙ্গে লড়াই করে। সব সরকারের আমলেই করে।তাই এই সরকারের বিশেষ কোনও কৃতিত্ব নেই।

তাও ভালো যে এবার অকুস্থলে পৌঁছে দমকল মন্ত্রীকে অন্তত বিবৃতি দিতে দেখা গেছে। পার্ক স্ট্রিটে আগুন লাগার সময় তো মেয়র কে খুঁজেই পাওয়া যায় নি। সুত্রের খবর অনুসারে তিনি ঐ মুহূর্তে জনতার সামনে আসার মতো অবস্থায় ছিলেন না। মুখ্যমন্ত্রী যে দমকল মন্ত্রীকে ইয়ার্কি মেরে সুইমিং পুলে ফেলে দেন সেই মন্ত্রীর বাহিনী আগুন নেভাতে জল পায় না। বাংলার মানুষের এর থেকে দুর্ভাগ্য আর কি আছে!!

পুজোর আগে ব্যবসায়ীদের কয়েকশো কোটি টাকার লোকসানে মাথায় হাত। অকুস্থলে ব্যবসায়ীদের পাশে দমকল মন্ত্রী ও কয়েকজন পুলিস আধিকারিক ছাড়া কেউকে দেখা যায়নি। মুখ্যমন্ত্রী ইটালি, জার্মানি যাচ্ছেন। সে যেতেই পারেন, তাবলে মন্ত্রীসভার কয়েকজন শীর্ষ কর্তা কেন অকুস্থলে আসবেন না?

আসলে মন্ত্রীসভার শীর্ষ কর্তারা জানেন, তাদের অঙ্গিকার করার কোনও অধিকার নেই। অনুদানের প্রসাদ বিতরনের অধিকার শুধুমাত্র একজনের। তাই অপেক্ষা করো। মা কয়েকদিন পর মর্তে আসবেন,আমরা আশীর্বাদ অপেক্ষায় আছি। দিদি কয়েকদিন পর ইটালি, জার্মানি থেকে ফিরবেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা অপেক্ষায় থাক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *